আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ। নানা আয়োজনের মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয় বাংলার নতুন বছরের প্রথম দিনটিকে। রমনার বটমূল, ছায়ানট, রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠান ও বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রাসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজধানী জুড়ে মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীতে পয়লা বৈশাখের আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসছেন দর্শনার্থীরা।
নগরীর রমনা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি, শাহবাগ, হাতিরঝিল, ধানমন্ডি লেক, রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় এসেছেন অনেক দর্শনার্থী।
হেঁটে স্বাচ্ছন্দ্যে উৎসবের আনন্দ যেন নিরাপদে উদযাপন করতে পারেন সেজন্য বাংলামোটর ক্রসিং, মিন্টো রোড ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং, কাকরাইল চার্চ ক্রসিং, কদম ফোয়ারা ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং, দোয়েল চত্বর ক্রসিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ক্রসিং, জগন্নাথ হল ক্রসিং, ভাস্কর্য ক্রসিং, নীলক্ষেত ক্রসিং ও কাটাবন ক্রসিং এলাকায় বেরিকেট দিয়ে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণে রেখেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।
দেখা গেছে, বাংলামোটর মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে, যেন বাসসহ বড় যানবাহন শাহবাগের দিকে যেতে না পারে। নেভি গলির মুখে পুলিশের আরেকটি ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে যেন ছোট যানবাহনগুলোকেও শাহবাগের দিকে না যেতে পারে। এই পথ দিয়ে আসা দর্শনার্থীরা হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে যাচ্ছেন। অপরদিকে কাকড়াইল চার্চ ও মৎসভবনের সামনে রয়েছে পুলিশের বেরিকেট। ওই পথেও দর্শনার্থীদের হেঁটে চলাচল করতে দেখা গেছে।
প্রতিটি বেরিকেটের সামনেই র্যাব-পুলিশ সদস্যদের অবস্থান রয়েছে। দর্শনার্থীদের তল্লাশি করা হচ্ছে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।
অপরদিকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেগুলোতে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশী চৌকি। থানা-পুলিশ ও র্যাবের টহল রয়েছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে রয়েছে র্যাব-পুলিশের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন মো. নজরুল বলেন, ‘পুরো রাজধানীর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে। ডিএমপির ১৮ হাজার ফোর্সের পাশাপাশি র্যাব, সেনাবাহিনীসহ আমাদের সাইবার ও ডিবি টিম কাজ করছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক আছি। সবাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছি।
ঢাকাবাসী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা যে ব্যাড়িকেড দিয়েছি সেগুলো দর্শনার্থীরা মেনে চলছেন। ডিএমপির পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনা মেনে তারা নববর্ষ পালন করতে আসছেন।’
আনন্দ শোভাযাত্রা:
‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্যে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে শুরু হয় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা বলয়ে শোভাযাত্রাটি শাহবাগ মোড়, টিএসসি মোড়, শহিদ মিনার, শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র ও দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তা দিয়ে সাড়ে ১০টার দিকে পুনরায় চারুকলা অনুষদে গিয়ে শেষ হয়।
শাহবাগ মোড় ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে রাখতে দেখা গেছে। কেউ যেন শোভাযাত্রায় মাঝে বা বিকল্প পথ দিয়ে প্রবেশ করতে না পারেন। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
এবারের শোভাযাত্রায় ২১টি মোটিফ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে- সাতটি বড়, সাতটি মাঝারি ও সাতটি ছোট মোটিফ।
বড় মোটিফগুলোর মধ্যে রয়েছে- দানবীয় ফ্যাসিবাদী মুখাকৃতি, কাঠের বাঘ, ইলিশ মাছ, টাইপোগ্রাফিতে ৩৬ জুলাই, শান্তির পায়রা, পালকি, জুলাই আন্দোলনে নিহত মুগ্ধের পানির বোতল।
বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে তরমুজের মোটিফ, যা সাম্প্রতিক সময়ের এক রাজনৈতিক বার্তাবাহী উপাদান।
এ ছাড়া সুলতানি ও মুঘল আমলের মুখোশ, ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি, রঙিন চরকি, বাঘের মাথা, তালপাতার সেপাই, মাছ ধরার পলো, মাছ ধরার চাই, পাখা, মাথাল, ঘোড়া, লাঙলসহ রয়েছে নানা আয়োজন।
এর আগে গত রবিবার (১৩ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ ঘিরে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছিলেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘পয়লা বৈশাখে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপির ১৮ হাজার ফোর্স কাজ করবে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, সিটিটিসি কাজ করছে।’
জাহাঙ্গীর/পপি/