ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সামাজিক অস্থিরতায় মানবতা হত্যা: প্রতিকার কোথায়? জার্মানির জয়ের নায়ক কে এই ডেনিজ উন্দাভ? অস্ট্রেলিয়ার দাপুটে জয়ে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ বাংলাদেশে সমৃদ্ধি ও বঞ্চনার পাহাড় গ্যালাক্সি ওয়াচে যেভাবে ব্যবহার করবেন গুগল ওয়ালেট শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাসুদ চৌধুরী রিমান্ডে বাজার ছিল যার ঠিকানা, পরিচয় রয়ে গেল অজানা স্বাগতিকদের সিরিজ পরাজয়ে গ্যালারিতে দর্শক ফাঁকা কেন মন্টেরি স্টেডিয়াম পরিষ্কার করলেন জাপানি সমর্থকরা? মৌয়ের জন্মদিনে বাবার গানে আবেগঘন উপহার বিপ্লব সাহার প্রবাসে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধনের অনুমোদন ঢাকাগামী ফ্লাইটে ওঠার আগে ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার জাপানের কাছে হারের পর যা বললেন তিউনিসিয়া কোচ বাজেট ডিব্রিফিং সেশন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে: স্পিকার ইস্টার্ন ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন নেওয়া শুরু উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ৩০ মিটার বিলীন কামাদাকে প্রশংসায় ভাসালেন জাপান কোচ মোরিয়াসু বগুড়ায় এসএমই উদ্যোক্তাদের মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্যেগ নিল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক চান্দগাঁও বিসিকে দিনদুপুরে ফাঁকা গুলি, যুবদল নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা নিভে গেল ক্রীড়াঙ্গনের বাতিঘর: এক কিংবদন্তির প্রস্থান সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ডে’ ডিসি প্রত্যাহার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কানসাসে আর্জেন্টিনার অনুশীলন, স্কালোনির একাদশে দুই সংশয় আখাউড়ায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পর যুবকের মৃত্যু ক্র্যাফটস ভিলেজেস আজীবন সম্মাননায় ভূষিত প্রতিমাশিল্পী হরিপদ পাল গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যা বললেন নায়িকা ববি রাঙামাটিতে ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

এআই নিয়ে ব্যস্ত বিশ্ব গুরুত্বপূর্ণ খনিজে চীনের আধিপত্য

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
গুরুত্বপূর্ণ খনিজে চীনের আধিপত্য
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইউনান প্রদেশের বাওশান শহরে অবস্থিত একটি রেয়ার আর্থ (বিরল মাটি) খনি

লিথিয়াম থেকে শুরু করে বিরল খনিজ–কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে সচল রাখতে প্রয়োজনীয় খনি, পরিশোধনাগার ও বন্দরের ওপর শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে চীন। আমদানি-নির্ভরতার কারণে ভারত এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বের প্রধান আলোচনার বিষয় এআই। বৃহৎ ভাষাভিত্তিক মডেলগুলো ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ক্ষেত্রের বিশ্লেষণ উন্নত করতে উন্নত এআইভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। বিশ্বের আরেকটি বড় মনোযোগের ক্ষেত্র হলো পরিচ্ছন্ন জ্বালানি। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বায়ু ও পানিদূষণ কমানোর লক্ষ্যে বৈদ্যুতিক পরিবহনব্যবস্থার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।

এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সেগুলোর সরবরাহ শৃঙ্খলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও চীনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। অর্থাৎ খনিজ উত্তোলনের খনি থেকে শুরু করে সেগুলো প্রক্রিয়াজাতকারী পরিশোধনাগার এবং বিশ্ববাজারে সরবরাহকারী নৌপথ–সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিয়েই এই লড়াই।

লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং বিরল খনিজের বিশেষ শ্রেণিগুলো এআইয়ের বিকাশের ভিত্তি। একই সঙ্গে অণুইলেকট্রনিকস, ব্যাটারি এবং অর্ধপরিবাহী শিল্পের মূল উপাদানও এগুলো।

সময়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের তালিকা পরিবর্তিত হতে পারে। তবে এগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলা হয়, কারণ এআইয়ের মতো উদীয়মান প্রযুক্তির হার্ডওয়্যার অবকাঠামো এই সম্পদগুলোর ওপর নির্ভরশীল।

এসব খনিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ কোনো দেশের জন্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রেই নয়, বরং অস্ত্র উন্নয়ন ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কৌশলগত সুবিধা এনে দেয়। 

পরবর্তী বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা গবেষণাগারে জেতা যাবে না। নতুন আবিষ্কার বা সবচেয়ে আগ্রাসী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও এককভাবে বিজয়ী হবে না। বিজয়ী হবে সেই দেশ বা প্রতিষ্ঠান, যারা খনি, পরিশোধনাগার ও বন্দরগুলোর ওপর সবচেয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। আর বর্তমানে সেই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে চীন।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মালিকানা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের বিরল খনিজের চাহিদা পূরণে সক্ষম সম্পদের ক্রমবর্ধমান অংশ অধিগ্রহণ করছে।

২০২৪ সালে এই ধরনের অধিগ্রহণ গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। অন্তত ১০টি চুক্তির মূল্য ছিল ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। ২০২৫ সালে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি অর্থ ব্যয় করে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার খনি এবং পরিশোধনাগার কিনে নেয়। এতে তাদের বিদ্যমান প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আফ্রিকা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস জানায়, চীন বর্তমানে বিশ্বের মোট গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে। বিরল খনিজ উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিশোধনের প্রায় ৮৭ শতাংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে।

২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে চীনের খনিজ অধিগ্রহণের পরিমাণ ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনায় কেনা ২ বিলিয়ন ডলারের একটি লিথিয়াম খনি এবং বতসোয়ানায় কেনা ১ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারের একটি তামার খনি।

দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে চীন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে তারা গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল খনিজের প্রবেশদ্বার নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে প্রয়োজন হলে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কাছে রপ্তানি সীমিত করা বা অন্য সরবরাহকারীদের বাজার থেকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও তাদের রয়েছে।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিল। শুল্কযুদ্ধের উত্তপ্ত পরিবেশে চীন এমন কিছু বিরল খনিজের সরবরাহ সীমিত করেছিল, যেগুলোর ওপর মার্কিন উৎপাদন শিল্প ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

চীনের এই পদক্ষেপ দেখিয়ে দেয়, কীভাবে কৌশলগত সরবরাহ নিয়ন্ত্রণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। একই ধরনের বাস্তবতা দেখা গেছে, যখন ইরান হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের গুরুত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ, তা নয়। বরং তারা এই নির্ভরতা কমাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চীনের প্রভাব কমাতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্য জোট গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ভ্যান্সের ওই বৈঠকে ভারত ও জাপানসহ ৫৫টি দেশ অংশ নেয়।

তিনি বলেন, ‘সস্তা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ দিয়ে আমাদের বাজার সয়লাব করে দেশীয় উৎপাদকদের ক্ষতিগ্রস্ত করার সমস্যা আমরা দূর করতে চাই।’ যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ খনিজের কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগও নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই কর্মসূচির নাম দিয়েছে ‘প্রজেক্ট ভল্ট’ এবং এর জন্য ১০ বিলিয়ন ডলার প্রাথমিক তহবিল বরাদ্দ করেছে। 

ভারতের জন্য এই প্রতিযোগিতার গুরুত্ব অনেক বেশি। ইরান যুদ্ধ এবং তেল-গ্যাস আমদানিতে সংকট ভারতের সরকারকে জ্বালানির দাম বাড়াতে বাধ্য করেছে। অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় এবং ঝুঁকিসংক্রান্ত অতিরিক্ত খরচ এর প্রধান কারণ।

এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, শুধু জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নয়, বরং জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরও জরুরি। কিন্তু সেই রূপান্তর নির্ভর করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের স্থিতিশীল সরবরাহের ওপর, যা ভারতের নিয়ন্ত্রণে নেই। সূত্র: এনডিটিভি

রাশিয়ার ২০০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০২:০০ পিএম
রাশিয়ার ২০০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার তিউমেন অঞ্চলের একটি প্রধান তেল শোধনাগারে দূরপাল্লার ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত এই শোধনাগারটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র।

তিউমেন অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার মুর জানিয়েছেন, হামলার পর শোধনাগার এলাকায় ধ্বংসাবশেষ পড়েছে এবং কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শোধনাগারটির বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তারা তিন হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম এমন নতুন দূরপাল্লার ড্রোন তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেন হামলা জোরদার করায় চলতি জুন মাসে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের হার গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। এর ফলে মস্কোসহ রাশিয়ার বেশ কয়েকটি দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় ইতোমধ্যে জ্বালানিসংকট ও পেট্রলের দাম বেড়েছে।

শনিবার (২০ জুন) এই ড্রোন হামলার কারণে উরাল অঞ্চলের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। একইদিনে ইউক্রেনীয় বাহিনী দখল করা ক্রিমিয়া ও বেলগোরোড অঞ্চলে রাশিয়ার রসদ সরবরাহের একটি সেতু এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা করেছে। 

অন্যদিকে, রাশিয়াও ইউক্রেনের খারকিভ, জাপোরিঝিয়া ও সুমি অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে খারকিভে রুশ গাইডেড বোমার আঘাতে দুজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে জেডি ভ্যান্স

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে জেডি ভ্যান্স
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের শান্তি ও পরমাণু আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

স্থানীয় সময় রবিবার (২১ জুন) ভোরে তিনি সুইজারল্যান্ডের এমমেন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, রবিবার ভোর ৫টা৫৯ মিনিটে জেডি ভ্যান্স এবং তার স্ত্রী সেখানে পৌঁছান।

সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে মূলত এই দ্বিপক্ষীয় কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিকে স্থায়ী রূপ দেওয়াই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

মার্কিন প্রতিনিধি দলে জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারও রয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন।

গত শুক্রবারই এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা নিয়ে ইরান-মার্কিন উত্তেজনার কারণে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই সফর দুই দিন পিছিয়ে যায়।

ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের জেডি ভ্যান্স জানান, আগামী কয়েক দিনের এই আলোচনায় ইরানের পরমাণু ইস্যু এবং লেবাননের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয় দুটি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে। সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান নিহত

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১১:১৯ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান নিহত
ছবি: আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইশাহ

ফিলিস্তিনের গাজার বুরেজ শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইশাহ নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২০ জুন) একটি বাড়িতে চালানো ওই হামলায় আহমেদ উইশাহসহ অন্তত দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

এক বিবৃতিতে আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আল জাজিরার ১২ জন সংবাদকর্মী নিহত হলেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল আহমেদ উইশাহর ভাই মোহাম্মদ উইশাহও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। দুই ভাইয়ের ক্ষেত্রেই ইসরায়েলি বাহিনী কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাদের ‘হামাস সন্ত্রাসী’ বলে দাবি করে।

আল জাজিরা এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার’ বলে নাকচ করে দিয়েছে। সাংবাদিক অধিকার রক্ষা সংস্থা ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে) জানিয়েছে, প্রমাণ ছাড়াই ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়া ইসরায়েলের একটি নিয়মিত প্রবণতা।

সিপিজের তথ্যমতে, চলমান এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ২৬০ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এমনকি গত অক্টোবরে ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পরও ইসরায়েলি হামলায় আরও ১,০০৭ জন নিহত হয়েছেন। সূত্র: আল- জাজিরা

তামান্না রুপা/

বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে এস্তাদো মেয়র সদর দপ্তরের বাইরে একজন সৈনিক এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকেন

টানা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা অবরোধ এবং পদত্যাগের দাবিতে লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ।

শনিবার (২০ জুন) তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্ট জানান, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার সব পথ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দেশের প্রধান শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশনের নাম সিওবি। জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্যই ছিল বিক্ষোভ বন্ধ করা। প্রেসিডেন্টের নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। আলোচনার মাধ্যমে বড় একটি অংশের বিক্ষোভ শেষ হলেও একটি মহল এখনো অবরোধ কর্মসূচি বজায় রেখেছে।

প্রেসিডেন্ট পাজ টেলিভিশনে একটি ভাষণ দিয়ে বলেন, ‘আমরা আলোচনার সব পথ ব্যবহার করে যাদের দাবি যৌক্তিক ছিল, তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি। কিন্তু কিছু মহল বলিভিয়াকে অস্থিতিশীল করতে চায় এবং সহিংসতা বাড়াতে চায়। আমরা তাদের চিহ্নিত করার পরই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

বলিভিয়ায় গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট চলছে। পাজ একজন মার্কিন-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট। এই সংকট মোকাবিলায় তিনি কিছু পরিকল্পনা করেছিলেন। এর বিরুদ্ধে গত মে মাসের শুরুতে আন্দোলন শুরু করে সিওবি। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সাধারণ শ্রমিক, কৃষক ও খনিশ্রমিক, ট্রাকচালক এবং শিক্ষকরাও ছিলেন। তারা এই মধ্য-ডানপন্থি প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক সংস্কার বাতিলসহ তার পদত্যাগ দাবি করেন। পাজ মাত্র সাত মাস আগে ক্ষমতায় এসেছেন। তার এই জয়ের মাধ্যমে দেশটিতে টানা ২০ বছরের সমাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটেছিল।

দেশজুড়ে চলা এই অবরোধের কারণে রাজধানী লা পাজসহ প্রধান প্রধান শহরে জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া খাদ্য এবং ওষুধেরও তীব্র অভাব তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।

এরপর গত শুক্রবার সিওবির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছায় সরকার। সিওবির নেতা মারিও আরগোলো ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘এখন থেকে দেশব্যাপী সব ধরনের অবরোধ প্রত্যাহার করা হলো।’ চুক্তিটিকে সমর্থন করে প্রেসিডেন্ট পাজ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘শক্তির চেয়ে আলোচনাই বেশি শক্তিশালী।’

কিন্তু সিওবির একটি পক্ষ চুক্তি মেনে নিলেও আরেকটি পক্ষ এটিকে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলিভিয়াকে অস্থিতিশীল করতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। তার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রেসিডেন্ট দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি শতাধিক লেবার এমপি-মন্ত্রীর

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি শতাধিক লেবার এমপি-মন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের ওপর লেবার পার্টির এমপি ও মন্ত্রীদের চাপ বাড়ছে। তাকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলেছেন দলটির মোট ১০৪ জন সংসদ সদস্য। গত বৃহস্পতিবার মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের জয়ের পর নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হয়। 

স্টারমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সর্বশেষ এমপিদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র এমপি ফ্যাবিয়ান হ্যামিল্টন, যিনি গত মাসের স্থানীয় নির্বাচনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরেও তার প্রতি অনুগত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা জানাতে হবে এবং অ্যান্ডি বার্নহামকে সেই পরিবর্তন আনার সুযোগ দিতে হবে, যার জন্য আমরা নির্বাচিত হয়েছি।’ লেবার এমপিদের ‘রেড ওয়াল গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান জো হোয়াইট এবং বার্নহামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লুক চার্টার্সও গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলত্যাগ করে স্টারমারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

লেবার পার্টির বেশির ভাগ এমপি চান, সম্ভাব্য বিভক্তিকর নেতৃত্ব নির্বাচনের পরিবর্তে স্টারমার স্বেচ্ছায় ক্ষমতা বার্নহামের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ঘোষণা করুক। তবে স্টারমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন এবং ‘ছেড়ে যাবেন না’। বার্নহামের ঘনিষ্ঠরা স্টারমারকে ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার এবং মন্ত্রিসভা, এমপি ও পরিবারের মতামত শোনার আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্নহামের শিবির এবং সম্ভাব্য আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তারা এই সপ্তাহে কোনো গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেবেন না। প্রধানমন্ত্রীকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সময় দেওয়া হবে।

সাবেক ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও ভবিষ্যতের যেকোনো প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরাও স্টারমারকে বলছেন, ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়রের জন্য তাকে অবশ্যই পথ ছেড়ে দিতে হবে। পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডারসহ অনেকেই ‘দায়িত্ব হস্তান্তরের’ দাবি করছেন।

গত মাসে স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের খারাপ ফলাফলের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ও জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডসহ কয়েকজন মন্ত্রী স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। জানা গেছে, বার্নহামের জয়ের পর থেকে শাবানা মাহমুদ ও স্টারমারের মধ্যে আর কোনো কথা হয়নি। আগামী মঙ্গলবার সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা একত্রিত হলে সেটি স্টারমারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: বিবিসি ও দ্য টেলিগ্রাফ