চাঁদাবাজদের থেকে যেন মুক্তি নেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মার্কেটের ব্যবসায়ীদের। তাদের অভিযোগ, জুলাই অভ্যুত্থানের পর যুবলীগের চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পেলেও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে যুবদলের চাঁদাবাজরা। চাঁদাবাজির প্রতিবাদে গেল ২২ জানুয়ারি থেকে মার্কেট বন্ধ রেখে মানববন্ধন করেছেন দোকানিরা। বিভিন্ন স্থানে বিষয়টি অবহিত করেও কোনও সুরাহা পাননি তারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আওয়ামী সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে ডিএসসিসির কাছ থেকে ইজারার নামে পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলতেন ডিএসসিসি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর যুবলীগ নেতা শেখ মোহাম্মদ আলমগীর। তার লোকজন প্রতিদিন অন্তত ৫ লাখ টাকা তুলতেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর কয়েক মাস এ চাঁদাবাজি বন্ধ থাকলেও এবার ইজারার নামে চাঁদা নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন চকবাজার যুবদলের আহ্বায়ক শাহ আলম লাকির লোকজন।
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে যথাযথ প্রতিকার চেয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
মৌলভীবাজার মৎস্য দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানারে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চকবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন। আরও বক্তব্য দেন চকবাজার কাঁচাবাজার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান, দোকানি ইমরান হোসেন রনি, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, প্রায় দুই বিঘা আয়তনের কাঁচাবাজারটি শত বছরেরও বেশি আগে ব্যক্তিগত জমিতে গড়ে ওঠে। জমির মালিকের কাছ থেকে দোকান নিয়ে ভাড়া দিয়ে তারা ব্যবসা করে আসছেন। মার্কেটের জমিটিও সিএস, এসএ, আরএস ও সিটি জরিপে ব্যক্তি মালিকানাধীন হিসেবে উল্লেখ আছে। কিন্তু গত তিন বছর আগে শেখ আলমগীর সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে ইজারা এনেছেন মর্মে চাঁদাবাজি শুরু করেন। তখন যারাই প্রতিবাদ করেছে তাদের দোকানে তালা মেরে দেওয়া হয়েছে। এরপর প্রতিদিন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দোকান ভেদে ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হয়েছে।
তারা জানান, ৫ আগস্টের পর আলমগীর পালিয়ে গেলে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কিছু দিন আগে চকবাজার থানা যুবদলের আহ্বায়ক শাহ আলম লাকি ও তার লোকজন মার্কেটে এসে জানান যে এবার তিনি সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে কাঁচাবাজারের ইজারা পেয়েছেন। এখন থেকে তাকে খরচের টাকা দিতে হবে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা টাকা দিতে রাজি হননি। তারা ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফারাবীর কাছে গিয়ে ইজারা দেওয়ার যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চান। কিন্তু ফারাবী তাদের কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। জবাবদিহিতা এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, 'বিগত মেয়রের আমলের মতোই সব কিছু চলবে।'
জেলা প্রশাসক, ডিএমপি পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন স্থানে চিঠি দিয়েও কোনও সুরাহা–সদুত্তর না পেয়ে গত কদিন ধরে মার্কেট বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। বিষয়টির সমাধান চেয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ বিষয়ে চকাবাজার যুবদল নেতা শাহ আলম লাকি জানান, ওই কাঁচাবাজারের ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল ডিএসসিসি। দরপত্রে অংশ নিয়ে নিয়ম মেনেই তিনি ইজারা পেয়েছেন। গত ৮ জানুয়ারি থেকেই তার খরচ উঠানোর কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত শুরু করেননি। জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হয়ে থাকলে সিটি করপোরেশন কেন ইজারা দিল সেটা তিনি জানেন না। এ বিষয়ে তিনি ডিএসসিসিতে কথা বলতে বলেন।
এ প্রসঙ্গে কথা বলতে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফারাবীর ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি তা রিসিভ করেননি। তাকে না পেয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশিরুল হক ভূঁঞার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকেও পাওয়া যায়নি।
সিফাত/