বইমেলা পরিচালনা কমিটি আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা আয়োজনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা 'আত্মঘাতী', 'অগণতান্ত্রিক' ও 'বাস্তবতাবিবর্জিত' বলে উল্লেখ করেছেন মূলধারার প্রকাশকরা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমির সংবাদ সম্মেলনের পরে প্রথম সারির ১২ জন প্রকাশক যৌথ বিবৃতি পাঠান গণমাধ্যমে৷
প্রকাশকদের প্রতিনিধিরা হলেন-আহমদ পাবলিশিং হাউজের প্রকাশক মেছবাহউদ্দীন আহমদ, কাকলীর প্রকাশক এ.কে নাসির আহমেদ, অন্যপ্রকাশের প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম, অনন্যার প্রকাশক মনিরুল হক, অ্যাডর্ন প্রকাশনের প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন, ইতি প্রকাশনের প্রকাশক ও অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬–এর সদস্য মো. জহির দীপ্তি, ইউপিএলের প্রকাশক ও একই কমিটির সদস্য মাহরুখ মহিউদ্দীন, আদর্শ প্রকাশনের প্রকাশক ও কমিটির সদস্য মাহাবুব রাহমান, প্রথমা প্রকাশনের পাণ্ডুলিপি সমন্বয়ক মো. মোবারক হোসেন, লাবনী প্রকাশনের প্রকাশক ইকবাল হোসেন সানু, শোভা প্রকাশের প্রকাশক মিজানুর রহমান এবং শব্দশৈলীর প্রকাশক ইফতেখার আমিন।
তারা বলেন, বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ শত শত প্রকাশকের প্রাণের দাবি ও অস্তিত্বের সংকটকে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে 'অমর একুশে বইমেলা ২০২৬' শুরুর যে ঘোষণা দিয়েছে, আমরা সৃজনশীল প্রকাশকরা তাতে গভীর বিস্ময় ও চরম হতাশা প্রকাশ করছি।
দেশের সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্পের সিংহভাগ অংশীজনের যৌক্তিক দাবি ও রূঢ় বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে আমরা 'আত্মঘাতী', 'অগণতান্ত্রিক' ও 'বাস্তবতাবিবর্জিত' বলে মনে করি।
বিবৃতিতে প্রকাশকরা অভিযোগ করেন এর আগে বাংলা একাডেমি ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বইমেলা আয়োজনের যে ঘোষণা দিয়েছিল, নির্বাচন লগ্নের বাস্তবতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমর্থন না থাকায় সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। এখন আবার কোনো অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা না করেই তড়িঘড়ি করে ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে-যা প্রকাশকদের জন্য 'মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা' হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলা একাডেমি ঈদের পরে (এপ্রিল মাসে) মেলা আয়োজনে ঝড়-বৃষ্টি ও গরমের যুক্তি দেখিয়েছে।
প্রকাশকরা এ যুক্তি অগ্রাহ্য করে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের 'সম্ভাবনার চেয়ে চোখের সামনে দেখা দেওয়া 'নিশ্চিত মানবিক ও বাণিজ্যিক বিপর্যয়' অনেক বেশি ভয়ের।
তারা বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি রোজার দিনে বইমেলা শুরু হলে পাঠক ও দর্শনার্থীরা মেলায় আসবেন না-এটাই ধ্রুব সত্য। পাঠক ও ক্রেতা ছাড়া বইমেলা কেবল একটি 'নিষ্প্রাণ সরকারি আনুষ্ঠানিকতা' ছাড়া আর কিছুই হবে না।
গত দেড় বছরে কাগজ ও উপকরণের দাম বৃদ্ধি এবং বিক্রয় মন্দায় প্রকাশনা শিল্প এমনিতেই ধুঁকছে। এই সময়ে জোর করে একটি ব্যর্থ মেলা চাপিয়ে দিয়ে প্রকাশকদের নিশ্চিত লোকসানের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলেও প্রকাশকরা অভিযোগ করেন৷
ইতোমধ্যে ৩২টি প্যাভিলিয়ন ও ১৫২টি স্টলের স্বনামধন্য প্রকাশকরা লিখিতভাবে রোজার মধ্যে মেলা না করার এবং ঈদের পরে মেলা আয়োজনের পক্ষে সম্মতি ও স্বাক্ষর প্রদান করেছেন। এছাড়াও আজকে আয়োজিত এক জুম মিটিংয়ে উপস্থিত সমস্ত প্রকাশক তাদের পূর্বের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাই এই বিশাল অংশকে বাদ দিয়ে মেলা আয়োজন করলে তা ইতিহাসের অন্যতম 'ব্যর্থ ও কলঙ্কিত আয়োজন' হিসেবে গণ্য হবে বলে প্রকাশকরা বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন৷
জয়ন্ত সাহা/এসএন