যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এবারও ঈদুল আজহার আনন্দ ম্লান। সীমান্ত বন্ধ, গবাদিপশুর সংকট, চরম মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে অনেক পরিবার কোরবানি দিতে পারছে না। তবুও ধ্বংসস্তূপ, শরণার্থী শিবির ও তাঁবুর ভেতর ঈদের আশাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন ফিলিস্তিনিরা।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় কোরবানির পশু প্রায় উধাও হয়ে গেছে। যুদ্ধের আগে যেখানে বিভিন্ন দাতব্যসংস্থা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর শত শত পশু কোরবানি করত, সেখানে এবার অনেক সংস্থাই কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
রু’য়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের কোরবানি প্রকল্পের সমন্বয়ক করম খালেদ বলেন, সীমান্ত বন্ধ এবং গবাদিপশুর ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের আগে একটি ভেড়ার দাম ছিল প্রায় ৩৫০ ডলার, যা এখন বেড়ে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার ডলারে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষেও এখন কোরবানি দেওয়া প্রায় অসম্ভব।
পরিস্থিতির কারণে অনেক সংস্থা বিকল্প হিসেবে হিমায়িত মাংস বিতরণ শুরু করেছে। রু’য়া ফাউন্ডেশন ঈদ উপলক্ষে প্রায় ১০ টন হিমায়িত মাংস বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে অন্তত কিছু পরিবার ঈদের সময় মাংসের স্বাদ পায়।
মাংস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আল-নাজ্জার জানান, গাজার বাজারে থাকা অধিকাংশ হিমায়িত মাংস আসে ইসরায়েলের মাধ্যমে, যার বেশিরভাগই আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে থেকে আমদানি করা। কিছু মাংস মিশর থেকেও আসে।
তিনি বলেন, জীবন্ত পশুর বাজার প্রায় নেই বললেই চলে। ভেড়ার মাংসের দাম এত বেশি যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে তা কেনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ঈদের বাজারেও আগের মতো ভিড় নেই। গাজার প্রধান সড়কগুলোতে পোশাক, খেলনা ও মিষ্টির দোকান সাজানো থাকলেও ক্রেতা খুব কম। ব্যাপক বেকারত্ব ও নগদ অর্থের সংকটে মানুষ এখন শুধু প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনাতেই সীমাবদ্ধ।
রেমাল এলাকার পোশাক ব্যবসায়ী আমজাদ আকরাম বলেন, যুদ্ধের কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আগে যেখানে এক বাক্স কাপড় আনতে ২৫০ শেকেল খরচ হতো, এখন তা বেড়ে প্রায় ২ হাজার শেকেলে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, মানুষ দোকানে এসে শুধু দাম জিজ্ঞেস করছে, তারপর কিছু না কিনেই চলে যাচ্ছে।
তবুও ঈদের নামাজ, তাকবিরের ধ্বনি ও সীমিত আয়োজনের মধ্য দিয়ে গাজার মানুষ ঈদের আবহ ধরে রাখার চেষ্টা করছে। ধ্বংসস্তূপ আর অনিশ্চয়তার মাঝেও তারা আশা ছাড়েনি।
টানা যুদ্ধ, অবরোধ ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যে গাজার মানুষের কাছে এবার ঈদ আনন্দের চেয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে ভেসে আসা তাকবিরের ধ্বনি কিংবা শহরের রাস্তায় লাউডস্পিকার লাগানো গাড়ির শব্দ ছাড়া গাজায় ঈদুল আজহার উৎসবের তেমন কোনো চিত্র দেখা যায়নি।
অবরোধ, দারিদ্র্য ও টানা সংঘাতে বিধ্বস্ত গাজার মানুষ এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত। গত দুই বছরে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া জীবন আবার গুছিয়ে নিতে তারা এখনও সংগ্রাম করে যাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা
অমিয়/