জাপানে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও জাপানি কোম্পানির মধ্যে ১৩টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১ লাখ দক্ষ কর্মী বাংলাদেশ থেকে জাপানে যাবে। এই কর্মীদের জন্য বিনামূল্যে জাপানি ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং একটি প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করা হবে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত ‘বাংলাদেশ জাপানের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ সমৃদ্ধ একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং ১৩টি জাপানি কোম্পানি অংশ নেয়।
বাংলাদেশ দূত দাউদ আলী স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জাপানে পাঠানো এবং এ উদ্দেশ্যে কার্যকর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করব’। তিনি সব অংশীদারকে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, ‘২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ কর্মক্ষম কর্মী রয়েছে, যা ২০৪০ সাল পর্যন্ত উদ্বৃত্ত থাকবে’।
তিনি আরও বলেন, ‘জাপানের শ্রমবাজারের জন্য বাংলাদেশি জনশক্তি প্রস্তুত করতে ৩৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) প্রস্তুত রয়েছে।’
সেমিনারে জাপানের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণার্থী ও দক্ষ কর্মী সহযোগিতা সংস্থার (জেআইটিসিও) শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রায় ২৫০টি জাপানি কোম্পানি এবং প্রায় ৩৫০টি জনশক্তি প্রেরণ ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানও অংশ নেয়।
জেআইটিসিওর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শিগেও মাৎসুতোমি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
চুক্তির লক্ষ্য হচ্ছে জাপানের প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন এবং কর্মসংস্থানের জন্য একটি সুসংহত কাঠামো তৈরি করা। জাপানগামী কর্মীদের বিনামূল্যে জাপানি ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।