জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শিল্পীরা পোস্টারে, ব্যানারে যে নতুন রাজনৈতিক ভাষ্য নির্মাণ করেছেন, তা সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ-বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রযোজনা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় শিল্পী দেবাশিস চক্রবর্তীর জুলাই অভ্যুত্থানের শিল্পকর্ম নিয়ে ‘পোস্টারে জুলাই অভ্যুত্থান’ লাইভ ও এআর-ভিআর (অগমেন্টেড-ভার্চুয়াল রিয়েলিটি) ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী আয়োজনে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। আসিফ নজরুল ছিলেন প্রধান অতিথি।
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য আলোকচিত্রী, কিউরেটর ও অ্যাক্টিভিস্ট ড. শহিদুল আলম এবং লেখক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহাবুব মোর্শেদ। আমস্টারডাম থেকে সরাসরি অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন লেখক ও গবেষক পারভেজ আলম এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন শিল্পী দেবাশিস চক্রবর্তী।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘বিভিন্ন বয়ান তৈরির কৌশল যে কত নোংরা হতে পারে তা আমরা গত ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের ক্ষেত্রে দেখেছি। উন্নয়ন-অগ্রগতি নিয়ে অনেক বয়ান তৈরি করা হয়েছে। একটা ছোট্ট পোস্টার নতুন বয়ান তৈরির ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। ওই সময়ের আন্দোলনকে বেগবান করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে পোস্টার। গ্রাফিতি যে একটা শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে তা আমরা গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখি নাই। গ্রাফিতি হয়তো একটা সময় থাকবে না। কিন্তু প্রকাশনা হলে সেটা থেকে যাবে। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগ ভালো লেগেছে।’
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, ‘নন্দনতত্ত্ব বলতে আমরা যেটা বুঝি, তা হলো সুন্দর কী। তাকে তছনছ করে দিয়ে ভেঙে ফেলে আপনি কেবল রং, রেখায় খুব পরিষ্কারভাবে এবং স্পষ্ট ভাষায় উচ্চারণ করেছেন, যা মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। মানুষকে আলোড়িত করেছে এবং মানুষকে একেবারে আন্দোলনের সম্মুখে এগিয়ে নিয়ে গেছে। পপুলার আর্টকে পপুলিস্ট না করে একেবারে পলিটিক্যাল আর্ট করেছেন। যে পলিটিক্যাল আর্ট একেবারে শিল্পকর্ম।’
বাংলাদেশের শিল্প ও গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্ব বিবেচনায় শিল্পী দেবাশিস চক্রবর্তীর জুলাই অভ্যুত্থানে করা শতাধিক পোস্টারের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ২০টি পোস্টার নিয়ে লাইভ ও এআর-ভিআর প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এই শিল্পকর্মগুলো শিল্পকলা একাডেমির ভিআর গ্যালারিতে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হবে। বিভিন্ন জেলায় প্রযোজনা বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই শিল্পকর্মের ভিআর প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকবে, সেখানে দেবাসিসের পোস্টারের বিষয়ের নানা পরিপ্রেক্ষিত ও কন্টেক্সট এআর-ভিআরের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে।
শিল্পকলা একাডেমির এই বিশেষ প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জাতীয় চিত্রশালা ভবনের ৫ নম্বর গ্যালারির দুয়ার উন্মুক্ত থাকবে সাধারণ দর্শকদের জন্য।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্র-জনতা, শিল্পী, বুদ্ধিজীবীসহ নানা পেশাজীবী সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। এ সময় বিভিন্ন শিল্পীর কার্টুন, পোস্টার ও ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠছে। শিল্পী দেবাশিস চক্রবর্তী তাদের একজন। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আঙ্গিকের পোস্টার নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে পোস্টারের মধ্যে নিজের রাজনৈতিক ভাষ্য হাজির করেছেন তিনি, যা গণমানুষের ভাষ্য হয়ে উঠেছে।