ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ নিয়ে চলমান আন্দোলনের মধ্যে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে জরুরি সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তবে তার দাবি, এ সেবায় বিঘ্ন ঘটিয়ে তার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে সরকার।
বুধবার (১৮ জুন) নগর ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এদিন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেঠক করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আন্দোলন ভণ্ডুল করার জন্য সরকার নানাবিধ ষড়যন্ত্র করছে। গত পরশু (সোমবার) সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ফোন করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত গাড়িগুলোর জ্বালানি বন্ধ করতে নগর ভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল বর্জ্য কার্যক্রম বন্ধ করে সেই দায় আমাদের ওপর চাপিয়ে আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত করা। কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র সফল হতে দিইনি। এই উপদেষ্টাদের বলতে চাই, জ্বালানি জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা, আপনাদের বাবার টাকায় নয়।’
এর আগে মঙ্গলবার ইশরাক হোসেন সব ওয়ার্ডের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করে জরুরি সেবা পরিচালনার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা যেন আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করে দেন। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা এবং সচিব আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যাতে জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ, নাগরিক সনদে সই না করেন। এ রকম ন্যক্কারজনক ভূকিায় তারা অবতীর্ণ হয়েছেন। যেখানে আমরা সেবা দিতে চাচ্ছি, আর তারা ফোন করে সেবা বন্ধ করার নির্দেশ দিচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘আন্দোলন শুরুর পর থেকে কোনো একটি জরুরি সেবা এক সেকেন্ডের জন্যও বন্ধ করা হয়নি। আমরাই নিশ্চিত করেছি যাতে এই সেবাগুলো চালু থাকে। জনগণের দুর্ভোগের সৃষ্টি না হয়।’
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে বহু আগে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার পরও যদি স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন আইনি জটিলতা রয়েছে, তাহলে আমি বলব এই ধরনের মূর্খ উপদেষ্টা বাংলাদেশের ইতিহাসে কেউ কখনো দেখেনি।’
রাজপথে আন্দোলনকালীন সরকারের পক্ষ থেকে সুরাহা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশ্বাস দিয়ে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা রাজপথ ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম সরকার হয়তো একটা যৌক্তিক সমাধানের দিকে নিয়ে যাবে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, রাজপথ থেকে সরানোর জন্য মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।’
ইশরাক আরও অভিযোগ করেন, ‘সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ নগর ভবনে অফিস করতে শুরু করেন। তখন এখানে বসে তিনি ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট চালিয়েছেন। তাদের পোষ্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা আন্দোলন শুরু করার পর তারা পালিয়ে যান। তাই এখন প্রতিশোধ নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘দুনীতি দমন কমিশন যাতে এগুলো সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়। আর যদি তাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বলতে হবে পুরো সরকারই তাতে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। পুরো সরকারের ওপর তার সব দায় বর্তাবে।’
ইশরাক বলেন, ‘আসিফ মাহমুদ বলেছেন আমি নাকি ফোজদারি অপরাধ করেছি। তাহলে আপনারা তো সরকারে, আপনারা কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন না? কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিচ্ছেন না আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে। খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে ১৭ বছর আমরা লড়াই করেছি, যুদ্ধ করেছি, জেল খেটেছি, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছি। অতএব আপনাদের মতো শিশু উপদেষ্টা এসে যদি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চায়, আমি মনে করি আপনাদের সঙ্গে কথা বলাও আমাদের জন্য অবমাননার। আজকে যা কিছু হচ্ছে, তার জন্য সরকারই দায়ী। সরকার এই ধরনের লোকদের দিয়ে কথা বলাচ্ছে। আমাদের হেয় করার চেষ্টা করছে।’
আরিফ সাওন/