শীত মানেই প্রকৃতিতে এক অনন্য উৎসব অতিথি পাখির আগমন। প্রতি বছর শীত এলেই দেশের নদনদী, হাওর-বাঁওড়, বিলঝিল ও খোলা জলাশয়ে ভিড় জমায় নানা প্রজাতির রঙিন অতিথি পাখি। তাদের কিচিরমিচির শব্দে প্রকৃতি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও সজীব। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই অতিথি পাখ আমাদের দেশে এসে সব সময় নিরাপদ থাকে না। কিছু অসাধু মানুষ শীত মৌসুম এলেই শিকারের প্রস্তুতি নেয়। হাজার টাকার জাল, ফাঁদ ও নানা কৌশল ব্যবহার করে রাতের আঁধারে তারা নির্বিচারে পাখি শিকার করে। অতিথি পাখি আমাদের কাছে ঠিক অতিথির মতোই। শীত শেষে তারা আবার নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরে যায়। কিছু প্রজাতি আবার এখানেই থেকে যায় এবং আমাদের দেশের জীববৈচিত্র্যের অংশ হয়ে ওঠে। তারা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ, জলাভূমির স্বাস্থ্য রক্ষা ও বাস্তুতন্ত্র সচল রাখতে অতিথি পাখির অবদান অপরিসীম।
অতিথি পাখির নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে বিচরণ নিশ্চিত করা আমাদের সবার মানবিক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম প্রয়োজন সচেতনতা। কেউ যেন পাখি শিকার না করে, কোথাও ফাঁদ না পাতে এ বিষয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং বিদ্যমান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃতি বাঁচলে আমরা বাঁচব। অতিথি পাখিকে বাঁচানো মানেই আমাদের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা। তাই আসুন, শিকার নয় সংরক্ষণে এগিয়ে আসি। অতিথি পাখির জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
আসমা খাতুন
শিক্ষার্থী, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]