ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম ইরানের সঙ্গে চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কলম্বিয়ার শুভ সূচনা ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনি ধর্ষণ-হত্যার বর্ণনা দিলেন ৪ ধর্ষক গ্রাহক আস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় সাফল্যের চূড়ায় পূবালী ব্যাংক ১৩ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল? মেসি-দ্যুতিতে রঙিন বিশ্ব ভুল পরিকল্পনায় ঝুলে গেল মন্ত্রীদের জন্য মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প মেসিতে মাতাল বিশ্ব বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু কুমিল্লায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২ বিশ্বকাপে অভিষেকেই বিরল ভৌগোলিক কৃতিত্ব উজবেকিস্তানের ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান শেষ মুহূর্তের ইরেনকির গোলে পানামাকে হারিয়ে ঘানার জয়; খেলোয়াড়দের রেটিং দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে পঞ্চম ব্যালন ডি’অর বিজয়ী হলেন ফাবিও ক্যানাভারো বিশেষ ‘লেগাসি’ ব্যাজ পরে মাঠে নামলেন রোনালদো, মেসি ও মদ্রিচ গ্রুপসেরার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে পুলিশ দম্পতির নির্যাতন আমানত ফিরে পাওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামে ‘রোডমার্চ’ ময়মনসিংহ বিভাগ: নীরবে বাড়ছে এইচআইভির বিস্তার বরিশালে ভুয়া ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি
Nagad desktop

জ্বালানিসংকটে আয়-রোজগারে টান

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৩ এএম
জ্বালানিসংকটে আয়-রোজগারে টান
ছবি: খবরের কাগজ

জ্বালানিসংকটের বিরূপ প্রভাব পড়ছে জীবন-জীবিকায়। জ্বালানি তেলের মাধ্যমে যাদের জীবন-জীবিকা চলে, তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। এ সংকটের কারণে তাদের আয়-রোজগারেও টান পড়েছে। কৃষিতে ফসলের সেচ, যানবাহন চলাচল, শিল্প-কারখানার উৎপাদন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে দেখা দিচ্ছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রায় সব ধরনের জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে কৃষিপণ্য অর্থাৎ শস্য উৎপাদনে সেচ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যাপ্ত পেট্রল-অকটেন না পাওয়ায় পাঠাও-উবারের মতো রাইডশেয়ারিং সার্ভিস ব্যাহত হচ্ছে, যা তাদের প্রতিদিনের রোজগারে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে ছোট-বড় কারখানার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জেনারেটরের ডিজেল ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কারখানার উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বাসাবাড়ি বা রেস্টুরেন্টসহ নানা ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এলপিজি বা গ্যাসের সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে এলপিজি গ্যাসের দামও কোথাও কোথাও সংকটের সুযোগে অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। পাশাপাশি গতকাল রাজধানীর একাধিক সিএনজি স্টেশনে গ্যাস ছিল না বলেও জানা যায়। 

রাজধানীর মেরুল বাড্ডার সবজি ব্যবসায়ী স্বপন দত্ত গতকাল খবরের কাগজকে বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বাজারসহ সবখানে তার প্রভাব পড়েছে। শাকসবজির দামে আগুন লেগেছে। পটোল, ঢ্যাঁড়স, ঝিঙ্গা, বেগুনসহ সব সবজির পাইকারি দামই এখন ১০০ টাকার কাছাকাছি।

কারওয়ান বাজারের একাধিক আড়তদার বলেছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। তাই আড়তে আসা ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম চড়াচ্ছেন। এতে খুচরা ক্রেতারা বিপাকে পড়ছেন। তবে সার্বিকভাবে কেনাবেচাও কমে যাচ্ছে। 

অন্যদিকে মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন জানান, সাড়ে ১২ কেজির এলপিজির সিলিন্ডার এখন স্থানীয় বাজারের দোকানে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহে এই সিলিন্ডার পাওয়া গেছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। যদিও সরকারি রেট বা নির্ধারিত মূল্য আরও কম। কিন্তু প্রায় বেশির ভাগ দোকানেই সরকারি রেটে সিলিন্ডার বিক্রি করা হয় না। এর মাঝে জ্বালানিসংকট বাড়তে থাকলে বাসাবাড়িতে রান্নাও বন্ধ হতে পারে।

রাজধানীসহ সারা দেশেই জ্বালানির বিরূপ প্রভাবে কমবেশি প্রায় একই রকম চিত্র বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। খবরের কাগজের নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যুরোপ্রধান ও জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা গেছে প্রায় অভিন্ন তথ্য। 

চট্টগ্রামে রাইডশেয়ারিং খাতে নেমে এসেছে অচলাবস্থা
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চট্টগ্রাম নগরীতে রাইডশেয়ারিংয়ে মোটরসাইকেল চালান। দীর্ঘ সময়ে পথ চলার মধ্যে কখনো এভাবে জ্বালানিসংকটে পড়তে হয়নি। কখনো দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হয়নি। এবারই চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হলো তাকে। আলাপকালে গতকাল তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘অনেকেই প্রয়োজন ছাড়াই বাইকের ট্যাংকি ভর্তি করে রাখছেন তেল। তাদের কারণে যাদের প্রয়োজন তারা তেল পাচ্ছেন না।’ 

শুধু জাহিদুল ইসলাম নন, তার মতো চট্টগ্রামের হাজারও বাইক রাইডারের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে জ্বালানিসংকট। দেশজুড়ে চলমান জ্বালানিসংকটের কারণে রাইডশেয়ারিং খাতে নেমে এসেছে অচলাবস্থা। বিশেষ করে মোটরসাইকেলভিত্তিক রাইডশেয়ারিং সেবার সঙ্গে যুক্ত হাজারও চালকের চোখে অন্ধকার। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা শুধু জ্বালানি সংগ্রহের পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে চালকদের। এতে করে কর্মঘণ্টা কমে যাচ্ছে এবং যাত্রীসেবা দেওয়া ব্যাহত হচ্ছে। 

চালকরা জানিয়েছেন, আগে যেখানে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করে ভালো আয় করা যেত, এখন সেখানে অর্ধেক সময়ই চলে যাচ্ছে জ্বালানি সংগ্রহে। তারা বলছেন, তেলের জন্য ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে ব্যাপক। ফলে আয় করবেন কখন, সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে বেকারত্ব বাড়ার কারণে রাইডশেয়ারিংয়ের চালকদের সংখ্যাও বাড়ছে। তাদের মতে, জ্বালানিসংকট দীর্ঘায়িত হলে এই পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

রংপুরে ডিজেলসংকটে বোরো উৎপাদন হুমকির মুখে
জ্বালানি তেলের সংকটে রংপুর অঞ্চলে ব্যাহত হচ্ছে বোরো ধানের সেচ কার্যক্রম। ফলে দুশ্চিন্তা বাড়ছে কৃষকদের। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ডিজেলনির্ভর কৃষিব্যবস্থায়। 
কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো ডিজেল না পাওয়া, সীমিত সরবরাহ এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদে অতিরিক্ত খরচের চাপ তৈরি হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তবে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্প ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদনে মনোযোগী হলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বলে মনে করেন কৃষকরা।

মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৩০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক একর জমিতে মাটির ধরন অনুযায়ী বোরো চাষে ১৫ থেকে ২০ বার সেচ দিতে হয়। এতে প্রয়োজন হয় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লিটার ডিজেল। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই ডিজেলসংকটের কারণে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

গত শুক্রবার রংপুর-পার্বতীপুর সড়কে খালেক তেল পাম্পে কথা হয় নওশাদ আলীর সঙ্গে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘দুইটা-তিনটা তেলের পাম্প ঘুরলাম শেষে ৩ নম্বর তেল পাম্প এসে দুই লিটার ডিজেল পাইলাম। ২০০ টাকার ডিজেল নিতে আমার যাতায়াত খরচ ১২০ টাকা। এই তেলে ৪ ঘণ্টাও মেশিন চলবে না। এবার যে ধানের কী হবে, তা আল্লাহ ভালো জানেন।’

গত শুক্রবার রংপুর-পার্বতীপুরের সাতটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, এর মধ্যে চারটি পাম্পই বন্ধ। কোনো লোকজন নেই। তেল নিতে এসে লোকজন ফিরে গেছেন।

খালেক পেট্রলপাম্পের ব্যবস্থাপক জানান, যারা ডিজেলের জন্য আসছেন তাদের দুই থেকে পাঁচ লিটার পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। তেল থাকলে যেকোনো সময়ে এসে নিতে পারবে।

রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমরা পাম্প থেকে ঠিকমতো ডিজেল পাচ্ছি না। প্রতি মেশিনে দুই লিটারের বেশি দিচ্ছে না। ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা হলেও তা সংগ্রহ করতে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ১০০ টাকা পরিবহন খরচ লাগছে। এতে আমাদের লাভ তো দূরের কথা, খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে যাবে।’ 

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলে ডিজেলসংকটে কিছুটা সমস্যা হলেও গুরুতর সমস্যা আমাদের চোখে পড়েনি। প্রকৃতি আমাদের কিছুটা ভালো অবস্থায় রেখেছে।’

চুয়াডাঙ্গায় ‘ফুয়েল কার্ড’ থাকার পরও চরম ভোগান্তি 
তেলসংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার মানুষরা। বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে তেল নিতে গিয়ে না পেয়ে প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। প্রবাল কুমার দাস নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আগামীকাল আমার বাড়ি থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অফিসে যেতে হবে, অথচ শুক্র ও শনি এই দুই দিন ঘুরেও আমি তেল পেলাম না।’

আবির হোসেন নামের এক এনজিও কর্মী বলেন, ‘প্রতিদিন অন্তত ৬০ কিলোমিটার ঘুরে ঘুরে আমাকে টাকা কালেকশন করে বেড়াতে হয়। ফুয়েল কার্ড নিয়েও তেল না পাওয়ায় আমি দুই দিন কাজ করতে পারিনি। আজকে ৭ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পেলাম না। এই ফুয়েল কার্ডের মূল্য কোথায়?’

প্রায় অভিন্ন দুরবস্থা ও সংকটের অভিযোগ করেন প্রাণীর জরুরি ওষুধ নিয়ে কাজ করা মেহেদী হাসান নামে এক বিক্রয় প্রতিনিধি।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিক উজ জামান বলেন, গতকাল কার্ড ছাড়া তেল দেওয়ায় কয়েকটি পাম্পে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসন কাউকে কোনো ছাড় দেবে না।

গোপালগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকটে সেচ বন্ধের শঙ্কা
গোপালগঞ্জে তীব্র জ্বালানিসংকটে কৃষি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ডিজেলের অভাবে সেচ দিতে না পেরে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন কৃষকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করেও মিলছে না প্রয়োজনীয় তেল। এতে ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে এবং বাজারে কঠোর নজরদারি না বাড়ালে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের কৃষি বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।

জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক নেই। ফলে কৃষকরা সময়মতো জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। কৃষি কার্ড দেখিয়েও প্রয়োজনমতো তেল মিলছে না। এ ছাড়া বর্তমানে বোরো মৌসুম চলছে। এই সময়ে নিয়মিত সেচ প্রয়োজন। কৃষকরা বলছেন, সেচ না দিতে পারলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে। এরই মধ্যে অনেক জমিতে ধানগাছে শিষ এসেছে। কিন্তু পানি না পেলে এসব শিষ থেকে আসা ধান চিটা হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এদিকে এরই মধ্যে অনেক জমি পানিশূন্য হয়ে পড়ছে, যা পুরো মৌসুমে কৃষিকাজকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক শারফুল শরীফ বলেন, ‘প্রতিদিন আমার কমপক্ষে পাঁচ লিটার তেল দরকার। পাঁচ দিন আগে মাত্র এক লিটার তেল পেয়েছিলাম। এতে তিন-চার দিন জমিতে সেচ দিতে পারিনি। আজ আবার ভোরে পাম্পে এসেছি। ৩ ঘণ্টা পার হলেও তেল পাইনি। যদি এভাবে চলতে থাকে, আমার জমির সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে। তাহলে সারা বছর পরিবার নিয়ে চলব কীভাবে?’

অন্য কৃষক শুহিন মোল্যা বলেন, ‘তেলের অভাবে কয়েক দিন ধরে জমিতে পানি দিতে পারছি না। মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে। গাছ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত তেলের ব্যবস্থা না হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়ব। কৃষি কার্ড দিয়েও তেল পাচ্ছি না।’

কুড়িগ্রামে ডিজেলসংকটে বিপাকে জেলেরা
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের সংকট চরমে পৌঁছেছে। দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ঘাটে ইঞ্জিনচালিত নৌকার চলাচল কমে গেছে। অনেক জায়গায় নৌকা বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন চিলমারী উপজেলার জেলেরা। ডিজেলের অভাবে নৌকা চালাতে না পারায় তারা নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। এতে তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবারে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। 

এমন অবস্থায় গত মঙ্গলবার দুপুরে জেলেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তারা দীর্ঘ সময় সেখানে বিক্ষোভ করেন। পরে ইউএনও তাদের সঠিক দামে তেল দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর জেলেরা সেখান থেকে চলে যান। তবে তারা অভিযোগ করেন, ডিলারদের কাছে তেল থাকলেও তারা দিচ্ছেন না। বেশি টাকা দিলেই তেল মিলছে। প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

বেলাল হোসেন নামে এক জেলে বলেন, ‘তেল না থাকায় কয়েক দিন ধরে নদীতে যেতে পারছি না। মাছ ধরতে না পারায় আয় নেই। পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’ 

মো. আশরাফ নামে আরেক জেলে বলেন, ‘আমাদের তেমন টাকা জমানো থাকে না। যেটুকু জমানো ছিল তাও শেষ। এখন ধারদেনা করে তেল কিনতে হচ্ছে। তবু তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবার নিয়ে চিন্তায় আছি।’

নাগেশ্বরীর আয়নালের ঘাটের ইজারাদার আবু সিদ্দিক বলেন, ‘কয়েক দিন আগে কয়েকটি পাম্প ঘুরে তেল না পেয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলে কিছু তেল নিয়েছি। এখন তাও শেষ হয়ে গেছে। এতে নৌকা চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান তেলের সংকটের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার কাছে সব তথ্য আছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ডিজেলসংকটে বিপাকে আনোয়ারা উপকূলের ১৫ হাজার জেলে
প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলে ডিজেলসংকট কাটেনি। জ্বালানি তেল না পাওয়ায় মাছ ধরা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে উপজেলার অন্তত ১৫ হাজার মৎস্যজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

স্থানীয় খোলা বাজারগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে না তেল। ফলে উপকূলের শত শত ট্রলার ঘাটে অলস পড়ে আছে।

রায়পুরের জেলে আব্দুল মোনাফ বলেন, ‘আমাদের বাজারে চার থেকে পাঁচ লিটার তেল পাওয়া যাচ্ছে। এই তেল দিয়ে কতক্ষণ চলবে। আমরা এক মাস ধরে ট্রলার তীরে বেঁধে রেখেছি। তেলের সংকটের কারণে যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে।’

পূর্বগহিরা ধলঘাট এলাকার মৎস্যজীবী আবদুল আজিজ বলেন, ‘তেল না থাকায় আমাদের দুটি ট্রলার এক মাস ধরে সাগরে যেতে পারেনি। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে।’ 

আরেক জেলে সাইফুল ইসলাম জানান, মাছ শিকারই তাদের একমাত্র জীবিকা। দীর্ঘদিন সাগরে যেতে না পারায় পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

গহিরা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান জানান, জ্বালানিসংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় পুরো মৎস্য খাত স্থবির হয়ে পড়েছে।

কলাপাড়া উপকূলে ২০ হাজার জেলে পরিবারে হাহাকার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরসহ মৎস্যবন্দর মহীপুর, আলীপুর ও কুয়াকাটার জেলেরা জ্বালানি তেলের (ডিজেল) ভয়াবহ সংকটে পড়েছেন। সমুদ্রের গভীর-অগভীর এলাকায় শতকরা ৯০ ভাগ জেলে মাছ শিকার করতে পারছেন না। ফলে এসব জেলে পরিবারে চরম দুরবস্থা নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন গভীর সমুদ্রগামী জেলেরা। কারণ এসব জেলেদের একেক ট্রিপে ৬০০ থেকে ৭০০ থেকে প্রায় এক হাজার লিটার জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়। জ্বালানি তেলের সংকটে বর্তমানে গভীর সমুদ্রগামী প্রায় ২৫০ ট্রলার মহীপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরসংলগ্ন খাপাড়াভাঙ্গা নদীতে নোঙর করে আছে। অনেক ট্রলারমালিক জেলেদের বরফ, বাজার সওদা, খাবারসামগ্রী কিনে দিলেও সাত-আট দিনেও জ্বালানিসংকটে সাগরে যেতে পারছেন না। উল্টো ঘাটে বসে বসে সব রসদ শেষ হয়ে গেছে। অধিকাংশ জেলে, বোটমালিকদের একই দশা। কবে নাগাদ তারা পর্যাপ্ত জ্বালানি পাবেন, তাও কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি। 

মহীপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা জানান, এখানে দৈনিক ৫৫ থেকে ৬০ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এর এক-দশমাংশ সরবরাহ নেই। ফলে জেলে পেশায় ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি জেলেদের সাগরে যাওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ২৭ হাজার লিটার জ্বালানি তেল (ডিজেল) সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:২৬ এএম
নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ
ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ (দিমেক) হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। একই কমিটিতে সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে।

বুধবার (১৭ জুন) রাতে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শেখ সাদেক আলী গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানিয়েছেন, বুধবার (১৭ জুন)স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি পত্র পেয়েছেন তিনি। 

পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সোমবার(১৫ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং সহসভাপতি নিয়োগ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপ-সচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সভাপতি ও সহসভাপতি হিসেবে তাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

অন্তরা/

১৩ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম
১৩ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকাসহ দেশের ১৩ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এই পূর্বাভাস জানানো হয়েছে।  

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্তরা/

তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি সংরক্ষণে নতুন একটি ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৮ জুন) প্রথম বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এমপিদের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান।

এ সময় দ্রুত ও নিরাপদ রেলযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রধান প্রধান রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু, আগামী পাঁচ বছরে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের ইনস্টিটিউটে রূপান্তর এবং হজের ব্যয় কমাতে সরকারের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

গতকাল বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লিখিত জবাব টেবিলে উত্থাপন করা হয়। এদিন রাষ্ট্রীয় কাজে সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে থাকায় তিনি অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য আরও একটি ব্যারাজ নির্মাণের লক্ষ্যে কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনায় ১১০ কিলোমিটার নদীশাসন, ১১০ কিলোমিটার ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব রয়েছে।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধান প্রধান রেলপথে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বা বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড, মাল্টিমোডাল পরিবহনব্যবস্থা এবং স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন, কর ফাঁকি রোধ এবং এআইভিত্তিক সেবা চালুর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এ হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে ইপিআই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। টিকা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলামের প্রশ্নে তিনি জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখিত ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। সরকার বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা দিতে বদ্ধপরিকর।

গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হজের ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা হবে। সেই লক্ষ্যে সরকার কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালে হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। ২০২৬ সালে হজের ব্যয় ১১ হাজার ৭৫ টাকা কমানো হয়েছে, যার সুফল হজযাত্রীরা পেয়েছেন এবং ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ মূল্য আরও যৌক্তিক করার চেষ্টা করা হবে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ বেশি বন্দি রয়েছে। তিনি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৩০ হাজার ৭৪৪টি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৯ হাজার ৬৮৫ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৯ হাজার ২৫১টি মামলা করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলাদেশে অবৈধভাবে লোকজন ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) ৩৬টি চেষ্টা প্রতিরোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের পুশইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর, ১১ জনকে বিএসএফের কাছে ফেরত এবং ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সীমান্তে পুশইন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি, লোকেশন ট্র্যাকিং ও সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর আধুনিকায়নও চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে সরকার বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং, উঠান বৈঠক, বিশেষ অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাদের তৎপরতার ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

এদিকে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘চানাচুরের মতো বাজেট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি শুনতে ভালো লাগলেও বাস্তবে জনগণের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে না।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের আগেই দেশটিতে শ্রমিক নিয়োগে সিন্ডিকেটব্যবস্থা বিলুপ্ত এবং প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে অভিবাসী শ্রমিকদের সংগঠন মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক (এমডব্লিউএন)। গতকাল বুধবার(১৭ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সচিব নিরঞ্জন।

সাত দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্তমান বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সমঝোতা স্মারক বাতিল করে বাধ্যতামূলক দ্বিপক্ষীয় শ্রম চুক্তি স্বাক্ষর, নিয়োগ সিন্ডিকেট বিলুপ্তি, তালিকাবহির্ভূত শ্রমিকদের বৈধতার আওতায় আনা, শোষণের শিকার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায়, পাসপোর্ট জব্দ ও জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে অভিবাসী শ্রমিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

নিরঞ্জন জানান, মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসন সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, শোষণ ও দুর্নীতি চলে আসছে। মালয়েশিয়া ১৪টি উৎস দেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ করলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্বাচিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সীমিত ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এই একচেটিয়া পদ্ধতি কৃত্রিমভাবে অভিবাসন ব্যয় বাড়িয়েছে এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করেছে। অনেক শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যেতে প্রায় ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে বাধ্য হন, যেখানে সরকার নির্ধারিত ব্যয় মাত্র ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকেই উচ্চ সুদে ঋণ নেন বা পারিবারিক সম্পদ বন্ধক রাখতে বাধ্য হন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রম অভিবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে। ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের শোষণ ও অপরাধ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বরও একই ধরনের উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা নানা ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হন। এর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট জব্দ করে রাখা, বেতন না দেওয়া বা কম দেওয়া, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, অস্বাস্থ্যকর আবাসন, মিথ্যা চাকরির প্রতিশ্রুতি, অনিয়মিত আউটসোর্সিং কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে জটিলতা এবং স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার। অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় গেলেও পরবর্তী সময়ে নিজেদের কোনো দোষ ছাড়াই ডকুমেন্টসবিহীন হয়ে পড়েন। ফলে তারা আটক, চাঁদাবাজি, বহিষ্কার এবং জোরপূর্বক শ্রমের ঝুঁকিতে পড়েন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দিনের সফরে আগামী ২১ জুন মালয়েশিয়া যাচ্ছেন।

‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে
ছবি: সংগৃহীত

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন নির্ধারিত অনুষ্ঠানমালা বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের লক্ষ্যে তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। 

সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানমালা জুনের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী সময়সূচি যথাসময়ে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হবে।