পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার গণভোটে ‘না’ ভোট দিতে ভোটারদের উৎসাহিত করছেন বলে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছে উপজেলার সাধারণ ভোটাররা। গত ১৫ জানুয়ারি ইসিতে তারা এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। চিঠিতে ভান্ডারিয়ার ইউএনওকে প্রত্যাহার দাবি জানানো হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নানা কারণে এবারের নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এরইমধ্যে ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন নির্বাচন কমিশন। কিন্তু মাঠ প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের দোসর কর্মকর্তারা এই নির্বাচন বিতর্কিত করতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করছে। তাদের টার্গেট নির্বাচন বানচাল করা। এদের মধ্যে অন্যতম ভান্ডারিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রেহেনা আক্তারের স্বামী রাশিদুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন। যিনি ৫ আগস্টের আগে ঢাকায় টেন্ডার ও তদবির বাণিজ্যে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া ইউএনওর আপন দেবর রাইসুল ইসলামও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন। শুধু তাই নয় জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেশীয় অস্ত্র হাতে রাইসুল ইসলামকে হামলা করতে দেখা গেছে। যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তারা সবাই ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকা (ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা) ছাড়া। সম্প্রতি এই সন্ত্রাসী পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তবে এনিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে সরকার। ইউএনও রেহেনা আক্তারও ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ইউএনও’র পুরো পরিবার ও শ্বশুর বাড়ির পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত। জুলাই আন্দোলনে তিনি সরাসরি বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে রাইসুল পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনে (পিডিবিএফ) (নন ক্যাডার) হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগে কর্মরত। রেহেনা গাজীপুরের শ্রীপুরে এসিল্যান্ড থাকাকালীন নিজের স্বামীর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বনের জমি নিয়ে নানা অনিয়ম করেছেন। যা গণমাধ্যমে উঠে আসে দুই বছর আগে। ইউএনও’র গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর তাদের কেউ বাড়িতে নেই। বাড়ির আশপাশের লোকজন সোচ্চার হওয়ায় তারা এখন এলাকাছাড়া। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ইউএনও পরিবারকে চিহ্নিত আওয়ামী লীগের দোসর বলে অভিহিত করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ইউএনও রেহেনা বলেন, ভান্ডারিয়াবাসির জন্য এত কিছু করলাম আর তারা মিথ্যা অভিযোগ দেয়। এসব অভিযোগ সত্য নয়। আমার পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
এ বিষয়ে ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, কমিশনের কাছে যেকোনো অভিযোগ আসলে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমার কাছে যেসব অভিযোগ আসে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়ে দেই তারা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়।
এলিস/সুমন/