ভারতের গুজরাটের বস্তি থেকে তুলে এনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও নৌবাহিনী কর্তৃক বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী মান্দারবাড়িয়া এলাকায় একটি চরের মধ্যে ফেলে যাওয়া ৭৮ জনের মধ্যে ৭৫ জন বাংলাদেশিকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ছাড়া জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক হওয়ায় তিনজনকে শ্যামনগর থানায় মামলার পর সোমবার (১২ মে) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে রবিবার (১১ মে) রাত ১১টার দিকে কোস্টগার্ড তাদের ৭৮ জনকে শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করে।
মঙ্গলবার (১৩ মে) বেলা পৌনে ১১টার দিকে শ্যামনগর থানা চত্বরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করে।
পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের উপস্থিতিতে শ্যামনগর থানা থেকে তাদেরকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান।
এ সময় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম, কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার, শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান বলেন, সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া চরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক ৭৫ জন বাংলাদেশি মুসলিম এবং তিনজন ভারতীয় মুসলিমকে পুশ ইন করে। পরে বনবিভাগের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে কোস্ট গার্ড।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, উদ্ধারদের মধ্যে তিনজন নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে যদি দেখা যায় তাদের বাবা-মা বাংলাদেশি এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সাপেক্ষে তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জন্মসূত্রে ভারতীয় তিনজন হলেন- খুলনার বটিয়াঘাটা থানার ফুলবাড়িয়া গ্রামের খালিদ শেখের ছেলে আব্দুর রহমান (২০), নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত মুন্না শাহ'র ছেলে মো. হাসান শাহ (২৪) এবং একই গ্রামের সোহেল শেখের ছেলে সাইফুল শেখ (১৯)।
জন্মসূত্রে এই তিনজন ভারতের গুজরাটের নেহেরীনগর, জোপারপচ্চি এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করেন। তবে তাদের কাছে ভারতের কোনো বৈধ কাগজ নেই।
পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা জানান, ভারতীয় পুলিশ তাদের বস্তিগুলো বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়। এ ছাড়াও তাদেরকে পরিবারের সদস্যদের সামনে অমানবিক নির্যাতন করার পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও পাশবিক নির্যাতন করে। তারপর তাদের চোখ বেঁধে একটি সামরিক বিমানে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অপর একটি সামরিক বিমানে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় স্থানান্তর করে।
পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জাহাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুন্দরবনের একটি জায়গায় রেখে যায় এবং জাহাজে অবস্থাকালীন সময়ে শারীরিক নির্যাতন, অমানবিক আচরণ, ধর্মীয় অবমাননাসূচক মন্তব্য করে। এ সময় তারা প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করেনি এবং এখন পর্যন্ত তাদের স্ত্রী-সন্তানদের সঠিক অবস্থান তারা জানেন না।
এদের মধ্যে ৬৭ জনের বাড়ি নড়াইল জেলার বিভিন্ন গ্রামে। এ ছাড়া খুলনা জেলার ছয়জন, যশোরের দুইজন এবং সাতক্ষীরা, ঢাকা ও বরিশাল জেলার একজন করে রয়েছেন। এর মধ্যে গুজরাটের আহমেদাবাদের বিভিন্ন বস্তিতে থাকতেন ৭০ জন এবং সুরাটে থাকতেন আটজন।
সুলতান/মেহেদী/