আজ ২ আগস্ট (কোটা আন্দোলনকারীদের হিসাবে ৩৩ জুলাই)। ২০২৪ সালের এদিন সারা দেশে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় তারা ১৬ জুলাই থেকে চলা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও গ্রেপ্তার ছাত্র-জনতাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। এদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫০ জন আহত হন। এদিন হবিগঞ্জ ও খুলনায় পুলিশ-আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। এর মধ্যে হবিগঞ্জে এক শ্রমিক এবং খুলনায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হন।
২০২৪ সালের ২ আগস্ট রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। তৎকালীন শাসক দলের কর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এদিন রাজধানীতে ছাত্র, শিক্ষক, সাংস্কৃতিককর্মী, অভিভাবক এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা বেলা ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে ‘দ্রোহযাত্রা’ নামে একটি গণমিছিল বের করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এই ‘দ্রোহযাত্রা’ শুরুর আগে একটি সমাবেশে বক্তব্য দেন। দ্রোহযাত্রা শেষেো শহিদ মিনারে আরেকটি এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগ দাবিতে ৩৪ জুলাই বেলা ৩টায় আরেকটি গণমিছিলের ডাক দেন।
এদিন ইউনিসেফের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক সঞ্জয় উইজেসেকেরা এক বিবৃতিতে কোটাবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা ও অস্থিরতায় শিশুদের ওপর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা হয়, শুধু জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৩২ ছিল শিশু। আরও অনেক মানুষ আহত ও আটক হয়েছেন। এটি একটি ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি। ইউনিসেফ সব সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানায়।
এদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোটা নিয়ে ছাত্রদের দাবির পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল সরকার ও ছাত্রদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ফায়দা লুটতে অসৎ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’