কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট থমথমে অবস্থা শেষে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে দেশ। সাপ্তাহিক ছুটির পর নির্বাহী আদেশে টানা ৩ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে বুধবার (২৪ জুলাই) আংশিকভাবে খুলেছে অফিস-আদালত। অফিস-আদালতের পাশাপাশি খুলেছে রাজধানীর ব্যস্ততম নিউমার্কেট এবং নীলক্ষেতের বইয়ের মার্কেট। কারফিউ শিথিলের সময় এই দুই মার্কেটের সব দোকান খুললেও ক্রেতা ছিল একেবারেই হাতে গোনা। নিউমার্কেটে কিছুসংখ্যক ক্রেতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও নীলক্ষেত বই মার্কেটে ক্রেতা বলতে গেলে ছিলই না। এ যেন বিরানভূমি।
সরেজমিনে এই চিত্র দেখা যায় রাজধানীর এ দুই মার্কেটে। ক্রেতা না আসায় অনেকের দুপুরের খাবারের টাকা পর্যন্ত ওঠেনি বলে দাবি অনেক বিক্রেতা। বিক্রি-বাট্টা আর ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় খোশগল্পে অলস সময় পার করতে দেখা গেছে এখানকার বিক্রেতাদের।
নিউমার্কেটের জান্নাত বোরকা বাজার লিমিটেড নামের দোকানে অন্যদিনগুলোতে গড়ে সর্বোচ্চ চব্বিশ-পঁচিশ পিস পর্যন্ত বোরকা বিক্রি হতো, সেখানে এখন একের বেশি বিক্রি করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিক্রয়কর্মী মো. বাবু বলেন, ‘দেশে যে কয় দিন ধরে গণ্ডগোল গেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা তো আর সব বোঝে না। তারা এখনো মনে করছে দেশ এখনো থমথমে আছে, যার ফলে মার্কেটে এখনো লোকজন আসছে না সেভাবে। কিন্তু এখন তো দেশ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।’
বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অন্যদিন অন্তত পনেরো-বিশ-চব্বিশ পিস বোরকা বিক্রি করি। সেখানে আজকে বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত বিক্রি করেছি মাত্র এক পিস। দুপুরে খেতে যে টাকা লাগবে, সেই টাকাটি উঠেছে শুধু। তা ছাড়া গেল সপ্তাহে মালিকের কাছ থেকে গত সপ্তাহের টাকাই নিইনি। এই সপ্তাহে তো বেচা-বিক্রিই নেই, জানি না মহাজনের কাছ থেকে কীভাবে টাকা নেব।’
ওই মার্কেটের রহমান ট্রেডার্স নামের দোকানটি বাহারি ক্রোকারিজে ভরপুর। এ দোকানের বিক্রেতা ইউসুফের দুপুরে খাবার খাওয়ার খরচই ওঠেনি। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই জায়গাতে ভরপুর মানুষ থাকত। অথচ সেখানে দেখেন এখন কী অবস্থা। বিসমিল্লাহ-বাট্টাই করতে পারি নাই। আমাদের খাবারের টাকা তো উঠা দূরের কথা, পকেট থেকে দেওয়া লাগতেছে। মনে হয়, যতক্ষণ না পর্যন্ত কারফিউ তুলে নিচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত ক্রেতা আসবে না।’
এদিকে নিউমার্কেট ১নং গেট সংলগ্ন ফুটপাতে বাহারি ধরনের টুপি বিক্রি করেন সিয়াম হোসেন সাইফ। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘লোকজনই তো নাই। বিক্রি হইব ক্যামনে। তারপরেও সবমিলাই ১ হাজার টাকার মতো বিক্রি করছি।’
নিউমার্কেটে কম-বেশি হাতে গোনা ক্রেতা থাকলেও রাজধানীর সবচেয়ে বড় বই বিক্রির মার্কেট নীলক্ষেতে ক্রেতা বলতে গেলে ছিল না ৷ এ মার্কেটের নকিব বুক সেন্টারের বিক্রয়কর্মী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘যেখানে গড়ে ১০-২০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। সেখানে এখন হাজার টাকা বিক্রি করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত ৫ দিন টানা বন্ধের পর আজ (গতকাল) দোকান খুললাম। যদিও এর মধ্যে যখন কারফিউ শিথিল হয়েছিল খুলছিলাম কিন্তু বিক্রি হয়নি। আজ (গতকাল) কোনো রকমে মাত্র ৩০০ টাকার বই বিক্রি করছি। বলা চলে দুপুরের খাবারের টাকা খালি উঠেছে।’