যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। বুধবার (২০ মে) এ হুঁশিয়ারি জানায় দেশটি। এমন একটি সময় এ সতর্কতা এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি কয়েক দিন আগে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন।
‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সাময়িকভাবে বন্ধ করে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ অবসানের আলোচনা এখনো কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। ইরান এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের মতে, এতে এমন শর্তই পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যেগুলো ট্রাম্প আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ফেরত এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি।
গত সোমবার ও পরদিন মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, তিনি নতুন করে বোমা হামলার নির্দেশ দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে কূটনীতিকে আরও সময় দেওয়ার জন্য শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
নতুন করে হামলা করা হলে জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে আঘাত হানার হুমকি আগেও দিয়েছে ইরান। বুধবার তারা ইঙ্গিত দেয়, এবার আঞ্চলিক সীমার বাইরেও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হতে পারে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন আবার হলে প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধ এবার অঞ্চল ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হবে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইরান নিজেদের জাহাজ ছাড়া প্রায় সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। জবাবে গত মাসে ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী দুটি বিশাল চীনা ট্যাংকার প্রণালি অতিক্রম করেছে। এটিকে অনেকেই ইরানের অবরোধ নীতিতে শিথিলতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, চীনা জাহাজ চলাচলের নিয়ম সহজ করতে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আজ জানান, একটি কোরীয় তেলবাহী জাহাজ ইরানের সহযোগিতায় প্রণালি অতিক্রম করছে। শিপিং পর্যবেক্ষণ সংস্থা লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, গত সপ্তাহে অন্তত ৫৪টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের প্রায় দ্বিগুণ। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, তার তুলনায় এটি এখনো অনেক কম।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে তার বক্তব্যে কখনো নতুন হামলার হুমকি, আবার কখনো শান্তিচুক্তি খুব কাছাকাছি এমন পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দেখা গেছে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হয়ে যাবে। একই দিনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এখন বেশ ভালো অবস্থানে আছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের এই ওঠানামার কারণে তেলের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের এক মাস মেয়াদি ফিউচারের দাম প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের নিচে নামে। তবে এটি এখনো আগের সপ্তাহের তুলনায় অনেক বেশি। সূত্র: রয়টার্স