নামাজ আদায়ের পূর্বশর্ত হলো অজু করা। অজু ছাড়া নামাজ আদায় করলে সেই নামাজ কখনো কবুল হবে না। আর সুন্দরভাবে অজু করার সওয়াব ও ফজিলতও রয়েছে অনেক বেশি। তাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের আগে দরকার ভালোভাবে অজু করা। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াও, তখন অজু করো।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৬)। তবে কিছু কারণে অজু নষ্ট হয়ে যায়, যা জানা প্রত্যেক মুমিনের জন্য জরুরি। এ জন্য কী কারণে অজু ভাঙে এবং সেগুলো কী কী, তা জানা একজন মুমিনের জন্য আবশ্যক।
অজু ভাঙার মৌলিক কারণসমূহ
১. প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া। যেমন- বায়ু, প্রস্রাব-পায়খানা, পোকা ইত্যাদি। (হেদায়া-১/৭)
আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমাদের কেউ প্রস্রাব-পায়খানা সেরে আসে (তা হলে নামাজ পড়তে পবিত্রতা অর্জন করে নাও)। (সুরা মায়িদা, ৬)
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শরীর থেকে যা কিছু বের হয় এ কারণে অজু ভেঙে যায়, প্রবেশের দ্বারা ভঙ্গ হয় না। (সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, ৫৬৮)
২. রক্ত, পুঁজ বা পানি বের হয়ে গড়িয়ে পড়া। আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.)-এর যখন নাক দিয়ে রক্ত ঝরত, তখন তিনি ফিরে গিয়ে অজু করে নিতেন। (মুয়াত্তা মালিক ১১০)
আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি যদি কারও নামাজরত অবস্থায় নাক দিয়ে রক্ত ঝড়ত বা বমি হতো, বা মজি বের হতো- তা হলে তাকে ফিরে গিয়ে অজু করার ফাতওয়া প্রদান করতেন। (মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, ৩৬১০)
৩. মুখভর্তি বমি অর্থাৎ বেশি পরিমাণে বমি হলে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তির বমি হয়, অথবা নাক দিয়ে রক্ত ঝরে বা মজি বের হয়, তা হলে ফিরে গিয়ে অজু করে নেবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, ১২২১)
ইবরাহিম নাখয়ী (রহ.)-কে বমির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন মুগীরাহ (রহ.) তখন উত্তরে বললেন, যদি তা মুখ ভরে হয়, তা হলে অজু করতে হবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, ৪৩৩)
৪. থুতুর সঙ্গে রক্তের ভাগ সমান বা বেশি হওয়া। হাসান বসরি (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি তার থুতুতে রক্ত দেখে, তা হলে থুতুতে রক্ত প্রবল না হলে তার ওপর অজু করা আবশ্যক হয় না। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, ১৩৩০)
ইবরাহিম নাখয়ী (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি তার থুতুতে রক্ত দেখে, তা হলে সাদার ওপর লাল রঙ বেশি থাকে, তা হলে অজু করবে, আর যদি লালের ওপর সাদার আধিপত্য থাকে, তা হলে অজু লাগবে না। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, ১৩৩২)
ইবনে সীরীন (রহ.) বলেন, যদি থুতুতে রক্তের আধিক্য হয়, তা হলে অজু করা আবশ্যক। (মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, ৫৬০)
৫. ঘুমানো-চিৎ হয়ে, কাত হয়ে, হেলান দিয়ে কিংবা কোনো কিছুর সঙ্গে ঠেস দিয়ে ঘুমালে যা সরিয়ে ফেললে ঘুমন্ত ব্যক্তি পড়ে যাবে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সেজদা অবস্থায় ঘুমালে অজু ভঙ্গ হয় না, তবে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লে ভেঙে যাবে। কেননা, চিৎ বা কাত হয়ে শুয়ে পড়লে শরীর ঢিলে হয়ে যায়। (ফলে বাতকর্ম হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে)। (মুসনাদে আহমাদ ২৩১৫; আবু দাউদ ২০২)
৬. পাগল, মাতাল বা অচেতন হলে। হাম্মাদ (রহ.) বলেন, যখন পাগল ব্যক্তি সুস্থ হয়, তখন নামাজের জন্য তার অজু করতে হবে। (মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক ৪৯৩)
৭. নামাজে উচ্চৈঃস্বরে হাসি দিলে। ইমরান বিন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি নামাজে উচ্চৈঃস্বরে হাসে, সে ব্যক্তি অজু ও নামাজ পুনরায় আদায় করবে।
হাসান বিন কুতাইবা (রহ.) বলেন, যখন কোনো ব্যক্তি উচ্চৈঃস্বরে হাসি দেয়, সে ব্যক্তি অজু ও নামাজ পুনরায় আদায় করবে। (সুনানে দারা কুতনি ১/১৫৬)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক