ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু ছত্রিশ-চব্বিশের পরকীয়া নিয়ে তুলকালাম মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে? রংপুরে নিখোঁজের এক দিন পর পাটখেতে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা নিয়োগ দেবে ব্যাংক এশিয়া জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে প্রাণ ডেইরী ও এটিইসি খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত জামালপুরে পুলিশের চাকরি দেওয়ার চুক্তি, ২ প্রতারক গ্রেপ্তার সাঙ্গু নদে নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মেলেনি ১৬ ঘণ্টায়ও ঝিনাইদহে রেললাইন-মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি রোহিঙ্গাদের জন্য জমি চাইল জাতিসংঘ, নাকচ বাংলাদেশের ব্রাজিলের বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষার আগে স্বকীয়তায় ফেরার আহ্বান ম্যাকগিনের রামু বৌদ্ধ বিহারে একদিন দ্রুত বিদায়ে হতাশ তুরস্ক কোচ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বাবা বরগুনায় বেড়েছে গরুর ক্ষুরা রোগ,ভ্যাকসিন সংকটে খামারিরা রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের আহ্বান বারভিডার আ. লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর লজ্জিত আরদা গুলের বেনজিরকে শিগগিরই ফেরত আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী ২৮ জন টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার চকরিয়ায় শ্রীরামকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ রূপগঞ্জে  ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন নওগাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের খাঁচায় ৩ ডাকাত আইওএস ২৭-এ আসছে নতুন ফিচার কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক

উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:০৫ পিএম
উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। 

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি খুব ভালো। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর একটি নির্বাচন করতে যা দরকার সব করা হচ্ছে। এজন্য পুলিশ বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি চলমান। সব বাহিনী তাদের প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা জানুয়ারির মধ্যেই শেষ হবে। সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বডি ওর্ণ ক্যামেরা থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।’

এ সময় রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাসস/রিফাত

দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৮৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮০৭ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯১ হাজার ৭৮৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৪৯ জন।

আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৪৯ জন।

এসএন/

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা
কাল্পনিক পদ্মা ব্যারাজ। ছবি: এআই

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়নের স্বপ্নযাত্রায় এবার যোগ হয়েছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বদলে যাবে ২৪টি জেলার দৃশ্যপট। নদী ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় আসবে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পদ্মা ব্যারাজ শুধু নদীকেন্দ্রিক প্রকল্প নয়, এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট ও সীমিত ব্যবস্থাপনার কারণে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়নি।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, নদীভাঙন রোধ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিবর্তন আসবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২৪টি জেলার ১৬১টি উপজেলার পাঁচ কোটি মানুষের কৃষি উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এর সুফল সরাসরি ও পরোক্ষভাবে সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

নদীভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট ও আঞ্চলিক বৈষম্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন আশার নাম হয়ে উঠছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

কৃষিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২ লাখ হেক্টরের বেশি এক ফসলি জমি দুই ফসলি জমিতে এবং ১ লাখ হেক্টরের বেশি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হতে পারে। সাগরের লবণাক্ত পানি বদলে কৃষকের কাছে পৌঁছবে মিঠা পানি, যা কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনে বিরাট বিপ্লব এনে দেবে। এতে বছরে অতিরিক্ত কয়েক মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বোরো ধানের গড় উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৪.৫ থেকে ৫ টন। নিরবচ্ছিন্ন সেচ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এটি ৬ থেকে ৭ টন পর্যন্ত উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি গবেষকরা।

একইভাবে গমের উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৩.৫ টন থেকে ৪.৫ টন, ভুট্টার উৎপাদন ৮ টন থেকে ১০-১২ টন এবং আলুর উৎপাদন ২৫ টন থেকে ৩০-৩৫ টন পর্যন্ত বাড়তে পারে।

পদ্মা পাড়ের জেলা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের সংসদ সদস্য ও সরকারের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নে বুক বেঁধে আছে পদ্মা পাড়ের জনগণ। তারা এই প্রকল্পের সুফল পেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে রাজবাড়ীসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪ জেলার জনগণ বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ছাড়া এ প্রকল্প কখনোই হয়তো পাস হত না। ইতোমধ্যে এ প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। এজন্য তিনিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদনে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এখন আর কোনো স্বপ্ন নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা পাড়ের জেলাগুলোতে নদী ভাঙন, আকস্মিক বন্যা এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নদী ব্যবস্থাপনার আধুনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিসংকট দূর করতে এবং মৃতপ্রায় নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ মেগা প্রকল্পের কাজ ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। কৃষকের আয় গড়ে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪১ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রতিবছর বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে কয়েকশ হেক্টর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। গত দুই দশকে পদ্মা নদী বিধৌত বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে।

পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবার প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের আওতায় নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম, তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর প্রবাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নদীভাঙনের হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জিওব্যাগ, কংক্রিট ব্লক ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন পরিকল্পনায় অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রিত পানি প্রবাহ এবং দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হলে বন্যার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে নদীর পানিধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া নদী ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষকে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে হাজার হাজার কোটি টাকার কৃষি উৎপাদন, সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বসতভিটা রক্ষা পাবে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, এ মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি, শিল্প, পরিবহন, বিপণন এবং সেবা খাত মিলিয়ে লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে কৃষিযন্ত্র, বীজ, সার, কীটনাশক, কৃষিপণ্য পরিবহন ও বিপণন খাতেও নতুন বিনিয়োগ বাড়বে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় গুদামজাতকরণ, হিমাগার এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের চাহিদাও বাড়বে। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্পে প্রতি ১ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ২০ থেকে ৩০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। সেই হিসেবে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে এক থেকে দুই লাখ অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহও বাড়বে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নাঈম/

জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সড়ক ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়নে জিপিএস সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করেছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে সব ধরনের গণপরিবহনে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, আগামী ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহন পরিচালনার সময় জিপিএস ডিভাইস চালু রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা ৪৪ এবং ধারা ১২৪(১)(খ)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত করতে হবে এবং যানবাহন চলাচলের সময় তা অবশ্যই সচল রাখতে হবে।

এ ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়নের সময় জিপিএস সংযুক্তি নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস নবায়ন করবে না।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী যানবাহনের বিভিন্ন কারিগরি বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি জিপিএস সংযুক্তির বিষয়টিও যাচাই করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ প্রযুক্তি ব্যবহারে গণপরিবহনের অবস্থান, গতি এবং চলাচলের রুট সহজেই পর্যবেক্ষণ এবং অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, যানবাহন ট্র্যাকিং এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিপিএস বাধ্যতামূলক করার ফলে পরিবহনখাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

থিওটোনিয়াস/

রোহিঙ্গাদের জন্য জমি চাইল জাতিসংঘ, নাকচ বাংলাদেশের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
রোহিঙ্গাদের জন্য জমি চাইল জাতিসংঘ, নাকচ বাংলাদেশের
ছবি: সংগৃহীত

মায়ানমারের জান্তাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করায় বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল তারা। তাদের জন্য আরও জমি বরাদ্দ চেয়েছে জাতিসংঘ। তবে বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের এ আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। 

শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘে আহ্বান করেছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার মায়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মায়ানমারে। তাই এর টেকসই সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। বিপুলসংখ্যক এ শরণার্থীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও দেশের সম্পদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। তাই এখন এ সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান জরুরি।

সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগে থেকে অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সেনাচৌকিতে জঙ্গি হামলাকে অজুহাত দেখিয়ে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে বাংলাদেশে।

থিওটোনিয়াস/

আ. লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
আ. লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না তারা একটি মাফিয়া পার্টি। এ জন্যই তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, আগামী ২৩ জুন তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে যেকোনো কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অবদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ইতোমধ্যে দুবাই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে।’ 

এ সময় তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধীদের নির্মূল করাসহ দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘মোহাম্মদপুর এলাকা অনেক বছর ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে রয়েছে। মোহাম্মদপুরকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে এবং এখানকার অপরাধীদের নির্মূল করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ইতোমধ্যে সবার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। নির্বাচিত সরকার আসার পরে পুলিশ সদস্যরা এত বেশি দায়িত্ব পালন করছেন যে তাদের প্রশংসনীয় কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হচ্ছে।

নাঈম/