ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অর্থবিল বিশ্লেষণ: পার পাচ্ছেন সম্পদশালীরা হাকিমি: আফ্রিকার আশা, মরক্কোর প্রাণ ভিনিসিয়ুস: এবার হলুদ জার্সিতে প্রমাণের পালা প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ
Nagad desktop

সরকারের ওপর এখনো দীর্ঘ ছায়া ফেলছে অন্তর্বর্তীকালীন নানা সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ০১ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
সরকারের ওপর এখনো দীর্ঘ ছায়া ফেলছে অন্তর্বর্তীকালীন নানা সিদ্ধান্ত
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের জনগণ একটি নতুন সরকার গঠনের জন্য ভোট দিয়েছে। তবে সাবেক অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রভাব এখনো দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে স্পষ্ট। কোনো ধরনের সংসদীয় ভোট বা গণ-অনুমোদন ছাড়াই সেই অন্তর্বর্তী সরকার কাউন্সিল ও কমিটির মাধ্যমে একের পর এক অধ্যাদেশ জারি করে দেশ চালিয়েছিল। কোনো জবাবদিহি না থাকায় কমিটির সেই সিদ্ধান্তগুলো মূলত ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া ফরমান বা ডিক্রিতে পরিণত হয়েছিল। আর এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও ব্যক্তিবর্গ।

সেই সময়ে গঠিত অনেক কাউন্সিলের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের অর্থনীতি সংস্কার করা। এই প্রক্রিয়ায় তারা দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং ব্যাংকগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সেসব হুটহাট ও বিশৃঙ্খল সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব এখন বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

২০২৫ সালে রয়টার্সকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দাবি করেছিলেন, শেখ হাসিনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভুয়া তথ্য দিয়েছিলেন। তার এই বক্তব্যই মূলত পরবর্তী সময়ে উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হবে, তা নির্ধারণ করে দেয়। তারা ধরে নেন আগের সবকিছুই যদি ভুয়া হয়, তবে তাদের সেগুলো নতুন করে সাজাতে হবে।

এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগের জাল বুনতে শুরু করে। অথচ এই শিল্প গ্রুপগুলো দেশের ইস্পাত, বস্ত্র উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ভোজ্য তেলের মতো অতি প্রয়োজনীয় খাতের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল। আকস্মিকভাবে এই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো তীব্র তোপের মুখে পড়ে।

বেক্সিমকো গ্রুপের সালমান এফ রহমান, গাজী গ্রুপের গোলাম দস্তগীর গাজী এবং ওরিয়ন গ্রুপের মো. ওবায়দুল করিমসহ অনেক ব্যবসায়ী নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার এবং এমনকি মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই কাজে মূল ভূমিকা পালন করে দেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তারা তৎকালীন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান মনসুরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে। মনসুর ও দুদক মিলে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের সম্পদ ও সম্পত্তি জব্দ করে। একই সঙ্গে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে তাদের পদত্যাগে বাধ্য করে সেখানে নিজেদের পছন্দের লোক বসানো হয়। গভর্নর হিসেবে মনসুরের বিদায়ের পর কয়েক মাস কেটে গেলেও এখনো অনেক ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাব চালু করা হয়নি এবং তাদের ওপর থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়নি। ফলে দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গেছে এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশের শিল্প সম্প্রসারণ থমকে দাঁড়ায়। অনেক ব্যবসায়ী তীব্র ঋণ ও নগদ টাকার সংকটে পড়েন। এর ফলে কিছু কারখানা কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয় এবং বেশ কিছু কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এটি দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস করে। এর ওপর দেশের মূল্যস্ফীতি মজুরি বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে এবং মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির আকাশচুম্বী মূল্যের সঙ্গে দেশ লড়াই করছে।

আহসান মনসুর ও অন্তর্বর্তী সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন অনেকেই তাদের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সমালোচকরা বলেছিলেন, তাদের এই পদ্ধতিগুলো প্রচলিত ব্যাংকিং নিয়মের পরিপন্থি। কিন্তু তখন সেসব উদ্বেগ আমলে নেওয়া হয়নি। এখন সাবেক গভর্নরের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিএসআর তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুতর কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে এসেছে।

বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের সামনে এখন দুটি পথ খোলা। হয় তারা অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া নীতি অনুসরণ করবে, যার বিরুদ্ধে সাবেক সদস্যরাই এখন মুখ খুলছেন এবং এটিকে একটি গোপন সাত সদস্যের ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ দ্বারা পরিচালিত বলে আখ্যা দিচ্ছেন। অথবা তারা নিজেদের মতো করে একটি স্বাধীন পথ বেছে নিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।

নতুন সরকারকে এখন বেশ কয়েকটি প্রধান ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এস আলম গ্রুপের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, নতুন সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের সেই অপ্রমাণিত অভিযোগটিই ধরে রেখেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল এই পরিবারটি অবৈধভাবে তাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছে। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। প্রকৃত পক্ষে, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতেই অন্তর্বর্তী সরকার এই কৌশলটি বেছে নিয়েছিল। এস আলম পরিবার যদি সিঙ্গাপুরের নাগরিক না হয়ে বাংলাদেশি নাগরিক প্রমাণিত হয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকার কারিগরি দিক দেখিয়ে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল এড়াতে পারত। ট্রাইব্যুনালে গেলে তাদের প্রমাণ করতে হতো যে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এস আলম পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করেনি বা তাদের ব্যবসার ক্ষতি করেনি।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এনসিপি নামের একটি রাজনৈতিক দল এই অভিযোগটি টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। এই দলটি অন্তর্বর্তী সরকারের অংশীদার ছিল। সম্প্রতি দলটির একজন সদস্য সংসদে এই গ্রুপটি সম্পর্কে এতটাই অযৌক্তিক এবং ভিত্তিহীন দাবি করেছিলেন, পরবর্তী সময় তার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক সংশোধনী জারি করতে হয়েছিল।

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের শিল্প খাত যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য অনুকূল পরিবেশ এবং নিয়ম তৈরি করা জরুরি। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নিয়ম ও কনভেনশনগুলো যথাযথভাবে মেনে চলা দরকার। এটি আশাব্যঞ্জক যে, বর্তমান সরকার প্রধান প্রধান শিল্প খাতগুলোতে পুনরায় নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে। দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ক্ষেত্রে যেখানে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেখানে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে এর পাশাপাশি নতুন সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পথ খোঁজা, প্রয়োজনে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখা। সূত্র: ইইউ রিপোর্টার

চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি
ডেভিড হকনি। ছবি: এআই

কিংবদন্তি ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী ডেভিড হকনি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

শুক্রবার (১২ জুন) তার প্রচার কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার লন্ডনে নিজ বাড়িতে শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শিল্পী।

১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে জন্ম নেওয়া হকনির সাত দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ার ছিল বৈচিত্র্যে ভরপুর। তিনি ১৯৬০-এর দশকে বিশ্ব কাঁপানো 'পপ আর্ট' আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সারথী ছিলেন।

ব্রাডফোর্ড স্কুল অব আর্ট ও রয়্যাল কলেজ অব আর্ট থেকে স্বর্ণপদকসহ শিক্ষা শেষ করা হকনি তরুণ বয়সেই চেনা সামাজিক নিয়ম ভেঙে নিজের সমকামী পরিচয় প্রকাশ করেন এবং চিত্রশিল্পে মনোনিবেশ করেন।

১৯৬৪ সালে হকনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান। সেখানকার প্রাণোচ্ছল জীবন, বিশেষ করে সুইমিং পুলের পটভূমিতে আঁকা চিত্রকর্মের জন্য তিনি বিশ্বজোড়া খ্যাতি পান।

পানির ওপর আলোর খেলা এবং ম্যাট অ্যাক্রিলিক পেইন্টের জাদুকরী ব্যবহারে তিনি ক্যানভাসে এক স্বপ্নময় জগৎ তৈরি করেছিলেন।
২০১৮ সালে নিউ ইয়র্কের এক নিলামে তার বিখ্যাত পেইন্টিং 'পোর্ট্রেট অব অ্যান আর্টিস্ট (পুল উইথ টু ফিগারস)' প্রায় ৭ কোটি পাউন্ডে বিক্রি হয়, যা সে সময় কোনও জীবিত শিল্পীর ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছিল।

চিত্রাঙ্কন ছাড়াও ফটোগ্রাফি ও স্টেজ ডিজাইনে দক্ষ হকনি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অগ্রগামী ছিলেন। ২০১০ সালে আইপ্যাড বাজারে আসার পর থেকেই তিনি ডিজিটাল মাধ্যমে ছবি আঁকা শুরু করেন এবং অ্যাপ প্রস্তুতকারীদের সাথে মিলে বিশেষ অ্যাপ তৈরি করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিয়মিত ছবি আঁকা ও প্রদর্শনী চালিয়ে যাওয়া এই শিল্পী দীর্ঘদিনের সঙ্গী জঁ-পিয়ের গনকালভেস দে লিমা, দুই ভাই এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এসএন/

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি
শাহবাজ শরিফ। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি ‘চূড়ান্ত ও সর্বসম্মত’ যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর এই প্রথম শান্তি প্রতিষ্ঠার এত কাছাকাছি পৌঁছালো দুই দেশ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ লিখেছেন, পরবর্তী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত করতে পাকিস্তান এখন উভয় পক্ষের সঙ্গেই নিবিড়ভাবে কাজ করছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ এর আগে কখনও এতটা কাছাকাছি আসেনি, যা এখন এসেছে।

উভয় দেশের কর্মকর্তারা চুক্তির বিবরণ নিয়ে গণমাধ্যমের জল্পনা-কল্পনার বিষয়ে সতর্ক করার পরই শাহবাজ শরিফ এই ঘোষণা দেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও চুক্তিটি ‘খুবই কাছাকাছি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।


কী আছে ইরান চুক্তিতে, যা সই করতে প্রস্তুত ট্রাম্প
গণমাধ্যমের জল্পনা নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বার্তায় বলেন, চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে গণমাধ্যমের যেকোনও ধরনের অনুমান করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কোনও ইরানি অবরুদ্ধ সম্পদ অবিলম্বে অবমুক্ত করার বিষয়টি অস্বীকার করে লিখেছেন, এই চুক্তিটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা নিশ্চিত করে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের উদ্বেগগুলো অগ্রাধিকার পাবে। ইরান যদি তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করে, তবেই অর্থনৈতিক সুবিধা তাদের এবং সমগ্র অঞ্চলে প্রবাহিত হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের চিত্র বদলে দেওয়ার এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ পুনরায় পোস্ট করেছেন। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা চুক্তির সাতটি সম্ভাব্য মূল পয়েন্টের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে কোনও নতুন ছাড় দেওয়া হয়নি এবং ইরানের কিছু সম্পদ অবিলম্বে অবমুক্ত করা হবে।

এসএন/

মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
মমতা ব্যানার্জি। ছবি: সংগৃহীত

ফের আইনি জটিলতার মধ্যে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত ২ জুন বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চ-এর আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্যের জেরে তার বিরুদ্ধে আগেই একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

এবার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কলকাতায় তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে।

অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারের সময় কলকাতার ধর্মতলার সভামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা উস্কানিমূলক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।

মমতার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন তুষার কান্তি দাস নামে এক ব্যক্তি। তিনি পুলিশে অভিযোগ জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন। অভিযোগপত্রে ধর্মতলার ওই সভায় মমতার করা বিতর্কিত মন্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ মার্চ কলকাতার ধর্মতলায় দলীয় সমাবেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের নাম উহ্য রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন—

“আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি, তখন এক সেকেন্ড লাগবে। একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে, তখন ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে ১২টা বাজিয়ে দেবে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপ্রচারে ভুল বুঝবেন না।”

এই মন্তব্যের ভিডিও ভোটের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, মুখ্যমন্ত্রীর মতো সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এমন বক্তব্য অনভিপ্রেত।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই ঘটনার ভিত্তিতে নেতাজি নগর থানায় মামলাটি করা হলেও শুক্রবার(১২ জুন) কলকাতার মামলাটি হেয়ার স্ট্রিট থানা-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের কাছে করা অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর অধীনে ১৯৬(১), ৩৫১(২) এবং ৩৫২ ধারায় মামলা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে— বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ বা শত্রুতা তৈরির চেষ্টা, ভীতি প্রদর্শন এবং শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে প্ররোচনার মতো বিষয়।

অভিযোগকারীর দাবি, ওই বক্তব্যের ফলে রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তার আরও দাবি, ভোট-পরবর্তী সময়ে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় যে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এই ধরনের বক্তব্যের যোগ রয়েছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে। এখন নজর থাকবে, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠায় কি না। তবে এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এসএন/

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার বিষয়টি ‘এতটা কাছে আর কখনো আসেনি’ বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তেহরান চুক্তির শর্তগুলো গণমাধ্যমে ফাঁস করে দিয়েছে-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন অভিযোগের পরপরই এই মন্তব্য করলেন তিনি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এটি চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত গণমাধ্যমের উচিত এর বিষয়বস্তু নিয়ে যেকোনো ধরনের জল্পনা থেকে বিরত থাকা।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তাদের দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে চুক্তির সব বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। এর আগে ট্রাম্প ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত চুক্তির শর্তগুলোকে ‘মিথ্যা’ ও ‘সত্যের সঙ্গে সম্পর্কহীন’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে আরাঘচির এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির এমন বক্তব্য নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ট্রাম্প এই পোস্টটি শেয়ার করে পরোক্ষভাবে আরাঘচির সেই আহ্বানের সঙ্গেই সংহতি প্রকাশ করেছেন। এর আগে ট্রাম্প নিজে ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত চুক্তির কিছু শর্তকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখন দুপক্ষই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে।

এসএন/

ড্রোন অনুপ্রবেশ মামলায় ইউন সুক-ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
ড্রোন অনুপ্রবেশ মামলায় ইউন সুক-ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট Yoon Suk Yeol-কে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সামরিক ড্রোন পাঠানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।

শুক্রবার (১২জুন) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট রায়ে বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে পিয়ংইয়ংয়ে ড্রোন অনুপ্রবেশের পরিকল্পনায় ইউন শুরু থেকেই জড়িত ছিলেন। আদালত তাকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও শত্রুপক্ষকে সহায়তার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন।

তবে ইউন সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি ওই অভিযানের নির্দেশ দেননি বা পরে অনুমোদনও দেননি। তাদের মতে, এটি ছিল উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত পেরিয়ে আবর্জনাভর্তি বেলুন পাঠানোর জবাব, যার সঙ্গে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টার কোনো সম্পর্ক নেই।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে সামরিক আইন জারির চেষ্টার ঘটনায় বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে ইউনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে অভিশংসন বহাল রেখে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে আদালত। এরপর অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে জয়ী হন বর্তমান প্রেসিডেন্ট Lee Jae Myung।

বর্তমানে হেফাজতে থাকা ইউন এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। সূত্র: সিএনএন

তামান্না রুপা/