ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ ১০ দিনের ছুটি শেষে সরকারের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় ফিরে পেয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। এদিন প্রায় সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে ফিরেছেন। অবশ্য ঈদ-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবস হিসেবে এদিন সবার মধ্যে ছিল ঈদের আমেজ।
রবিবার (১৫ জুন) সরেজমিন দেখা গেছে, দীর্ঘ ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ের অফিসে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার; স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সকাল ১০টার পর সচিবালয়ে আসেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তা ছাড়া সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিব অফিস করেছেন। তথ্য মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
কর্মদিবসের শুরুতেই উপদেষ্টা ও সচিবরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মন খুলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে কোলাকুলি, করমর্দন এবং কুশলাদি বিনিময় করেছেন। ফলে পুরো সচিবালয়ে ছিল ঈদের আমেজ।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১০ দিনের ছুটি শেষের বিবারথেকে খুলেছে সরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
গত ৭ জুন দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ৫ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত বন্ধ ছিল সব সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সচিবালয়ে পাস নিয়ে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করেছেন। দীর্ঘ ছুটি থাকায় প্রথম কর্মদিবসে উপস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক দেখা গেছে। সচিবালয়ের গাড়ি রাখার স্থানগুলো গাড়িতে পূর্ণ দেখা গেছে।
গ্রামের বাড়িতে থাকা প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঈদের ছুটিতে রেল, সড়ক ও নৌপথে অসংখ্য মানুষ রাজধানী ছাড়েন। এ সময় পুরো রাজধানী ছিল ফাঁকা। সড়কে ছিল না যানবাহনের চাপ। ছিল না যানজট। রাজধানীর প্রায় সব প্রধান সড়কেই ছিল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট।