প্রকাশনা শিল্পে বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছেন প্রকাশকরা। এ ছাড়া সৃজনশীল বইয়ের বাজার প্রসারে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও সরকারি ক্রয় বাজেট বৃদ্ধির দাবি জানান তারা।
অমর একুশে বইমেলা আয়োজন ও প্রকাশনা শিল্পের বিদ্যমান সংকট নিরসনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘প্রকাশক ঐক্য’।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশকরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে তাদের পক্ষ থেকে তোলা দাবিগুলো কোনোভাবেই মেলা কর্তৃপক্ষ বা পাঠকদের বিপক্ষে ছিল না। বরং মেলার মাঠে কাঠামোগত বৈষম্য দূর করা এবং সর্বস্তরের প্রকাশকদের সমঅধিকার নিশ্চিত করতেই তারা একতাবদ্ধ হয়েছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, 'আমাদের এই ঐক্যের মূল ভিত্তি ছিল শতভাগ ন্যায্যতা। সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্পের মর্যাদা রক্ষা এবং প্রস্তুতির চরম সময়স্বল্পতা সত্ত্বেও মেলার বৃহত্তর স্বার্থে আমরা বাংলা একাডেমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।'
প্রকাশনা শিল্পকে জাতির মনন গঠনের প্রধান হাতিয়ার উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই খাতের বিকাশে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নজরদারি প্রয়োজন। অতীতের স্মৃতিচারণ করে প্রকাশকরা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়কালে শিল্প-সংস্কৃতি ও মেধার স্বীকৃতি হিসেবে বই উপহার দেওয়ার যে রেওয়াজ শুরু হয়েছিল, তা এই শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছিল।
আসন্ন বইমেলার উদ্বোধন করতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে প্রকাশকরা তার কাছে দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেন-
পুরস্কার হিসেবে বই:
স্কুল-কলেজের বার্ষিক প্রতিযোগিতাসহ রাষ্ট্রীয় সব অনুষ্ঠানে পুরস্কার হিসেবে ‘সৃজনশীল বই’ প্রদানের বিষয়ে সুস্পষ্ট সরকারি নির্দেশনা।
বাজেট বৃদ্ধি:
সরকারিভাবে বই ক্রয়ের বাজেট দীর্ঘ বছর ধরে স্থবির হয়ে আছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে এই বাজেট বাস্তবসম্মতভাবে বৃদ্ধি করা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নানাবিধ ব্যবসায়িক ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রকাশকরা মেলাকে সফল ও প্রাণবন্ত করতে বদ্ধপরিকর। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের নেতৃত্বে সৃজনশীল প্রকাশকদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও দাবিগুলো বাস্তবায়িত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আহমেদ পাবলিশিং হাউসের মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, অনন্যার প্রকাশক মো. মনিরুল হক, কাকলীর প্রকাশক এ কে নাসির আহমেদ সেলিম, অ্যাডর্নের সৈয়দ জাকির হোসেন, আদর্শের প্রধান নির্বাহী মাহাবুব রহমান, বাতিঘরের দীপঙ্কর দাশসহ আরও অনেকে।
জয়ন্ত/রিফত/