ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পক্ষ থেকে আবারও মায়ানমারের কারাবন্দি নেতা অং সান সু চি ও অন্য রাজনৈতিক বন্দিদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।
নেপিডোর কারাগার থেকে সু চিকে অজ্ঞাত একটি স্থানে গৃহবন্দি করে স্থানান্তরের পর এই দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে আটক থাকা সু চির ২২ বছরের সাজা সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে এক-ষষ্ঠাংশ কমিয়ে ১৮ বছরে নামানো হয়েছে। ৩০ এপ্রিল ঘোষিত এই সাধারণ ক্ষমায় ১ হাজার ৫১৯ জন বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক মহল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গৃহবন্দি রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়।
১ মে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ‘আমরা তার অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি অব্যাহত রাখছি।’ একই সঙ্গে তারা সামরিক সরকারকে আহ্বান জানায়, সু চির স্বাস্থ্যের অবনতির খবর বিবেচনায় নিয়ে যেন তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করে সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে বাংলাদেশে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির এবং ভাসানচর দ্বীপে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ১ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।
২৯ এপ্রিল ঢাকায় জাপানের কৃষিমন্ত্রী ও বিশেষ দূত সুজুকি নোরিকাজু এবং বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠকের পর এই ঘোষণা আসে।
বৈঠকে তারেক রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে মায়ানমারে প্রত্যাবাসন অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এ সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা দরকার।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ৯টি মানবাধিকার সংস্থা মার্চ মাসে বাংলাদেশকে একটি যৌথ চিঠি দিয়ে রোহিঙ্গাদের মানবিক পরিস্থিতির অবনতি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়।
বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস করছে, যার মধ্যে ২০১৭ সালে মায়ানমারে সামরিক অভিযানের পর ৭ লাখের বেশি মানুষ পালিয়ে আসে। সূত্র: ডিভিবি