মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে পেন্টাগন ইরানে সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে খার্গ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোতে অভিযানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শনিবার (২৯ মার্চ) ওয়াশিংটন পোস্ট এসব তথ্য জানায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, এই পরিকল্পনাগুলোতে বিশেষ অভিযান ও প্রচলিত পদাতিক বাহিনীর অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনাগুলোর কোনোটিতে অনুমোদন দেবেন কি-না তা এখনও অনিশ্চিত।
পোস্ট আরও জানায়, যেকোনো স্থল অভিযান পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের পর্যায়ে যাবে না।
পোস্ট জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বৃহত্তম তেল ডিপো যেখানে অবস্থিত, সেই খার্গ দ্বীপ দখল এবং হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালানোর বিষয়ে আলোচনা করছে। গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান কার্যকরভাবে প্রণালীটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এমন ‘অস্ত্র খুঁজে বের করে ধ্বংস করা’।
একজন বলেছেন, আলোচ্য উদ্দেশ্যগুলো সম্পন্ন করতে সম্ভবত ‘কয়েক সপ্তাহ নয়, কয়েক মাস’ সময় লাগবে। আরেকজন বলেছেন, সম্ভাব্য সময়সীমা ‘কয়েক মাস’ লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা পোস্টকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। এর জন্য মহড়াও দেওয়া হয়েছে। এটা শেষ মুহূর্তের কোনো পরিকল্পনা নয়’।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন যে, ইরানের ভূখণ্ড দখল করা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থাকে ‘লজ্জায় ফেলবে’ এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় ‘মূল্যবান দর কষাকষির হাতিয়ার’ তৈরি করবে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভূখণ্ড দখলে থাকা যুক্তরাষ্ট্র বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, ‘আপনাকে খার্গ দ্বীপের লোকজনকে সুরক্ষা দিতে হবে। এটাই কঠিন কাজ। দ্বীপটি দখল করা কঠিন নয়। একবার সেখানে পৌঁছানোর পর আপনার লোকজনকে রক্ষা করাই আসল কঠিন কাজ।’
তবে ‘এটা শেষ মুহূর্তের পরিকল্পনা নয়’, বলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপ দখল করতে পারে বলে জল্পনা চলছে, যেখান থেকে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ আসে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় দ্বীপটি লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল এবং ট্রাম্প এটিকে তেহরানের ‘মুকুটমণি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
ট্রাম্প উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে বারবার সতর্ক করেছেন ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর ইরান আক্রমণের মাধ্যমে শুরু হওয়া অভিযান ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘গুটিয়ে আনার’ ইঙ্গিত দিলেও হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট গত ২৪ মার্চ বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার কোনো চুক্তি মেনে না নিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তেহরানের বিরুদ্ধে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করতে প্রস্তুত।
লেভিট এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘যদি ইরান বর্তমান বাস্তবতা মেনে নিতে ব্যর্থ হয়, যদি তারা বুঝতে না পারে যে তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করবেন যে তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও কঠিন আঘাত পাবে’।
‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ধাপ্পাবাজি করেন না, এবং তিনি ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে প্রস্তুত। ইরানের আর ভুল হিসাব করা উচিত নয়’, বলেন লেভিট।
পোস্টের প্রতিবেদনের জবাবে তিনি বলেন, ‘সর্বাধিনায়ককে সর্বোচ্চ বিকল্পের সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা পেন্টাগনের কাজ’।
‘এর মানে এই নয় যে, প্রেসিডেন্ট কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন’, তিনি বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত ২৭ মার্চ বলেছেন, ওয়াশিংটন ‘স্থলসেনা ছাড়াই আমাদের সব লক্ষ্য অর্জন করতে পারে’।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির কথা বারবার দাবি করেছেন। যদিও তেহরান কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।
গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে যে, তিন হাজার ৫০০ মেরিন ও নাবিক মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন, যা এই অঞ্চলে দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্থলসেনা মোতায়েন।
ইরানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের সম্ভাব্য জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলিতে করে এসে পৌঁছেছেন। সূত্র: এনডিটিভি
U.S. Sailors and Marines aboard USS Tripoli (LHA 7) arrived in the U.S. Central Command area of responsibility, March 27. The America-class amphibious assault ship serves as the flagship for the Tripoli Amphibious Ready Group / 31st Marine Expeditionary Unit composed of about… pic.twitter.com/JFWiPBbkd2
— U.S. Central Command (@CENTCOM) March 28, 2026
অমিয়/