ঐকমত্য কমিশন অহেতুক কালক্ষেপণ করেছে! অবশ্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে গণ-আলোচনায় বসে ঐকমত্যে উপনীত হওয়ার ব্যাপারে আলী রিয়াজ ও তার কমিশনের আদৌ স্বদিচ্ছা ছিল কি না কিংবা থাকলেও তা কতটুকু, এনিয়ে বিস্তর সংশয় রয়েছে! ঐকমত্যে পৌঁছানোর মিথ্যা প্রচেষ্টা দেখিয়ে আরও বেশি করে অনৈক্য সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে! যে দেশে স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর আজও স্বাধীনতার ঘোষক, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শহিদ এবং সম্ভ্রমহারাদের সংখ্যা আর বিজয় দিবসের মতো প্রতিষ্ঠিত সত্য নিয়ে এত বিতর্ক ও কাদা ছোড়াছুড়ি হয়, সে দেশে ঐকমত্যে পৌঁছনোর অনর্থক প্রচেষ্টা বস্তুত হাসির উদ্রেক করে! অবাক হই যখন দেখি, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার টেবিলে রয়েছে যুদ্ধাপরাধী সংগঠনটিও!
ঐকমত্য কমিশনের বাতলে দেওয়া জুলাই সনদ বা রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নতুন সংকটের সূচনা করতে পারে বৈকি! জুলাই সনদ বাস্তবায়নের এ আদেশের ফলে নতুন করে বিভেদ তৈরির শঙ্কা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না! আমাদের দেশে রাজনৈতিক বিভাজন এবং রাজনীতির বিভাজন অনেক আগে থেকেই আছে, হয়তো ভবিষ্যতেও থাকবে! আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো স্বার্থের প্রশ্নে এতটাই স্বার্থপর যে, নিজস্ব অবস্থান থেকে হয়তো তারা কখনোই সরে আসতে পারবে না। যদিও সত্যি কথা হলো, তারা সরে আসতে চায় না! দেশ কিংবা জনগণের স্বার্থে তারা একপক্ষ আরেকপক্ষকে ছাড় দিতে রাজি নয়, এমনকি তাদের সে মানসিকতাই নেই! তারা এতটাই বিভাজিত যে, হয়তো একবিন্দুতে অবস্থান নেওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব! তাই, ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার এ নিরর্থক প্রয়াস নিছকই ‘ভস্মে ঘি ঢালা’র মতোই ব্যাপার!
আসিফ আল মাহমুদ
রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি, আকবরশাহ মাজার, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম ৪২০২
[email protected]