ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র বরেন্দ্র সভ্যতার ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর বৃহত্তর কুষ্টিয়ার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আব্দুল জলিলের স্মরণসভা ইবি ছাত্রদলে পদ পাচ্ছে ছাত্রলীগ কর্মীরা! প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুদের থেকে ফি আদায় প্রসঙ্গে গাজীপুরে তেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট রাজশাহীতে অটো ভাড়া বৃদ্ধি তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, পরবর্তী কর্মসূচি ‘ঢাকা ঘেরাও’ নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল: ভোক্তার অধিকার কোথায়? আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী গাজী গিয়াস উদ্দিনকে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয় আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করুন নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু ছত্রিশ-চব্বিশের পরকীয়া নিয়ে তুলকালাম মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে? রংপুরে নিখোঁজের এক দিন পর পাটখেতে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা নিয়োগ দেবে ব্যাংক এশিয়া জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে প্রাণ ডেইরী ও এটিইসি খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

নির্বাচনি মাঠে নিরাপত্তা টহল জোরদার

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
নির্বাচনি মাঠে নিরাপত্তা টহল জোরদার

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে সারা দেশে বিশেষ টহল, অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্বাচনি মাঠের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসারসহ দায়িত্বশীলরা। গত দুই দিন রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরসহ ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক টহল বা ‘ফুট প্যাট্রোল’ পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। নির্বাচনে মাঠে থাকবে ৯ লাখ ফোর্স।

অন্যদিকে নির্বাচনি মাঠের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠানের জন্য কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আজ রবিবারও তিনি ময়নমনসিংহ অঞ্চল পরিদর্শন করবেন। 
অন্যদিকে উপকূলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রায় ৫ হাজার সদস্য মোতায়েন হওয়ার পর কন্টিনজেন্টগুলোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক তৎপরতা বা টহল-অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সারা দেশে ৩৭ হাজার সদস্য মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ, র‌্যাব, আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থা। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা বাস্তবায়নে এসব বাহিনী পেশাদারত্বের সঙ্গে মাঠে দায়িত্ব পালন করছে বলে মন্তব্য করেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী গতকাল খবরের কাগজকে বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু সফল যৌথ অভিযান চালিয়েছে। একইভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ ছাড়া নির্বাচন ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিমানবাহিনী। ফলে যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ দেখা গেলে তা সেনা বা নৌবাহিনীর ক্যাম্পকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে সেনাবাহিনীর বিশেষ ‘ফুট প্যাট্রোল’ বা হেঁটে টহল পরিচালিত হয়। স্থানীয় সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বশীলরা জানান, গতকাল সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের বছিলা ও শেরেবাংলা আর্মি ক্যাম্পের সদস্যদের রায়েরবাজার ও আদাবর এলাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এই ‘ফুট প্যাট্রোল’ চালানো হয়। এর আগের দিন শুক্রবার সেনাবাহিনীর আজিমপুর আর্মি ক্যাম্প ও কামরাঙ্গীরচর আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে ঢাকা¬-৭ সংসদীয় আসনের কামরাঙ্গীরচর, লালবাগসহ আশপাশের এলাকায় একই রকম বিশেষ টহল পরিচালনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে গত কয়েক দিনে সেনাপ্রধান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলাব্যবস্থা পরিদর্শন করছেন। গত বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীপ্রধান কক্সবাজার এবং সিলেট এরিয়া পরিদর্শনসহ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। তার আগের দিন বুধবার সেনাপ্রধান পটুয়াখালী ও খুলনা পরিদর্শন ও মতবিনিময় করেন। একইভাবে তারও আগের দিন ২৭ জানুয়ারি সেনাবাহিনীপ্রধান রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চল পরিদর্শনসহ বেসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। প্রায় সবখানেই আলোচনা বা মতবিনিময়কালে সেনাপ্রধান নির্বাচনি মাঠে নিয়োজিতদের পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস, মাদক চোরাচালান ও অন্য অপরাধ দমনে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে উপকূলীয় এলাকা ও অন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮টি জেলায় ১৬টি সংসদীয় আসনে নৌবাহিনীর প্রায় ৫ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

পুলিশের মূল লক্ষ্য সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশ
জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযান চলমান রেখেছে বাংলাদেশ পুলিশ। মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রথম ও প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত এই বাহিনী এককভাবে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী বা যৌথ বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (গণমাধ্যম) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পুলিশের প্রধান দায়িত্ব বা মূল লক্ষ্য হচ্ছে, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে ভোটের পরিবেশ বজায় রাখা। পুলিশ দায়িত্ব অনুসারে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’-এর অধীনে অবৈধ অস্ত্র ও চিহ্নিত অপরাধী-সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।’

নির্বাচনে মারণাস্ত্র ব্যবহার করবে না বিজিবি 
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান বলেছেন, নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘লেথাল ওয়েপন’ (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করবে না। গতকাল মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সের অস্থায়ী বেস ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ভোটাররা যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্য সামনে রেখেই এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই সারা দেশে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে বিজিবি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে। 

তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি) এবং হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত থাকবে, যারা প্রয়োজন হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও মোতায়েন থাকবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আবুল এহসান বলেন, “নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো শঙ্কা দেখছি না। বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশ আমরা নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বচ্চো চেষ্টা করে যাব। তবে কোনো ধরনের ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করব না।”

১ লাখ সেনাসহ প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবেন
গত ১৯ জানুয়ারি সচিবালয়ে এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। যার মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রায় ১ লাখ সদস্য, নৌবাহিনী ৫ হাজার, বিমানবাহিনী ৩ হাজার ৭৩০ (স্থলভাগ-১ হাজার ২৫০), পুলিশ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, র‌্যাব ৭ হাজার ৭০০ এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ জনসহ সর্বমোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন থাকবেন। দেশজুড়ে দুই পর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা মোতায়েন থাকবেন বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

বরেন্দ্র সভ্যতার ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
বরেন্দ্র সভ্যতার ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি। ছবি: খবরের কাগজ

বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ধারণ করে শিক্ষার্থীদের আদর্শ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি। 

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেন অর্জিত জ্ঞান ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের বিকশিত করতে পারে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি বরেন্দ্র কলেজ ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।’

শনিবার (২০ জুন) সকালে রাজশাহী বরেন্দ্র কলেজ চত্বরে অনুষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন জনপদ, যার সভ্যতার ইতিহাস প্রায় তিন থেকে চার হাজার বছরের পুরোনো। এই অঞ্চলের সংস্কৃতি, ভাষা ও শিক্ষা প্রাচীনকাল থেকেই মানুষকে আলোকিত করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ ড. জোহা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের আত্মত্যাগে সমৃদ্ধ এই মাটির ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।’

শিক্ষকদের উদ্দেশে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ সম্পর্কেও সম্যক ধারণা দিতে হবে, যাতে তারা দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে পারে। জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেই এগিয়ে যেতে হবে। শুধু রাজনীতিতে নয়, একজন দক্ষ প্রকৌশলী, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী কিংবা আইনজীবী হয়ে সমাজ ও মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। তিনি শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁদের নির্দেশনা অনুসরণেরও আহ্বান জানান।’

বরেন্দ্র কলেজের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের জন্য উপযুক্ত অবস্থানে রয়েছে। এ কলেজকে বিশ্বমানের মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

বরেন্দ্র কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ রণজিৎ কুমার সাহা।

অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড তুলে দেন ভূমিমন্ত্রী।

রিফাত/

আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী
সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী রবিউল আলম। ছবি: খবরের কাগজ

আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন চালু হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী রবিউল আলম।

তিনি বলেন, ‘পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানের ‘মাল্টি-মোডাল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।’

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পাবনা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তা ও সুধী সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি জানান, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কোনো বিশেষ শ্রেণিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না। মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ না বানিয়ে, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জনস্বার্থ ও জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে সরকার। খুব দ্রুতই দেশে আন্তর্জাতিক মানের ‘মাল্টি-মোডাল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা দৃশ্যমান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যেই নীতিগত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও চিহ্নিত করেছি এবং সে অনুযায়ী অগ্রসর হচ্ছি। আমার বিশ্বাস, বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত মাল্টি-মোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা বাংলাদেশেও দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়িত হবে এবং দৃশ্যমান হবে।’

এদিকে পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ঢাকা-পাবনা সরাসরি রেল যোগাযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এ রুটের লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ইতোমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে। আগামী মাসে কোচ বা বগি এলেই আগস্টের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরাসরি ট্রেন চালু করা হবে।

এ ছাড়া ঢাকার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে আরিচা-খাসচর সড়ক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ও ডিপিপি প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মণ্ডল, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার সুফী উল্লাহসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।

জুয়েল/রিফাত/

নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। ছবি: খবরের কাগজ

প্রতি বছর বাজেটের পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগ থাকলেও এবারের বাজেটে এমন কোনো চাপ সৃষ্টি হয়নি। তাই এবারের বাজেট জনবান্ধব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

তিনি বলেন, ‘এবারের বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট। বিরোধী দলও বলছে-এটা কল্পনা ও স্বপ্নের বাজেট। তবে এই কল্পনা না থাকলে, স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’ 

শনিবার (২০ জুন) পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ টাকা, চাল ও ছাগল বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘প্রতি বছর বাজেটের পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগ থাকলেও এবারের বাজেটে এমন কোনো চাপ সৃষ্টি হয়নি। তাই এটিকে আমরা জনবান্ধব বাজেট বলছি। সরকার গঠনের মাত্র চার মাস হচ্ছে। এই চার মাসে আমরা দেশের সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।’

নিজস্ব তহবিলসহ সরকার দেশের মানুষের জন্য বরাদ্দ দিচ্ছে আমরা তা সংসদ সদস্য হিসেবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। একইসঙ্গে মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করছি।

তিনি জানান, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আটকে থাকা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এর আগে মানবিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, ৪১ মেট্রিক টন চাল ও পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে ৬০টি পরিবারের মধ্যে ছাগল বিতরণ করা হয়। 

এ সময় বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ তারা ও সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন ও বাঁধের সম্ভাব্য এলাকা যাচাই, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

রনি মিয়াজী/রিফাত/

দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৮৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮০৭ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯১ হাজার ৭৮৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৪৯ জন।

আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৪৯ জন।

এসএন/

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা
কাল্পনিক পদ্মা ব্যারাজ। ছবি: এআই

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়নের স্বপ্নযাত্রায় এবার যোগ হয়েছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বদলে যাবে ২৪টি জেলার দৃশ্যপট। নদী ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় আসবে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পদ্মা ব্যারাজ শুধু নদীকেন্দ্রিক প্রকল্প নয়, এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট ও সীমিত ব্যবস্থাপনার কারণে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়নি।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, নদীভাঙন রোধ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিবর্তন আসবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২৪টি জেলার ১৬১টি উপজেলার পাঁচ কোটি মানুষের কৃষি উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এর সুফল সরাসরি ও পরোক্ষভাবে সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

নদীভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট ও আঞ্চলিক বৈষম্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন আশার নাম হয়ে উঠছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

কৃষিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২ লাখ হেক্টরের বেশি এক ফসলি জমি দুই ফসলি জমিতে এবং ১ লাখ হেক্টরের বেশি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হতে পারে। সাগরের লবণাক্ত পানি বদলে কৃষকের কাছে পৌঁছবে মিঠা পানি, যা কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনে বিরাট বিপ্লব এনে দেবে। এতে বছরে অতিরিক্ত কয়েক মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বোরো ধানের গড় উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৪.৫ থেকে ৫ টন। নিরবচ্ছিন্ন সেচ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এটি ৬ থেকে ৭ টন পর্যন্ত উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি গবেষকরা।

একইভাবে গমের উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৩.৫ টন থেকে ৪.৫ টন, ভুট্টার উৎপাদন ৮ টন থেকে ১০-১২ টন এবং আলুর উৎপাদন ২৫ টন থেকে ৩০-৩৫ টন পর্যন্ত বাড়তে পারে।

পদ্মা পাড়ের জেলা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের সংসদ সদস্য ও সরকারের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নে বুক বেঁধে আছে পদ্মা পাড়ের জনগণ। তারা এই প্রকল্পের সুফল পেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে রাজবাড়ীসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪ জেলার জনগণ বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ছাড়া এ প্রকল্প কখনোই হয়তো পাস হত না। ইতোমধ্যে এ প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। এজন্য তিনিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদনে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এখন আর কোনো স্বপ্ন নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা পাড়ের জেলাগুলোতে নদী ভাঙন, আকস্মিক বন্যা এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নদী ব্যবস্থাপনার আধুনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিসংকট দূর করতে এবং মৃতপ্রায় নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ মেগা প্রকল্পের কাজ ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। কৃষকের আয় গড়ে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪১ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রতিবছর বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে কয়েকশ হেক্টর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। গত দুই দশকে পদ্মা নদী বিধৌত বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে।

পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবার প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের আওতায় নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম, তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর প্রবাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নদীভাঙনের হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জিওব্যাগ, কংক্রিট ব্লক ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন পরিকল্পনায় অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রিত পানি প্রবাহ এবং দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হলে বন্যার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে নদীর পানিধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া নদী ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষকে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে হাজার হাজার কোটি টাকার কৃষি উৎপাদন, সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বসতভিটা রক্ষা পাবে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, এ মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি, শিল্প, পরিবহন, বিপণন এবং সেবা খাত মিলিয়ে লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে কৃষিযন্ত্র, বীজ, সার, কীটনাশক, কৃষিপণ্য পরিবহন ও বিপণন খাতেও নতুন বিনিয়োগ বাড়বে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় গুদামজাতকরণ, হিমাগার এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের চাহিদাও বাড়বে। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্পে প্রতি ১ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ২০ থেকে ৩০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। সেই হিসেবে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে এক থেকে দুই লাখ অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহও বাড়বে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নাঈম/