রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাদের খোঁজে স্কুল ও হাসপাতালে ভিড় করছেন অভিভাবকরা।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে ১টা ১৮ মিনিটের দিকে এফ-৭ মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
এ ঘটনার পর স্কুলের আশপাশে অনেকেই এসেছেন তাদের সন্তানদের খুঁজতে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঘটনার পরপরই দুই সন্তান সাদ ও লামিয়ার খোঁজে দিগ্বিদিক ছুটতে দেখা গেছে পলি বেগমকে। তিনি জানান, তার দুই সন্তান এখানে পড়ে। এখন পর্যন্ত পাননি। তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না তিনি।
এদিকে দগ্ধ শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে আহজারি করছেন আহতদের স্বজনরা। সব মিলিয়ে সেখানে হৃদয়বিদারক ঘটনার অবতারণা হয়েছে।
সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে রবিন হোসেন নাবিল। ডাকনাম রোহান। তার বাবা নিজাম উদ্দিন জানান, ছেলের পুরো শরীর পুড়ে গেছে। তার মা নাসিমা আক্তার কাঁদছেন আর ছেলের জন্য বিলাপ করছেন।
চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে মেহরীন। তার মামা ফায়াদ নিয়ন বলেন, আমি আমার ভাগ্নিকে দুই-তিন ঘণ্টা খুঁজে তারপর পেয়েছি।
কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ওর দুটি হাত ও মুখ পুড়ে গেছে। মেহরিনের বাসা দিয়াবাড়িতে। তাকে খুঁজে পেতে স্কুলের শিক্ষকরা সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তিনি।
পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে রুব্বি। তাদের বাড়ি উত্তরা ১২ নম্বরে। তার বড় বোন একা কাঁদতে কাঁদতে জানান, আমার ছোট বোন, কতটুকু আহত এখনো কিচ্ছু জানি না।
এ ছাড়া অনেককেই সন্তানের খোঁজে হাসপাতালে ভিড় করতে দেখা গেছে।
বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সালমান/