ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার’ প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল-পিডিপির চেয়ারম্যান মনির-মহাসচিব আমান কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র বরেন্দ্র সভ্যতার ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর বৃহত্তর কুষ্টিয়ার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আব্দুল জলিলের স্মরণসভা ইবি ছাত্রদলে পদ পাচ্ছে ছাত্রলীগ কর্মীরা! প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুদের থেকে ফি আদায় প্রসঙ্গে গাজীপুরে তেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট রাজশাহীতে অটো ভাড়া বৃদ্ধি তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, পরবর্তী কর্মসূচি ‘ঢাকা ঘেরাও’ নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল: ভোক্তার অধিকার কোথায়? আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী গাজী গিয়াস উদ্দিনকে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয় আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করুন নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু ছত্রিশ-চব্বিশের পরকীয়া নিয়ে তুলকালাম মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হারুন আল রশীদ খাল খননের পর ভরাট করে গাড়ির গ‍্যারেজ, কার গরজে? রংপুরে নিখোঁজের এক দিন পর পাটখেতে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনা নিয়োগ দেবে ব্যাংক এশিয়া জিপিএস ছাড়া গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়ন হবে না

হাম মহামারির দিকে দেশ, জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১০:১৮ এএম
আপডেট: ২০ মে ২০২৬, ১০:২০ এএম
হাম মহামারির দিকে দেশ, জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি
ছবি: খবরের কাগজ

দেশজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে সংক্রামক রোগ হাম। প্রতিদিনই বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। ২৪ ঘণ্টায় (গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনের হাম শনাক্ত হয়েছিল। শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ১১, মোট প্রাণহানি ৩৯৮ শিশুর
  • প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সব ছুটি বাতিল
  • নিঃসন্দেহে হাম এখন ‘মহামারি’ আকার ধারণ করেছে, সরকারের পক্ষ থেকে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা প্রয়োজন: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরী

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বাড়ছে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর চাপ। শয্যাসংকটে হাসপাতালের বারান্দা, ফ্লোর এমনকি সিঁড়িতেও চলছে শিশুদের চিকিৎসা। হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

মহামারির দিকে হাম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ৩৯৮ জন। এর মধ্যে ৭৭ জনের হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সংস্থাটি জানিয়েছে, একই সময়ে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬৪ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১১০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এখানে এক দিনেই ৫৪৪ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩০ জন এবং বরিশালে ১৪৭ জন। নিশ্চিত হাম শনাক্তের ক্ষেত্রেও ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ ৫৪ জন রোগী পাওয়া গেছে।

হাসপাতালে করুণ অবস্থা

রাজধানীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতাল ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে ভয়াবহ চিত্র। দুই মাস বয়সী শিশুরাও হামে আক্রান্ত হয়ে কাতরাচ্ছে হাসপাতালের বেডে। চিকিৎসকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখেননি তারা। একজন আক্রান্ত শিশুর শরীর থেকে অন্য শিশুর শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুতগতিতে। হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকট এতটাই তীব্র যে অনেক শিশুকে ফ্লোরে, বারান্দায়, এমনকি টয়লেটের সামনেও বিছানা পেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। শিশুমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে পরিবেশ।

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, অপুষ্টি, ঘনবসতি এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। হাম এখন নতুন করে প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই থেকে অনেক শিশু বাদ পড়ে যাওয়ায় তাদের শরীরে প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়নি। ফলে বড় একটি জনগোষ্ঠী এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তারা আরও জানান, হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও এনসেফালাইটিসের মতো জটিলতা যুক্ত হলে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের শরীরে অ্যান্টিবডির ঘাটতিও বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। সময়মতো টিকা ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এই মৃত্যুর বড় অংশ প্রতিরোধ সম্ভব বলেও মনে করছেন তারা।

পরিস্থিতিকে ‘মহামারি’ ঘোষণা দাবি

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে দেশে চলমান হামের পরিস্থিতিকে ‘মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ (ডিপিপিএইচ)। গত শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোনো রোগের বিস্তার যখন সময়, স্থান ও আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা তা সামাল দিতে ব্যর্থ হয়, তখন সেটিকে জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি বলা হয়। বর্তমানে দেশে হামের বিস্তার সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে।

হামকে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ ঘোষণা ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। গতকাল বাংলাদেশে চলমান হাম পরিস্থিতিকে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ বা মহামারি হিসেবে ঘোষণা, সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ফ্রি আইসিইউ সেবা নিশ্চিত করা, জাতীয় বাজেটের ২৫ শতাংশ বা জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তার এখন জরুরি অবস্থায় রূপ নিয়েছে। শিশুদের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বক্তারা বলেন, জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ফ্রি আইসিইউ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে টিকা কার্যক্রমে অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

দেশে হাম পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই মহামারি আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরী। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, নিঃসন্দেহে হাম এখন ‘মহামারি’ আকার ধারণ করেছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ ঘোষণা করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ (ডব্লিউএইচও) সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর পরামর্শ নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে সংক্রমণ যেন আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হামের প্রাদুর্ভাবে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাতিল

এদিকে হামের কারণে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়তে থাকায় জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে অধিদপ্তর ও এর আওতাধীন সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, আপৎকালীন নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে অর্জিত ছুটি ও নৈমিত্তিক ছুটি স্থগিত করা হয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদের পর সারা দেশে হামের টিকার দ্বিতীয় ধাপের ক্যাম্পেইন শুরু হবে। মন্ত্রী বলেন, মাসিক চাহিদা অনুযায়ী সিরিঞ্জের কিছুটা সংকট রয়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন তিনি।

হাম নিয়ে রাজনীতি, অভিযোগের তির ইউনূসের দিকে

হাম পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতিতে হামসহ ১১টি টিকার বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় ‘ওটি’ কার্যক্রমও পরিচালিত হয়নি। ফলে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। হামে শিশুমৃত্যুর জন্য ড. ইউনূস ও তার স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিচারের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভও হয়েছে।

অন্যদিকে বর্তমান বিএনপি সরকারও এই সংকটের দায় আগের ইউনূস সরকারের ওপর চাপাচ্ছে। গত রবিবার এক সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না। তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ মায়েদের পুষ্টিহীনতা। বিভিন্ন হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি জেনেছেন, অনেক মা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থায় নেই। তাই মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ বক্তব্য নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টকশোগুলোতে শুরু হয়েছে সমালোচনা। একই সঙ্গে এনসিপির নেতারাও হাম মোকাবিলায় বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন। শনিবার এক আলোচনা সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার হাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে এবং নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে আগের সরকারের ওপর দায় চাপাচ্ছে। দ্রুত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে কয়েকটি হাসপাতালকে শুধু হামের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট করার দাবিও জানান তিনি।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মোশতাক হোসেন সাংবাদিকেদের বলেন, দেশে হামে মৃত্যুহার বেশি হওয়ার বড় কারণ দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা। তার ভাষায়, ‘আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা মাথা ভারী হয়ে গেছে। সবাই শুধু বড় বড় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়তে চান। কিন্তু ইউনিয়ন ও গ্রামপর্যায়ে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নেই। ফলে সামান্য অসুস্থতাতেও মানুষকে ঢাকায় ছুটতে হয়। করোনার পর মানুষের আর্থিক অবস্থাও খারাপ হয়েছে। খাবারের সঙ্গে আপস করতে হচ্ছে। এতে মা ও শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাচ্ছে, আর বাড়ছে মৃত্যুহার।

‘বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার’

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
‘বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার’
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার মোগড়া উচ্চবিদ্যালয়ে একটি আধুনিক বিজ্ঞানাগার (সায়েন্স ল্যাব) উদ্বোধন করা হয়েছে। রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে স্থাপিত এ বিজ্ঞানাগার শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে  বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানাগারটির উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুশফিকুর রহমান বলেন, “এবারের বাজেটে সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। এ জন্য সবাইকে আধুনিক জ্ঞান অর্জনে মনোযোগী হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিজ্ঞানাগার প্রতিষ্ঠার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে। পাশাপাশি তারা প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নিহার উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের বড় মেয়ে মেহভীন রহমান।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশফাক জামিল রহমান তাপস ও তারিক জামিল রহমান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ, আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম, বিএনপি নেতা আবুল মুনসুর মিশন, নাছির উদ্দিন হাজারী, মো. বিল্লাল খন্দকারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

জুটন বনিক/এসএন

বরেন্দ্র সভ্যতার ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
বরেন্দ্র সভ্যতার ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি। ছবি: খবরের কাগজ

বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ধারণ করে শিক্ষার্থীদের আদর্শ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি। 

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেন অর্জিত জ্ঞান ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের বিকশিত করতে পারে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি বরেন্দ্র কলেজ ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।’

শনিবার (২০ জুন) সকালে রাজশাহী বরেন্দ্র কলেজ চত্বরে অনুষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন জনপদ, যার সভ্যতার ইতিহাস প্রায় তিন থেকে চার হাজার বছরের পুরোনো। এই অঞ্চলের সংস্কৃতি, ভাষা ও শিক্ষা প্রাচীনকাল থেকেই মানুষকে আলোকিত করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ ড. জোহা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের আত্মত্যাগে সমৃদ্ধ এই মাটির ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।’

শিক্ষকদের উদ্দেশে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ সম্পর্কেও সম্যক ধারণা দিতে হবে, যাতে তারা দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে পারে। জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেই এগিয়ে যেতে হবে। শুধু রাজনীতিতে নয়, একজন দক্ষ প্রকৌশলী, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী কিংবা আইনজীবী হয়ে সমাজ ও মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। তিনি শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁদের নির্দেশনা অনুসরণেরও আহ্বান জানান।’

বরেন্দ্র কলেজের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের জন্য উপযুক্ত অবস্থানে রয়েছে। এ কলেজকে বিশ্বমানের মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

বরেন্দ্র কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ রণজিৎ কুমার সাহা।

অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড তুলে দেন ভূমিমন্ত্রী।

রিফাত/

আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
আগস্টের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন: নৌপরিবহনমন্ত্রী
সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী রবিউল আলম। ছবি: খবরের কাগজ

আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি ট্রেন চালু হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী রবিউল আলম।

তিনি বলেন, ‘পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানের ‘মাল্টি-মোডাল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।’

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পাবনা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তা ও সুধী সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি জানান, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কোনো বিশেষ শ্রেণিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না। মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ না বানিয়ে, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জনস্বার্থ ও জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে সরকার। খুব দ্রুতই দেশে আন্তর্জাতিক মানের ‘মাল্টি-মোডাল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা দৃশ্যমান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যেই নীতিগত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও চিহ্নিত করেছি এবং সে অনুযায়ী অগ্রসর হচ্ছি। আমার বিশ্বাস, বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত মাল্টি-মোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা বাংলাদেশেও দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়িত হবে এবং দৃশ্যমান হবে।’

এদিকে পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ঢাকা-পাবনা সরাসরি রেল যোগাযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এ রুটের লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ইতোমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে। আগামী মাসে কোচ বা বগি এলেই আগস্টের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরাসরি ট্রেন চালু করা হবে।

এ ছাড়া ঢাকার সঙ্গে সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে আরিচা-খাসচর সড়ক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ও ডিপিপি প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মণ্ডল, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার সুফী উল্লাহসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।

জুয়েল/রিফাত/

নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
নিত্যপণ্যের দামে কোনো চাপ নেই, বাজেট জনবান্ধব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। ছবি: খবরের কাগজ

প্রতি বছর বাজেটের পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগ থাকলেও এবারের বাজেটে এমন কোনো চাপ সৃষ্টি হয়নি। তাই এবারের বাজেট জনবান্ধব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

তিনি বলেন, ‘এবারের বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট। বিরোধী দলও বলছে-এটা কল্পনা ও স্বপ্নের বাজেট। তবে এই কল্পনা না থাকলে, স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’ 

শনিবার (২০ জুন) পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ টাকা, চাল ও ছাগল বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘প্রতি বছর বাজেটের পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগ থাকলেও এবারের বাজেটে এমন কোনো চাপ সৃষ্টি হয়নি। তাই এটিকে আমরা জনবান্ধব বাজেট বলছি। সরকার গঠনের মাত্র চার মাস হচ্ছে। এই চার মাসে আমরা দেশের সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।’

নিজস্ব তহবিলসহ সরকার দেশের মানুষের জন্য বরাদ্দ দিচ্ছে আমরা তা সংসদ সদস্য হিসেবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। একইসঙ্গে মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করছি।

তিনি জানান, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আটকে থাকা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এর আগে মানবিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, ৪১ মেট্রিক টন চাল ও পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে ৬০টি পরিবারের মধ্যে ছাগল বিতরণ করা হয়। 

এ সময় বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদ, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ তারা ও সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন ও বাঁধের সম্ভাব্য এলাকা যাচাই, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

রনি মিয়াজী/রিফাত/

দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ, একদিনে ৭ মৃত্যু
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৮৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮০৭ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯১ হাজার ৭৮৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৪৯ জন।

আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৪৯ জন।

এসএন/