ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও থানায় বিক্ষোভ অগ্ন্যুৎপাতে বইছে আগুনের স্রোত, ভাইরাল ভিডিও স্নায়ুচাপ কাটিয়ে জয়ে চোখ মেক্সিকো কোচের গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা বিধিনিষেধ আরোপ সময়ের দাবি রাঙামাটির বরকল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে রসুন ও সার জব্দ নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি মেসিকে ছাড়িয়ে গেলেন হ্যারি কেইন রিজার্ভ চুরিতে জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশের ১০ জন কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য এনডিএর আর ৬ ভোট লাগবে টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর , ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিশু নিহত চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার টিভিতে আজকের খেলা দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ‘মুখ বন্ধ রাখতে’ বললেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ যেভাবে নির্ধারিত হবে সেরা ৮ ‘তৃতীয় দল’ কুড়িগ্রামে ট্রাক উল্টে রেলপথে, ভোগান্তিতে ট্রেনের যাত্রীরা বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে দর্শকদের দুয়োধ্বনি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৮ হাজার ৬৩৯ জন বাংলাদেশি জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমিই বস’ লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা আদিতমারীতে শিশু নন্দিনী হত্যার দায় স্বীকার পাওনা টাকার বিরোধেই খুন হন আরিফ আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম ইরানের সঙ্গে চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু
Nagad desktop

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ‘শক্তিশালী’ প্রতিরক্ষা চুক্তি

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪০ এএম
রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ‘শক্তিশালী’ প্রতিরক্ষা চুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হয়েছে। এর ফলে দুই দেশ একে অপরের সামরিক ঘাঁটি ও ভূখণ্ডে সৈন্য, যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে পারবে। দীর্ঘদিনের এই দুই মিত্রের মধ্যে এটি এখন পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক সমঝোতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন এই চুক্তির নাম ‘রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অব লজিস্টিক সাপোর্ট (রেলোস)’। প্রায় আট বছর ধরে আলোচনার পর গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এটি মস্কোতে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ১৫ ডিসেম্বর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এটি অনুমোদন করেন এবং ১২ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হয়। তবে রুশ কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহে এর বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন।

রেলোস চুক্তিতে যা আছে

সেনা ও সরঞ্জাম: উভয় দেশ একে অপরের মাটিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার সেনা, ৫টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১০টি সামরিক বিমান মোতায়েন করতে পারবে।

অবকাঠামো ব্যবহার: শান্তিকালীন বা যুদ্ধকালীন উভয় সময়েই একে অপরের বন্দর, বিমানঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করা যাবে।

লজিস্টিক সেবা: এর আওতায় জ্বালানি নেওয়া, সরঞ্জাম মেরামত, খাবার ও পানি সরবরাহ এবং কারিগরি সহায়তা পাওয়া যাবে।

চুক্তিটি আপাতত ৫ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে, যা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো সম্ভব। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ এবং মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় একে অপরকে সাহায্য করবে।

রাশিয়ার জন্য এই চুক্তির সুবিধা

আল-জাজিরার বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়, শীতল যুদ্ধের সময় থেকেই রাশিয়া ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। ১৯৬০-এর দশক থেকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে। এতে পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে।

নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়া ভারত মহাসাগরে প্রবেশের একটি বড় সুযোগ পেয়েছে। একইভাবে ভারতও রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চল ও দূরপ্রাচ্যের ভ্লাদিভস্তক থেকে মুরমানস্ক পর্যন্ত সামুদ্রিক রুট ব্যবহারের সুযোগ পাবে, যা বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।

মস্কোর রুশ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কাউন্সিলের গবেষক আন্দ্রেই কোর্টুনভ বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর করে। এটি দুই দেশকে একে অপরের সামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ দেয় এবং সীমিত সামরিক উপস্থিতিরও সুযোগ দেয়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে রাশিয়ার ভারত মহাসাগরে কোনো সামরিক ঘাঁটি নেই। এই চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়া সেখানে কৌশলগত উপস্থিতি তৈরি করতে পারবে। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অমিতাভ সিং বলেন, ‘রাশিয়ার জন্য এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধজোট নয়, বরং নিষেধাজ্ঞার সময়ে সামরিক গতিশীলতা বজায় রাখার একটি ব্যবস্থা।’ তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়া তার নৌবাহিনী ও বিমানকে দীর্ঘ সময় ভারত মহাসাগরে মোতায়েন রাখতে পারবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে সক্রিয় থাকতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, এটি রাশিয়াকে এশিয়ায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্বের বার্তা দেওয়ার একটি মাধ্যম।

ভারতের প্রাপ্তি ও চীনের প্রভাব

ভারতের সাবেক রাশিয়াবিষয়ক রাষ্ট্রদূত অজয় মালহোত্রা বলেন, এই চুক্তি শুধু অস্ত্র কেনাবেচার সম্পর্ক নয়, বরং এটি অপারেশনাল সহযোগিতার একটি নতুন ধাপ। এটি দুই দেশের মধ্যে বাস্তব সামরিক সমন্বয় বা ইন্টারঅপারেবিলিটি বাড়াবে, যা আগে ছিল না। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত রাশিয়ার আর্কটিক ও দূরপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত ঘাঁটিতে প্রবেশাধিকার পাবে। তিনি আরও বলেন, এটি ভারতের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য সম্পর্কের ধারাবাহিকতা এবং স্থিতিশীলতার বার্তা দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি ভারতকে পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত লজিস্টিক নেটওয়ার্কের বাইরে বিকল্প পথ দেয় এবং এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে।

অধ্যাপক অমিতাভ সিংয়ের মতে, ভারত এখন প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আর্কটিক পর্যন্ত একটি বড় কৌশলগত পরিসরে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে, যা চীনের উপস্থিতির ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক প্রবীণ ডোনথি বলেন, ‘এটি ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আর্কটিক অঞ্চলে ভারতের অবস্থান বাড়াবে।’

এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত রাশিয়ার পূর্ব এবং আর্কটিক অঞ্চলের বন্দরগুলো ব্যবহারের সুযোগ পাবে। ভ্লাদিভস্তক থেকে মুরমানস্ক পর্যন্ত এই রুটটি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য মোকাবিলায় এটি ভারতকে বাড়তি সুবিধা দেবে। সাবেক রাষ্ট্রদূত অজয় মালহোত্রা আল-জাজিরাকে জানান, এর ফলে ভারত পশ্চিমা নিয়ন্ত্রণাধীন লজিস্টিক নেটওয়ার্কের বাইরেও একটি বিকল্প শক্তি পাবে।

আমেরিকার প্রভাব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার এই ঘনিষ্ঠতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্পের আমদানি শুল্কনীতি এবং রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের ওপর চাপ থাকা সত্ত্বেও নয়াদিল্লি এই পথে হেঁটেছে।

আমেরিকার সঙ্গেও ভারতের ‘লেমোয়া’ নামক একটি লজিস্টিক চুক্তি রয়েছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে এই নতুন চুক্তিটি আরও বেশি গভীর, কারণ এতে সেনা মোতায়েনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

আল-জাজিরার বিশ্লেষক আন্দ্রে কর্টুনভের মতে, এটি ওয়াশিংটনের প্রতি একটি বার্তা যে, ভারতকে যেন কেউ সস্তা বা ‘টেকেন ফর গ্রান্টেড’ মনে না করে। ভারত মূলত তার ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বজায় রাখতে চায় এবং ওয়াশিংটন ও মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ককে কোনো ‘জিরো-সাম গেম’ হিসেবে দেখে না। সূত্র: আল-জাজিরা

কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
মো. ইস্তিনাব মাহী। ছবি: সংগৃহীত

কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইস্তিনাব মাহী (২৩) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাত ১টা ৩২ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাহির বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় অবস্থান করছিলেন।

নিহত মাহি চট্টগ্রামের মো. মহিব উল্লাহ ও পারভিন আক্তার দম্পতির সন্তান। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং ২০২১ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ড-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় পুলিশ সংস্থা রয়্যাল নিউফাউন্ডল্যান্ড কনস্ট্যাবুলারি (আরএনসি) জানায়, চার আরোহী নিয়ে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে সড়কের পাশের কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত চারজনকে হাসপাতালে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহীকে মৃত ঘোষণা করেন। গাড়িতে থাকা অন্য তিন আরোহী আহত হলেও তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মাহীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কমিউনিটি নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্তরা/

সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য এনডিএর আর ৬ ভোট লাগবে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য এনডিএর আর ৬ ভোট লাগবে
ছবি: সংগৃহীত

গত দুই সপ্তাহে ভারতের রাজনীতিতে একটি নতুন মোড় এসেছে, যা দেশটিকে এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক পথের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বড় রাজনৈতিক উত্থান এবং মহারাষ্ট্রে ক্রমশ দানা বাঁধতে থাকা আরেকটি রাজনৈতিক পরিবর্তন।

এপ্রিলে নারী সংরক্ষণ প্যাকেজের অংশ হিসেবে সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত একটি সংবিধান সংশোধনী বিল বিরোধী দলগুলোর চাপে আটকে গিয়েছিল। লোকসভায় ৫৪ ভোটের ব্যবধানে বিলটি পাস হতে ব্যর্থ হয়। তবে বিলটি পুনরায় উত্থাপন করা হলে তা এবার পাস হয়ে যেতে পারে।

৪ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জন দলত্যাগ করে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে নিজেদের একীভূত করেছেন। এই বিদ্রোহী সাংসদদের অন্তর্ভুক্তি দলটিকে সংসদে সরাসরি উপস্থিতি দেবে এবং এনডিএর জন্য একটি শক্তিশালী মিত্রে পরিণত করবে।

মহারাষ্ট্রেও উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) একই ধরনের সংকটে রয়েছে। দলটির ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ছয়জন দলত্যাগের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন এবং তারা একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় যোগ দিতে পারেন।

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হবে এনডিএ, যারা বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য এটি অপরিহার্য।

লোকসভার ৫৪৩টি আসনের দুই-তৃতীয়াংশ হলো ৩৬২টি আসন। তবে বর্তমানে তিনটি আসন শূন্য থাকায় কার্যত প্রয়োজনীয় সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬০।

বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের বিচ্ছিন্ন অংশসহ এনডিএর লোকসভায় ৩১৮ জন সাংসদ রয়েছে। বিরোধী শিবিরের সাংসদ সংখ্যা ১৮৪ এবং নির্দলীয় রয়েছেন ৩৮ জন। ফলে সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য সরকারের আরও ৪২ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন হবে। তবে সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, বিল পাসের ক্ষেত্রে ‘উপস্থিত ও ভোটদানকারী’ সদস্যদের সংখ্যাই চূড়ান্তভাবে বিবেচিত হয়।

দলীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে বিজেপি ভারত জোটের অন্যান্য ছোট দলগুলোর দিকে নজর রাখছে। বিজেপির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, দলটি ভারত জোটভুক্ত কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে, যার মধ্যে মহারাষ্ট্রভিত্তিক একটি দলও রয়েছে।

রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৬৪ জন সদস্যের সমর্থন। যদিও রাজ্যসভার সর্বোচ্চ অনুমোদিত সদস্যসংখ্যা ২৫০, বর্তমানে সদস্য রয়েছেন ২৪৫ জন।

রাজ্যসভায় এনডিএর সদস্যসংখ্যা ১৫০। ডিএমকের আটজন সদস্যের সমর্থন পেলে এই সংখ্যা বেড়ে ১৫৮-তে পৌঁছাবে, তখন প্রয়োজন হবে মাত্র আরও ছয়জন সদস্যের সমর্থন। তৃণমূল কংগ্রেসের তিনজন সদস্যের পদত্যাগের পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচন এবং কয়েকটি ছোট দলের সমর্থন পেলে এনডিএ সেই কাঙ্ক্ষিত সংখ্যায় পৌঁছাতে সক্ষম হতে পারে।

একবার সেই লক্ষ্য অর্জিত হলে নারী সংরক্ষণ ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত বিলটি আবার সংসদে উত্থাপিত হতে পারে। এমনকি আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া বর্ষাকালীন অধিবেশনেই এ উদ্যোগ দেখা যেতে পারে।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমিই বস’

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:০৫ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৩২ এএম
জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমিই বস’
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জি৭ সম্মেলনে ইউক্রেনকে সমর্থন জানিয়ে বিশ্বনেতাদের বলেছেন, ‘আমিই বস’।

বুধবার (১৭ জুন) ট্রাম্প এবং জি৭ এর অন্যান্য নেতারা ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের উন্নতির বিষয়টি স্বীকার করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতি দেন।

১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ রিসোর্টে অনুষ্ঠিত জি৭ এর শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি মস্কোর সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় কিয়েভের ক্রমবর্ধমান দর কষাকষির ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পকে বলেন, ইউক্রেনের পাল্টা লড়াই ফলপ্রসূ হচ্ছে এবং কোনো শান্তিচুক্তির শর্ত নির্ধারণ করার মতো অবস্থানে রাশিয়া নেই।

ট্রাম্প বলেন, এ যুদ্ধে ইউক্রেনের চেয়ে রাশিয়া বেশি সৈন্য হারাচ্ছে এবং মস্কো এই সংঘাতের ‘আক্রমণাত্মক’ পক্ষ।

২০২৫ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলন ইউক্রেন বিষয়ে কোনো যৌথ অবস্থান ছাড়াই শেষ হয়েছিল। এবার ভার্সাই প্রাসাদে এক জমকালো নৈশভোজের আগে ম্যাক্রোঁ ও ট্রাম্প উভয়েই জি৭ শীর্ষ সম্মেলনকে সফল বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক একটি অধিবেশনে নিজের আসনে বসতে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, জি৭ প্রধান ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি ‘আমিই বস’ মন্তব্যটি করেন।

থিওটোনিয়াস/

ইরানের সঙ্গে চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:০৩ এএম
ইরানের সঙ্গে চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ১৪ দফার এই নথি পড়ে শোনান।

আগামীকাল (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এর আগেই বুধবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে চুক্তির খসড়া প্রকাশ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, গত রবিবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটালভাবে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন।

জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া একাধিক কূটনৈতিক সূত্র এই খসড়া দলিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

চূড়ান্ত চুক্তি ও খসড়ার মূল পার্থক্য সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া খসড়াটির সঙ্গে চূড়ান্ত নথির দুটি প্রধান জায়গায় অমিল রয়েছে। এগুলো হলো-

১) ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয়করণ: ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিষ্ক্রিয় করতে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার তত্ত্বাবধানে একটি 'ন্যূনতম পদ্ধতি' যুক্ত করা হয়েছে, যা আগের খসড়ায় ছিল না।

২) হরমুজ প্রণালী: চূড়ান্ত চুক্তিতে উল্লেখ আছে যে, ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য কোনো প্রকার শুল্ক বা চার্জ ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে।

সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ ১৪ দফা:

১. যুদ্ধ অবসান: ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং এই যুদ্ধে জড়িত তাদের মিত্র দেশগুলো এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের ঘোষণা দিচ্ছে। এখন থেকে কোনো পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো বৈরী পদক্ষেপ নেবে না এবং বলপ্রয়োগ বা হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।

২. সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা: দুই দেশই একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।

৩. চূড়ান্ত আলোচনার সময়সীমা: উভয় পক্ষ আগামী সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনে আলোচনার এই সময়সীমা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে।

৪. নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার: চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং যেকোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকবে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলের আশেপাশের এলাকা থেকে তার সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেবে।

৫. হরমুজ প্রণালী উন্মুক্তকরণ: চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরান পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর এবং বিপরীতমুখী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবে। ইরান এই রুটের সব কারিগরি ত্রুটি ও মাইন অপসারণ করবে।

৬. ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক তহবিল: ইরান পুনর্গঠন এবং দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র তার আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে একটি ব্যাপক পরিকল্পনা তৈরি করবে, যেখানে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) মার্কিন ডলারের অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে।

৭. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ইরানের ওপর থাকা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক) একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

৮. পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরান পুনর্ব্যক্ত করছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। ইরানের সমৃদ্ধকৃত পরমাণু সামগ্রীর ভবিষ্যৎ এবং পরমাণু সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়গুলো চূড়ান্ত চুক্তিতে বিস্তারিতভাবে সমাধান করা হবে।

৯. স্থিতাবস্থা বজায় রাখা: চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষ বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখবে। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বর্তমান স্তরেই স্থির রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা এই অঞ্চলে নতুন করে সেনা বাড়াবে না।

১০. তেল রপ্তানিতে ছাড়: এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ উঠে যাওয়ার দিন পর্যন্ত মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং এর উপজাত সামগ্রী রপ্তানির জন্য বিশেষ ছাড় দেবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহন সেবার মতো খাতগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

১১. ফ্রিজ হওয়া অর্থ মুক্তি: চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে ইরানের আটকে থাকা বা ফ্রিজ হওয়া সমস্ত তহবিল ও সম্পত্তি অবমুক্ত করা হবে। এই অর্থ সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরান (ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক) তাদের নির্ধারিত যেকোনো সুবিধাভোগীর পেমেন্টের জন্য সম্পূর্ণ ব্যবহার করতে পারবে এবং যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি বা লাইসেন্স দেবে।

১২. তদারকি কমিটি: চূড়ান্ত চুক্তির সফল বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে একটি যৌথ বাস্তবায়ন ও তদারকি ব্যবস্থা বা মেকানিজম গঠন করা হবে।

১৩. পরবর্তী আলোচনা: এই সমঝোতা স্মারকের ৪, ৫, ১০ এবং ১১ নম্বর ধারাগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পর, উভয় দেশ বাকি ধারাগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য মূল আলোচনায় প্রবেশ করবে।

১৪. জাতিসংঘের অনুমোদন: চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাব বা রেজোলিউশনের মাধ্যমে অনুমোদিত ও বৈধ হতে হবে।

পর্দার আড়ালের রাজনীতি যদিও এই চুক্তিকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবুও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা একে একটি ‘রাজনৈতিক দলিল’ হিসেবে বর্ণনা করে এর তাৎপর্য কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন।

তাদের মতে, এই খসড়ায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্দার আড়ালে হওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই। অন্যদিকে, ইরানের আধাসরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম এই ফাঁসের ঘটনা এবং খসড়ার কিছু অংশকে 'ত্রুটিপূর্ণ ও নির্ভুল নয়' বলে দাবি করেছে। সূত্র: সিএনএন

তামান্না রুপা/অমিয়/

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্য নিয়ে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রস্তুত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন এই খসড়া চুক্তির একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছে।

ফ্রান্সে চলমান জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া একজন কূটনীতিক এবং আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আরও দুটি কূটনৈতিক সূত্র এই খসড়া দলিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই খসড়াটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকের প্রকৃত রূপ নয়। অন্যদিকে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এই ফাঁসের ঘটনাকে ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

এই খসড়া চুক্তি অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত নথিতে স্বাক্ষর করবেন। তার আগে গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটালভাবে এই খসড়া চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এই স্মারককে একটি ‘রাজনৈতিক দলিল’ হিসেবে অভিহিত করে এর গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্দার আড়ালে যে মূল প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা এই নথিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

খসড়া চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে দুই দেশ এবং তাদের মিত্রদের মধ্যকার যুদ্ধ অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে শেষ হবে। দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে।

চুক্তির আওতায় স্বাক্ষর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান মাইন অপসারণসহ সব প্রযুক্তিগত বাধা দূর করবে। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চল থেকে তার সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। এ ছাড়া ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল নিশ্চিত করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের ওপর থাকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ে ইরান যাতে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানি করতে পারে, সে জন্য মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র বা ওয়েভার ইস্যু করবে। একই সঙ্গে ইরানের ফ্রিজ বা আটকে থাকা সব তহবিল ও সম্পদ অবমুক্ত করা হবে এবং ইরানের সেন্ট্রাল ব্যাংক তা ব্যবহার করতে পারবে।

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে ইরানের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এই খসড়ায় সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশই বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে। অর্থাৎ ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বাড়াবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা ওই অঞ্চলে সেনা বাড়াবে না। এই ঐতিহাসিক চুক্তি বাস্তবায়নের পর পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করার জন্য একটি যৌথ বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হবে। আগামীকাল এই স্মারক স্বাক্ষরের পর চূড়ান্ত চুক্তি নির্ধারণের জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে।

 সূত্র: সিএনএন