গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৭৮ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের দুই হাজারের বেশি ব্যাংক হিসাব ও ১৬ হাজার কোটি টাকা জব্দ করেছে আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ থেকে চলে যাওয়ার পর ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। অর্থপাচার ও অবৈধ লেনদেন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। একের পর এক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে বিএফআইইউ। বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের অংশীদার ও সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও তলব করা হয়।
সন্দেহজনক লেনদেন ও মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে এবং অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে গত বছরের ৮ আগস্ট ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনস্থ বিএফআইইউ। দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদরা যাতে ব্যাংক থেকে অর্থ স্থানান্তর ও পাচার করতে না পারেন, সে জন্য বিএফআইইউর এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যদিও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে অনেকে এভাবে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা সমর্থন করছেন না। তারা বলছেন, ইচ্ছে হলেই যেভাবে আরেকজনের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে দেওয়া হচ্ছে, এটা আইনসিদ্ধ নয়। বিষয়টি আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হওয়া উচিত। যদি উপযুক্ত প্রমাণ থাকে, তাহলে অনুসন্ধান করে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে জব্দ করা যেতে পারে। তা না করে এভাবে হিসাব জব্দ করার ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।