তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ, দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির নাগালের বাইরে থাকা দুটি রাজ্যে আজ (২৩ এপ্রিল) প্রথম দফার ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের দিকেই সবার নজর বেশি। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক ঝড়ের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির জন্য এটি এক মরিয়া লড়াই।
২০১১ সালে ৩৫ বছরের সিপিএম শাসনের পতন ঘটানোর পর থেকে টানা তিন বার ক্ষমতায় থাকার পর অনেকেই বলছেন, এবারের নির্বাচনই মমতা ব্যানার্জীর জন্য সবচেয়ে কঠিন হতে পারে। যদিও, ২০২১ সালেও একই তকমা দেওয়া হয়েছিল, যখন ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসন পেয়েছিল- যা ছিল তাদের সেরা সাফল্য। বিজেপি জিতেছিল ৭৭টি আসন।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাকে জর্জরিত করে রাখা দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার সমস্যা এবং উন্নয়নের অভাবের মতো বিষয়গুলো অবিরাম তুলে ধরে বিজেপি তৃণমূলের প্রাথমিক সুবিধাকে ধীরে ধীরে খর্ব করে চলেছে।
তৃণমূল এই সংগ্রামকে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে খাদ্য থেকে সংস্কৃতি পর্যন্ত আত্মনিয়ন্ত্রণের এবং রাজ্য তহবিল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানো কেন্দ্রের বিরুদ্ধে টিকে থাকার লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছে।
শাসক দলকে যে বিষয়টি উদ্বিগ্ন করেছে তা হলো, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)। এর ফলে প্রায় ৮৯ লাখ ভোটার, যা রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বাদ পড়েছেন। এই সংখ্যাটি ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের ব্যবধানের চেয়ে সামান্য বেশি।
২০২১ সালে মমতা ব্যানার্জীর দল ১০ শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছিল। ভারতীয় জনতা দল বিজেপির ৩৮ শতাংশের বিপরীতে ৪৮ শতাংশ পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসআইআর-এর প্রভাবে এমন একাধিক জেলায় ভোটার তালিকা ১১ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি কমে গেছে, যেখানে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান সামান্য।
আরও পড়ুন>> কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী
প্রথম পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী হেভিওয়েট তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শিলিগুড়ি থেকে গৌতম দেব, দিনহাটা থেকে উদয়ন গুহ, কলকাতা বন্দর এলাকা থেকে ফিরহাদ হাকিম এবং নন্দীগ্রাম থেকে পবিত্র কর।
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী তার শক্ত ঘাঁটি নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি ভবানীপুরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন, যেখানে দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হবে।
বিজেপির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মুখদের মধ্যে মাথাভাঙ্গা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রমাণিক এবং খড়গপুর সদর থেকে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন ২ দশমিক ৪ লাখের বেশি কর্মী সম্বলিত অভূতপূর্ব ২ হাজার ৪০৭টি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কোম্পানি মোতায়েন করে রাজ্যটিকে একটি দুর্গে পরিণত করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা হবে ৪ মে।
অমিয়/