ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর , ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা টিভিতে আজকের খেলা দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ‘মুখ বন্ধ রাখতে’ বললেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ যেভাবে নির্ধারিত হবে সেরা ৮ ‘তৃতীয় দল’ কুড়িগ্রামে ট্রাক উল্টে রেলপথে, ভোগান্তিতে ট্রেনের যাত্রীরা বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে দর্শকদের দুয়োধ্বনি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৮ হাজার ৬৩৯ জন বাংলাদেশি জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমিই বস’ লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা আদিতমারীতে শিশু নন্দিনী হত্যার দায় স্বীকার পাওনা টাকার বিরোধেই খুন হন আরিফ আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম ইরানের সঙ্গে চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কলম্বিয়ার শুভ সূচনা ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনি ধর্ষণ-হত্যার বর্ণনা দিলেন ৪ ধর্ষক গ্রাহক আস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় সাফল্যের চূড়ায় পূবালী ব্যাংক ১৩ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল? মেসি-দ্যুতিতে রঙিন বিশ্ব ভুল পরিকল্পনায় ঝুলে গেল মন্ত্রীদের জন্য মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প মেসিতে মাতাল বিশ্ব বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু কুমিল্লায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২ বিশ্বকাপে অভিষেকেই বিরল ভৌগোলিক কৃতিত্ব উজবেকিস্তানের ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান শেষ মুহূর্তের ইরেনকির গোলে পানামাকে হারিয়ে ঘানার জয়; খেলোয়াড়দের রেটিং দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে
Nagad desktop

আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: তারেক রহমান

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: তারেক রহমান
বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেন তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়। আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সারা দেশে জুয়া ও মাদক বিস্তারের অন্যতম কারণ আইনশৃঙ্খলার অবনতি। সুতরাং জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে সব রকমের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার। 

বক্তব্যের শুরুতে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় এবং গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই যাত্রালগ্নে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক অভিনন্দন জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘হাজারও প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। তাঁবেদার মুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দেশে স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের কারণেই দেশে আবার মানুষের অধিকার, সম্মান এবং মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’ 

দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটি বার্তা দিতে চাই, মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান তথা দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এই দেশকে আমরা একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই। একটি স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য।’ 
রমজানকে মুনাফা লাভের মাসে পরিণত না করার আহ্বান 

রামজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসকে মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত না করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীকে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। আমরা যদি আত্মশুদ্ধি শব্দটির মর্মার্থ উপলব্ধি করি, তাহলে এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়। যদিও আমাদের অনেকের মধ্যেই এই মাসটিকে ঘিরে ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষণীয়। দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।’ 

তারেক রহমান বলেন, হাজারও প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিএনপি সরকার সবক্ষেত্রেই অনাচার-অনিয়মের সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর, ইনশাআল্লাহ।

ক্রেতা-বিক্রেতা-গ্রহীতা, এই সরকারের শক্তি বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষুদ্র মাঝারি কিংবা ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীর প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ এবং স্পষ্ট। সরকার ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা, উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায়। সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হবে, এই ব্যাপারে আপনাদের যেকোনো ধরনের পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। এই সরকার আপনাদেরই সরকার। 

নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ 

রমজান মাসে বিশেষ করে ইফতার তারাবি সাহরি, এই সময়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় অফিস আদালতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস বিদ্যুৎ পানি খরচের ব্যাপারে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপচয় রোধ করে কৃচ্ছ্রসাধন প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। 
বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনসাধারণের প্রতি কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানানোর আগে আমি সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপির এমপিদেরকে দিয়েই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি। আমি বলেছিলাম, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপি সরকার মহানবীর ‘ন্যায়পরায়ণতার’ আদর্শ অনুসরণ করবে। আমি মনে করি, বিএনপির সংসদীয় দলের এইসব সিদ্ধান্ত ‘ন্যায়পরায়ণতার’ আদর্শেরই প্রতিফলন। 

রেল যোগাযোগ ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। মানুষ তার নিজ জেলায় কিংবা নিজের বাসা বাড়িতে থেকেও যাতে সহজভাবে সঠিক সময়ে অফিস আদালত ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারেন, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সারা দেশে রেল যোগাযোগব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমেই রেল, নৌ-সড়ক এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, সারা দেশে রেল যোগাযোগব্যবস্থার সহজ সুলভ এবং নিরাপদ করা গেলে একদিকে যেমন জনগণের শহর-নগরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমবে অপরদিকে পরিবেশেরও উন্নতি হবে।

তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন। হাটে মাঠে ঘাটে অফিস আদালতে জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। জনজীবনের নানা ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ লাঘব করা না গেলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে না।’ 

যুবশক্তিকে সব রকমের সহযোগিতা করবে সরকার 

তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমাদের চারপাশে সমস্যার শেষ নেই। তবে সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে যদি আমরা দক্ষজনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি, তাহলে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। আমরা নিজেদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে শুধু বাংলাদেশই নয় বিশ্ব বাজারও আমাদের জন্য উন্মুক্ত।’’ 

সরকারপ্রধান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সিঁড়ি বেয়ে বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। প্রযুক্তির এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মান এবং সচ্ছলতার সঙ্গে টিকে থাকতে হলে আমাদেরকে কোনো না কোনো একটি বিষয়ে বা কাজে পারদর্শী হতে হবে। দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী এবং তরুণ যুবশক্তির উদ্দেশে বলতে চাই, মেধায় জ্ঞানে-বিজ্ঞানে নিজেদেরকে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য যত রকমের সহযোগিতা দেওয়া যায়, সব রকমের সহযোগিতা দিতে বর্তমান সরকার প্রস্তুত। কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে।

সরকারের প্রতি সবার অধিকার সমান

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে গত বছর ২৫ ডিসেম্বর আমি বলেছিলাম, দেশ এবং জনগণের জন্য ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে আমার ‘প্ল্যান পরিকল্পনা’র অনেক কিছুই আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আপনারা স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়েছেন। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সব অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের। আমরা আমাদের পরিকল্পনা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি, ইনশাআল্লাহ। অঙ্গীকার পূরণের এই যাত্রাপথে আমরা ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও আপনাদের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করি।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি অথবা কাউকেই ভোট দেননি, এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দলমত ধর্ম-দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই দেশে প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান।’

শফিক/

 

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৮ হাজার ৬৩৯ জন বাংলাদেশি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:১০ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:১৪ এএম
হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৮ হাজার ৬৩৯ জন বাংলাদেশি
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৬৩৯ জন বাংলাদেশি হাজি নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) হজ বুলেটিন থেকে জানা যায়, তিনটি নির্ধারিত বিমান সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ সময় ১৮ জুন রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ১৪৫টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। 

সূত্র জানায়, হাজিদের ফিরিয়ে আনতে দেশের তিনটি নির্ধারিত বিমান সংস্থা নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সর্বোচ্চ ৭২টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫২টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। ফেরত আসা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে ৫৪ হাজার ৩২০ জন রয়েছেন। 

চলতি বছর হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৫২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন, যার মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী। স্থানভেদে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৪ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা যান। এছাড়া, অসুস্থতার কারণে সৌদির বিভিন্ন হাসপাতালে ৪১৫ জন বাংলাদেশি চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১৬ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মক্কা-মদিনার মেডিকেল সেন্টার ও আইটি হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে যথাক্রমে ৬৫ হাজার ৮৮৮ জন এবং ২৮_১৬৭ জন হাজিকে বিভিন্ন জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ১৭ এপ্রিল ৪১৮ জন যাত্রী নিয়ে বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ে এবং ২১ মে প্রাক-হজ কার্যক্রম শেষ হয়। হজ সমাপন শেষে গত ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলমান থাকবে। 

অন্তরা/

নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:২৬ এএম
নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ
ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ (দিমেক) হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। একই কমিটিতে সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে।

বুধবার (১৭ জুন) রাতে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শেখ সাদেক আলী গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানিয়েছেন, বুধবার (১৭ জুন)স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি পত্র পেয়েছেন তিনি। 

পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সোমবার(১৫ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং সহসভাপতি নিয়োগ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপ-সচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সভাপতি ও সহসভাপতি হিসেবে তাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

অন্তরা/

১৩ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম
১৩ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকাসহ দেশের ১৩ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এই পূর্বাভাস জানানো হয়েছে।  

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্তরা/

তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি সংরক্ষণে নতুন একটি ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৮ জুন) প্রথম বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এমপিদের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান।

এ সময় দ্রুত ও নিরাপদ রেলযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রধান প্রধান রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু, আগামী পাঁচ বছরে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের ইনস্টিটিউটে রূপান্তর এবং হজের ব্যয় কমাতে সরকারের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

গতকাল বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লিখিত জবাব টেবিলে উত্থাপন করা হয়। এদিন রাষ্ট্রীয় কাজে সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে থাকায় তিনি অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য আরও একটি ব্যারাজ নির্মাণের লক্ষ্যে কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনায় ১১০ কিলোমিটার নদীশাসন, ১১০ কিলোমিটার ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব রয়েছে।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধান প্রধান রেলপথে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বা বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড, মাল্টিমোডাল পরিবহনব্যবস্থা এবং স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন, কর ফাঁকি রোধ এবং এআইভিত্তিক সেবা চালুর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এ হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে ইপিআই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। টিকা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলামের প্রশ্নে তিনি জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখিত ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। সরকার বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা দিতে বদ্ধপরিকর।

গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হজের ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা হবে। সেই লক্ষ্যে সরকার কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালে হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। ২০২৬ সালে হজের ব্যয় ১১ হাজার ৭৫ টাকা কমানো হয়েছে, যার সুফল হজযাত্রীরা পেয়েছেন এবং ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ মূল্য আরও যৌক্তিক করার চেষ্টা করা হবে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ বেশি বন্দি রয়েছে। তিনি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৩০ হাজার ৭৪৪টি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৯ হাজার ৬৮৫ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৯ হাজার ২৫১টি মামলা করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলাদেশে অবৈধভাবে লোকজন ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) ৩৬টি চেষ্টা প্রতিরোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের পুশইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর, ১১ জনকে বিএসএফের কাছে ফেরত এবং ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সীমান্তে পুশইন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি, লোকেশন ট্র্যাকিং ও সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর আধুনিকায়নও চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে সরকার বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং, উঠান বৈঠক, বিশেষ অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাদের তৎপরতার ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

এদিকে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘চানাচুরের মতো বাজেট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি শুনতে ভালো লাগলেও বাস্তবে জনগণের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে না।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের আগেই দেশটিতে শ্রমিক নিয়োগে সিন্ডিকেটব্যবস্থা বিলুপ্ত এবং প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে অভিবাসী শ্রমিকদের সংগঠন মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক (এমডব্লিউএন)। গতকাল বুধবার(১৭ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সচিব নিরঞ্জন।

সাত দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্তমান বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সমঝোতা স্মারক বাতিল করে বাধ্যতামূলক দ্বিপক্ষীয় শ্রম চুক্তি স্বাক্ষর, নিয়োগ সিন্ডিকেট বিলুপ্তি, তালিকাবহির্ভূত শ্রমিকদের বৈধতার আওতায় আনা, শোষণের শিকার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায়, পাসপোর্ট জব্দ ও জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে অভিবাসী শ্রমিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

নিরঞ্জন জানান, মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসন সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, শোষণ ও দুর্নীতি চলে আসছে। মালয়েশিয়া ১৪টি উৎস দেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ করলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্বাচিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সীমিত ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এই একচেটিয়া পদ্ধতি কৃত্রিমভাবে অভিবাসন ব্যয় বাড়িয়েছে এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করেছে। অনেক শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যেতে প্রায় ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে বাধ্য হন, যেখানে সরকার নির্ধারিত ব্যয় মাত্র ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকেই উচ্চ সুদে ঋণ নেন বা পারিবারিক সম্পদ বন্ধক রাখতে বাধ্য হন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রম অভিবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে। ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের শোষণ ও অপরাধ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বরও একই ধরনের উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা নানা ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হন। এর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট জব্দ করে রাখা, বেতন না দেওয়া বা কম দেওয়া, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, অস্বাস্থ্যকর আবাসন, মিথ্যা চাকরির প্রতিশ্রুতি, অনিয়মিত আউটসোর্সিং কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে জটিলতা এবং স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার। অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় গেলেও পরবর্তী সময়ে নিজেদের কোনো দোষ ছাড়াই ডকুমেন্টসবিহীন হয়ে পড়েন। ফলে তারা আটক, চাঁদাবাজি, বহিষ্কার এবং জোরপূর্বক শ্রমের ঝুঁকিতে পড়েন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দিনের সফরে আগামী ২১ জুন মালয়েশিয়া যাচ্ছেন।