‘বিক্রি তেমন নেই। তারপরও ডিমের দাম বেশি। ১৮০ টাকা ডজন। দুই দিনের ব্যবধানে ডজনে বেড়েছে ৩৫ টাকা। ভয়ে-আতঙ্কে গাড়ি আসা কমে গেছে। খুবই খারাপ অবস্থা।’ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এভাবেই ডিমের বাড়তি দামের বিষয়টি জানান মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের ডিম বিক্রেতা ইসমাইলসহ অন্যান্য বাজারের ডিম বিক্রেতারা। সরবরাহ কমে যাওয়ায় মুরগি, মাছ, গরু, খাসির মাংস, সবজির দাম বেড়ে গেছে কেজিতে ১০-২০ টাকা। রসুনের কেজিতে বেড়েছে ৬০ টাকা। তবে বাড়েনি চালের দাম।
ক্রেতারা বলছেন, এভাবে বেশি দামে পণ্য কিনে পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়া দরকার। সরকার পরিবর্তনে দেশব্যাপী জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয়ে আতঙ্কে অনেকে দোকান খোলেননি। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজার, কৃষি মার্কেট, হাতিরপুলসহ অন্যান্য বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ডিমের দামের ব্যাপারে গতকাল টাউন হল বাজারের শরীয়ত বলেন, গত রবিবারও ১৪৫ টাকা ডজন বিক্রি করা হয়েছে। তেজগাঁও থেকে গতকাল তেমন গাড়ি আসেনি। এলেও দাম বেশি। এ জন্য বাড়তি দামেই ১৮০ টাকায় ডিমের ডজন বিক্রি করতে হচ্ছে। এই বাজারের অন্য ডিম বিক্রেতারাও জানিয়েছেন ডিমের দাম বাড়তি। তবে কারওয়ান বাজারে একটু কম ১৭০ টাকায় ডজন বিক্রি করা হচ্ছে। তারেক বলেন, ‘পাইকারিতে দাম বেশি। এ জন্য আমরাও বেশি দামে ১৭০ টাকায় বিক্রি করছি।’ পাড়া-মহল্লাতেও ১৮০ টাকায় ডিমের ডজন বিক্রি করতে দেখা যায়।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মুরগি, গরু, ছাগলের মাংসের দাম বেড়ে গেছে। আগে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৭০ টাকায় বিক্রি করা হলেও বর্তমানে ২০০ টাকা, সোনালি ৩০০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬০০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের জননী মুরগির আড়তের ওহাব বলেন, ‘ভয়ে-আতঙ্কে গাড়ি আসা কমে গেছে। এ জন্য দাম বেড়ে গেছে। ব্রয়লার ১৯০-২০০ টাকা, সোনালি ৩০০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এ সময় জসিম নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘বাসায় কিছু নেই। তাই ভয়ে-আতঙ্কের মধ্যেও বাজারে এসেছি। দেখি প্রায় জিনিসের দাম বেশি। পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলা যায় না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো দরকার।’ টাউন হল বাজারসহ অন্য বাজারের বিক্রেতারাও জানান, ২ দিনের ব্যবধানে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে।
সরবরাহ কমে যাওয়ায় গরুর মাংসের দামও বেড়ে গেছে। বিক্রেতারা জানান, দুই দিন গরুর গাড়ি আসেনি। টাউন হল বাজারের জহির মাংস বিতানের আ. রশিদ বলেন, গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকা। দুই দিন আগেও ৭৫০ টাকা ছিল। অন্য বাজারের মাংস বিক্রেতারাও জানান, গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আর খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকা।
কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, সবজি বিক্রেতা আল আমিন তার দোকানে নেই। দোকান বন্ধের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক জ্বালাও-পোড়াও হয়েছে। অনেকের দোকান লুট হয়েছে। এ ভয়ে দোকান খুলিনি।’ বিভিন্ন বাজারের বিক্রেতারা জানান, প্রায় সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। বেগুনের কেজি ৭০-৯০ টাকা, করলা ৮০-১০০ টাকা, পটোল, ঢ্যাঁড়স, ধুন্দুলের কেজি ৬০ টাকা। মরিচের কেজি ২৬০-৩০০ টাকা। ঝিঙে, মুলা ৫০-৬০ টাকা, পেঁপে, শসার কেজি ৫০ টাকা, বরবটি ৯০ টাকা, টমেটো, গাজর ১৮০ টাকা কেজি। পুঁইশাকের আঁটি ২৫-৩০ টাকা, লালশাক, পালং ও পাট শাকের আঁটি ১৫ টাকা।
কারওয়ান বাজারের খোকন নামে এক বিক্রেতা বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সকালে দোকান খুলেছি। কিন্তু ক্রেতা নেই। বেচা-বিক্রি নেই বললেই চলে। তারপরও চড়া আলু, পেঁয়াজ, আদা, রসুনের দাম। কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে।’ অন্য বিক্রেতারা জানান, পেঁয়াজ ১২০-১৩০ টাকা, আলু ৬০-৭০ টাকা, আদা ২৮০-৩২০ টাকা, রসুন ২২০-২৬০ টাকা।
তবে গত দুই দিনে বাড়েনি চালের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, আগের মতোই মিনিকেট ৭০-৭২ টাকা, আটাশ চাল ৫৮ টাকা, মোটা চাল ৫২ টাকা থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। মসুর ডাল ১২৫-১৪০ টাকা, ছোলার দাম ১১০-১১৫ টাকা, ১ লিটার সয়াবিন তেল ১৬৫ টাকা ও ৫ লিটার ৮০০-৮১০ টাকা, চিনির কেজি ১৩০ টাকা।
মাছ বিক্রেতারা জানান, অন্য দিনের চেয়ে গত দুই দিনে বিভিন্ন আড়তে সরবরাহ কমে গেছে। রুই, কাতলার কেজি ৩৫০-৭০০ টাকা, চাষের চিংড়ি ৫৫০-৭০০ টাকা, নদীর চিংড়ি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি। ট্যাংরা ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, কাচকি ও মলা মাছ ৫০০-৭০০ টাকা, পাঙাশ, তেলাপিয়া ২০০-২৫০ টাকা, ইলিশের কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।