গত রবিবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষে ফের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে সমাধান না পেলে ২৪ ঘণ্টা পর ফের নতুন কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করবেন তারা। একইসঙ্গে সাত কলেজের সম্বন্বয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ্বাস দেওয়ায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নতুন করে ৫ দফা দাবি জানান তারা।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাদদেশে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর টিমের আব্দুর রহমান বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থী এবং যাদের অপমানিত করা হয়েছে তারাসহ সাত কলেজ সংশ্লিষ্ট কারোর সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি যে, কী হচ্ছে প্রো-ভিসি মামুন স্যারের এবং অন্যান্য দোষীদের। তাই এ সম্পর্কে চূড়ান্ত ঘোষণা না আসার আগ মূহুর্তে আমরা আবার ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলাম। যারা আহত হয়েছে, তাদের সঙ্গে সমষ্টিকভাবে বসে পরবর্তী সময়ে কী করা যায়, সেই বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। যেহেতু তারা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গড়তে রক্ত দিয়েছে, এখন যদি তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়, সেটি আলাদা বিষয় হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় বিশৃঙ্খলা এড়াতে থানা ঘেরাও কর্মসূচি এবং বাস আটকানোর বিষয় থেকে সরে এসেছি। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পরে কী কর্মসূচি দিব তার একটি রূপরেখা প্রণয়ন করে জাতির মধ্যে তুলে ধরব। এর মধ্যে যদি আলোচনা করে সমাধান করা যায়, সেটিও আমরা তুলে ধরব।’
এর আগে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী জাকারিয়া বারী সাগর। তিনি তার বক্তব্যে নতুন ৫ দফা ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রকাশ, এক মাসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু, সব বর্ষের চলমান পরীক্ষা পূর্বঘোষিত রুটিন অনুযায়ী চলমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই চলমান সব শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাত কলেজের চলমান সঙ্কট নিরসনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং সাত কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় এবং সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আগামী দুই দিনের মধ্যে টেবিল টকের আয়োজন।
উল্লেখ্য, গত রবিবার পাঁচ দফা দাবিতে ঢাবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে তার অফিসে বাকবিতণ্ডার জেরে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ শেষে উপ-উপাচার্যের বাসভবনে ঘেরাও করতে এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে এলে ঢাবি শিক্ষার্থীদের বাঁধার সম্মুখীন হয় তারা। পরে তোরণের সামনেই সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে ঢাবি শিক্ষার্থীরা সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে তোরণ থেকে সরিয়ে দিতে গেলেই শুরু হয় দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়ে চলে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। এসময় দুই পক্ষকে নিবৃত্ত করতে পুলিশ কয়েক দফায় সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল নিক্ষেপের পরও দফায় দফায় চলতে থাকে দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এতে অন্তত দুই প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাবি প্রশাসনের সঙ্গে সাত কলেজের অধ্যক্ষদের জরুরি সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাত কলেজ না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া চলতি বছর থেকেই (২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি না নেওয়াসহ আরও পাঁচ সিদ্ধান্ত হয়।
আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ