ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বৃহত্তর কুষ্টিয়ার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আব্দুল জলিলের স্মরণসভা ইবি ছাত্রদলে পদ পাচ্ছে ছাত্রলীগ কর্মীরা! প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুদের থেকে ফি আদায় প্রসঙ্গে গাজীপুরে তেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট রাজশাহীতে অটো ভাড়া বৃদ্ধি তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, পরবর্তী কর্মসূচি ‘ঢাকা ঘেরাও’ নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল: ভোক্তার অধিকার কোথায়? আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী গাজী গিয়াস উদ্দিনকে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয় আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করুন নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু ছত্রিশ-চব্বিশের পরকীয়া নিয়ে তুলকালাম মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে? রংপুরে নিখোঁজের এক দিন পর পাটখেতে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা নিয়োগ দেবে ব্যাংক এশিয়া জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে প্রাণ ডেইরী ও এটিইসি খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত জামালপুরে পুলিশের চাকরি দেওয়ার চুক্তি, ২ প্রতারক গ্রেপ্তার সাঙ্গু নদে নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মেলেনি ১৬ ঘণ্টায়ও

দেশজুড়ে লোডশেডিং, জনজীবনে তীব্র ভোগান্তি

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম
আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২০ এএম
দেশজুড়ে লোডশেডিং, জনজীবনে তীব্র ভোগান্তি
ছবি: সংগৃহীত

গরমের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। কিন্তু উৎপাদন ঘাটতির কারণে সেই চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। ফলে দেশে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক খারাপ। জেলা পর্যায়ে কোথাও ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বা এর চেয়েও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানা গেছে। সারা দেশে তীব্র লোডশেডিং ইতোমধ্যে জনজীবনে ভয়াবহ দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

জেলা শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। ফলে দিনের বড় একটি সময়জুড়ে বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। প্রচণ্ড রোদে ও তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, অফিস-আদালতের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষিজীবীরা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। 

বিদ্যুৎনির্ভর ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন চালাতে পারছে না। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ না থাকায় কলকারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় ফসল উৎপাদন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই সংকট দীর্ঘ মেয়াদে আরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও অদক্ষতায় হচ্ছে ঘাটতি
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানিসংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে ৩৩টি কেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সচল থাকা বাকিগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট হলেও বাস্তবে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না, যার প্রধান কারণ জ্বালানিসংকট।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি গ্রীষ্মে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের এই বিশাল ব্যবধান লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পিজিসিবি ও পিডিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তীব্র গরমের এই মৌসুমে চাহিদার সময় সারা দেশে লোডশেডিং ১ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, অনেক এলাকায় ৩০ থেকে ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করা হচ্ছে।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। খুলনা, ঘোড়াশাল, হরিপুর, মেঘনাঘাট, আশুগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ এবং বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন ইউনিট জ্বালানিসংকট বা রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলের তীব্র সংকটে ভুগছে। ঢাকা অঞ্চলে ৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও জ্বালানিসংকটের কারণে সেগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে সিলেট বিভাগে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গতকাল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আজ সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এপ্রিল থেকে জুন–এই সময়ে দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে যায়। তবে এবার বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি খারাপের দিকে যাচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সামনের দিনগুলোতে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা চলছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন বলেও তারা স্বীকার করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মত: শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) এর সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিপাদ্য ছিল ‘জ্বালানিসংকট এবং পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নগরায়ণ ও উন্নয়ন ভাবনা’। আইপিডির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে একাধিক সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে–নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, সোলারসহ বিকল্প জ্বালানির উৎসে অর্থায়ন বাড়াতে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ও উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা কাজে লাগাতে হবে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে কর-সুবিধা ও ভর্তুকি প্রদান এবং গ্রামীণ পর্যায়ে মাইক্রোফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে সৌরপ্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো প্রয়োজন।

সংলাপে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকায় জ্বালানির চাহিদা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি, যা একটি বৈষম্য তৈরি করছে। এই বৈষম্য কমাতে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা করতে হবে। উন্নয়ন বাজেটের মতো বিদ্যুৎ বরাদ্দেও বৈষম্য রয়েছে, যা দেশের উন্নয়নকে এককেন্দ্রিক করে তুলছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে তথ্যনির্ভর পরিকল্পনা, জবাবদিহি ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর শিক্ষক ও আইপিডির রিসার্চ ফেলো কে এম আসিফ ইকবাল বলেন, গ্রামে এখন বিদ্যুৎ কেবল মাঝে মাঝে আসে। বিগত সরকার সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের নীতি নিয়েছিল। অথচ গোষ্ঠীস্বার্থে বসিয়েছিল সৌরবিদ্যুৎ উপকরণের ওপর চড়া কর। সেটা ছিল বড় প্রহসন।

আইপিডি রিসার্চ ফেলো ড. ফরহাদুর রেজা বলেন, বিশ্বব্যাপী ভবনের টেকসই ডিজাইনের মাধ্যমেই জ্বালানির ৪০-৫০ শতাংশ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়, তাই গ্রিন বিল্ডিং ও জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি জরুরি।

এদিকে সারা দেশে তীব্র লোডশেডিং বিষয়টি শিকার করেছেন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। শুক্রবার চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে কৃষি ও শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। এ কারণে গৃহস্থালি খাতে তুলনামূলকভাবে কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে মে মাসে ফসল সংগ্রহ শুরু হলে গৃহস্থালি খাতকে আবারও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এ সময় লোডশেডিং নিয়ে প্রশ্ন করায় বিভ্রান্ত হয়ে যান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নটি ছিল, চট্টগ্রামে ৫-৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার তথ্য আপনার কাছে থাকুক, আমি অফিশিয়াল চ্যানেল থেকে তথ্য পেয়েছি। আপনার কাছে কী তথ্য আছে সেটা আপনার কাছে–আর যখন আমার চেয়ার থেকে কথা বলছি, আমার প্রতিটি অঙ্ক, প্রতিটি শব্দের পেছনে দায়িত্বশীলতা আছে। আপনি আপনারটা নিয়ে আরগু করতে পারেন, আই অ্যাম সরি ফর দ্যাট।’

আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী
সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী রবিউল আলম। ছবি: খবরের কাগজ

আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন চালু হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী রবিউল আলম।

তিনি বলেন, ‘পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানের ‘মাল্টি-মোডাল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।’

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পাবনা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তা ও সুধী সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি জানান, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কোনো বিশেষ শ্রেণিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না। মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ না বানিয়ে, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জনস্বার্থ ও জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে সরকার। খুব দ্রুতই দেশে আন্তর্জাতিক মানের ‘মাল্টি-মোডাল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা দৃশ্যমান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যেই নীতিগত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও চিহ্নিত করেছি এবং সে অনুযায়ী অগ্রসর হচ্ছি। আমার বিশ্বাস, বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত মাল্টি-মোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা বাংলাদেশেও দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়িত হবে এবং দৃশ্যমান হবে।’

এদিকে পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ঢাকা-পাবনা সরাসরি রেল যোগাযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এ রুটের লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ইতোমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে। আগামী মাসে কোচ বা বগি এলেই আগস্টের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরাসরি ট্রেন চালু করা হবে।

এ ছাড়া ঢাকার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে আরিচা-খাসচর সড়ক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ও ডিপিপি প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মণ্ডল, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার সুফী উল্লাহসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।

জুয়েল/রিফাত/

নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। ছবি: খবরের কাগজ

প্রতি বছর বাজেটের পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগ থাকলেও এবারের বাজেটে এমন কোনো চাপ সৃষ্টি হয়নি। তাই এবারের বাজেট জনবান্ধব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

তিনি বলেন, ‘এবারের বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট। বিরোধী দলও বলছে-এটা কল্পনা ও স্বপ্নের বাজেট। তবে এই কল্পনা না থাকলে, স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’ 

শনিবার (২০ জুন) পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ টাকা, চাল ও ছাগল বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘প্রতি বছর বাজেটের পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগ থাকলেও এবারের বাজেটে এমন কোনো চাপ সৃষ্টি হয়নি। তাই এটিকে আমরা জনবান্ধব বাজেট বলছি। সরকার গঠনের মাত্র চার মাস হচ্ছে। এই চার মাসে আমরা দেশের সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।’

নিজস্ব তহবিলসহ সরকার দেশের মানুষের জন্য বরাদ্দ দিচ্ছে আমরা তা সংসদ সদস্য হিসেবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। একইসঙ্গে মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করছি।

তিনি জানান, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আটকে থাকা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এর আগে মানবিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, ৪১ মেট্রিক টন চাল ও পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে ৬০টি পরিবারের মধ্যে ছাগল বিতরণ করা হয়। 

এ সময় বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ তারা ও সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন ও বাঁধের সম্ভাব্য এলাকা যাচাই, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

রনি মিয়াজী/রিফাত/

দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৮৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮০৭ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯১ হাজার ৭৮৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৪৯ জন।

আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৪৯ জন।

এসএন/

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা
কাল্পনিক পদ্মা ব্যারাজ। ছবি: এআই

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়নের স্বপ্নযাত্রায় এবার যোগ হয়েছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বদলে যাবে ২৪টি জেলার দৃশ্যপট। নদী ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় আসবে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পদ্মা ব্যারাজ শুধু নদীকেন্দ্রিক প্রকল্প নয়, এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট ও সীমিত ব্যবস্থাপনার কারণে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়নি।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, নদীভাঙন রোধ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিবর্তন আসবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২৪টি জেলার ১৬১টি উপজেলার পাঁচ কোটি মানুষের কৃষি উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এর সুফল সরাসরি ও পরোক্ষভাবে সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

নদীভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট ও আঞ্চলিক বৈষম্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন আশার নাম হয়ে উঠছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

কৃষিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২ লাখ হেক্টরের বেশি এক ফসলি জমি দুই ফসলি জমিতে এবং ১ লাখ হেক্টরের বেশি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হতে পারে। সাগরের লবণাক্ত পানি বদলে কৃষকের কাছে পৌঁছবে মিঠা পানি, যা কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনে বিরাট বিপ্লব এনে দেবে। এতে বছরে অতিরিক্ত কয়েক মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বোরো ধানের গড় উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৪.৫ থেকে ৫ টন। নিরবচ্ছিন্ন সেচ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এটি ৬ থেকে ৭ টন পর্যন্ত উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি গবেষকরা।

একইভাবে গমের উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৩.৫ টন থেকে ৪.৫ টন, ভুট্টার উৎপাদন ৮ টন থেকে ১০-১২ টন এবং আলুর উৎপাদন ২৫ টন থেকে ৩০-৩৫ টন পর্যন্ত বাড়তে পারে।

পদ্মা পাড়ের জেলা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের সংসদ সদস্য ও সরকারের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নে বুক বেঁধে আছে পদ্মা পাড়ের জনগণ। তারা এই প্রকল্পের সুফল পেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে রাজবাড়ীসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪ জেলার জনগণ বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ছাড়া এ প্রকল্প কখনোই হয়তো পাস হত না। ইতোমধ্যে এ প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। এজন্য তিনিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদনে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এখন আর কোনো স্বপ্ন নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা পাড়ের জেলাগুলোতে নদী ভাঙন, আকস্মিক বন্যা এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নদী ব্যবস্থাপনার আধুনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিসংকট দূর করতে এবং মৃতপ্রায় নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ মেগা প্রকল্পের কাজ ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। কৃষকের আয় গড়ে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪১ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রতিবছর বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে কয়েকশ হেক্টর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। গত দুই দশকে পদ্মা নদী বিধৌত বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে।

পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবার প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের আওতায় নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম, তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর প্রবাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নদীভাঙনের হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জিওব্যাগ, কংক্রিট ব্লক ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন পরিকল্পনায় অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রিত পানি প্রবাহ এবং দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হলে বন্যার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে নদীর পানিধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া নদী ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষকে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে হাজার হাজার কোটি টাকার কৃষি উৎপাদন, সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বসতভিটা রক্ষা পাবে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, এ মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি, শিল্প, পরিবহন, বিপণন এবং সেবা খাত মিলিয়ে লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে কৃষিযন্ত্র, বীজ, সার, কীটনাশক, কৃষিপণ্য পরিবহন ও বিপণন খাতেও নতুন বিনিয়োগ বাড়বে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় গুদামজাতকরণ, হিমাগার এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের চাহিদাও বাড়বে। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্পে প্রতি ১ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ২০ থেকে ৩০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। সেই হিসেবে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে এক থেকে দুই লাখ অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহও বাড়বে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নাঈম/

জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সড়ক ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়নে জিপিএস সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করেছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে সব ধরনের গণপরিবহনে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, আগামী ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহন পরিচালনার সময় জিপিএস ডিভাইস চালু রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা ৪৪ এবং ধারা ১২৪(১)(খ)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত করতে হবে এবং যানবাহন চলাচলের সময় তা অবশ্যই সচল রাখতে হবে।

এ ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়নের সময় জিপিএস সংযুক্তি নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস নবায়ন করবে না।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী যানবাহনের বিভিন্ন কারিগরি বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি জিপিএস সংযুক্তির বিষয়টিও যাচাই করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ প্রযুক্তি ব্যবহারে গণপরিবহনের অবস্থান, গতি এবং চলাচলের রুট সহজেই পর্যবেক্ষণ এবং অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, যানবাহন ট্র্যাকিং এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিপিএস বাধ্যতামূলক করার ফলে পরিবহনখাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

থিওটোনিয়াস/