সেদিন ছিল শুক্রবার। শুভ দিন। মফিজ মিয়া রাত এগারোটার দিকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন। সলিমুদ্দিনের দোকান থেকে খাঁটি সরিষার তেল আনা হয়েছিল। পায়ের নখ থেকে শুরু করে মাথার তালু পর্যন্ত সব জায়গায় সেটা মাখলেন। লুঙ্গি পাল্টে শার্ট-প্যান্ট পরে নিলেন। পুরো প্রস্তুতি নিতে ঘণ্টা দুই কেটে গেল। সবশেষে গ্রিল কাটার যন্ত্রপাতি নিয়ে চুরির জন্য বেরিয়ে পড়লেন।
এক ঘণ্টার মধ্যে জামাল সাহেবের বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে পড়লেন চোর মফিজ মিয়া। এত সূক্ষ্মভাবে গ্রিল কাটলেন যে কেউই টের পেল না। হাতের টর্চলাইট জ্বেলে দেখে নিলেন জিনিসপত্রের অবস্থান। তার টার্গেট স্টিলের আলমারি। দামি জিনিসপত্র সাধারণত এখানেই রাখা হয়। একটু পরই আলমারিটা চোখে পড়ল। এক সময় তালা-চাবির মিস্ত্রি ছিলেন বলে অল্প সময়ের মধ্যে আলমারি খুলে ফেললেন।
প্রথমেই আলমারিতে যে জিনিসটা চোখে পড়ল তা হচ্ছে এক বোতল আচার। মফিজ নিজের মাথা খাটালেন। মনে মনে চিন্তা করলেন, ‘আলমারিতে আচার কেন? নিশ্চয়ই আচারের আড়ালে সোনা-গয়না লুকানো আছে।’
মফিজ মিয়া আলমারি থেকে কাচের বোতলটা নামাতে যেতেই ঘটল দুর্ঘটনাটা। তৈলাক্ত হাত পিছলে আচারের বোতল গিয়ে পড়ল টাইলস করা ফ্লোরে। এত জোরে শব্দ হলো যেন গ্রেনেড ফেটেছে। সেই শব্দে পাশের রুম থেকে চারজন লোক দৌড়ে এলেন। এ রকম পরিস্থিতিতে পালানোর কোনো সুযোগ পেলেন না মফিজ মিয়া। ধরা পড়ে গেলেন।
টানা দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের পর থানা পুলিশ তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করলেন। ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন নারী। মফিজকে দেখে ম্যাজিস্ট্রেট বললেন, ‘কী ব্যাপার আপনি পুলিশের কাছে বলেছেন, চুরি করেননি। আবার এখন বলছেন চুরি আপনিই করেছেন, তা হলে পুলিশ কী আপনার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করে নিয়েছিল?’
মফিজ বললেন, ‘জি না ইউর অনার। আমার অশিক্ষিত বউয়ের চোখে কোনোদিন ধুলা দিতে পারিনি আমি। আর আপনি তো শিক্ষিত। তাই নিজেই চুরির কথা স্বীকার করে নিলাম।’