কিশোর বেলায় চকোলেটের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা ছিল আমার। স্কুল ব্যাগের আনাচে-কানাচে, শার্ট-প্যান্টের পকেট থেকে শুরু করে আমার তোশকের তলায় পর্যন্ত চকোলেটের সমাহার ছিল।
তখন ফোনের প্রচলন ছিল না বলে মামা কিংবা বাবা মাস শেষে বিদেশ থেকে পাঠানো লম্বা লম্বা চিঠিতে জানতে চাইতেন কার কী লাগবে। তারপর মাকে বলতাম, আমার জন্য অবশ্যই চকোলেট আনতে বলবে।
ব্যাস, একটা নির্দিষ্ট সময়ে আমার কাছে চলে আসত কাঙ্ক্ষিত চকোলেট। কিশোর বেলার সব সুখ যেন খুঁজে পেতাম চকোলেটের খোসায়। মহানন্দে সেসব চকোলেট মুখে চালান দিতাম। বিদেশি চকোলেট সাবাড় হয়ে গেলে পাড়ার কাশেম কাকুর দোকান থেকে দুয়েক টাকায় চকোলেট কিনে খেতাম।
একদিন বিকেলে শুনলাম পশ্চিম পাশের ফাঁকা ধানখেতে ফুটবল খেলা হচ্ছে। এই খেলাটির প্রতি আমার ভীষণ আগ্রহ বলে ছুটলাম ফুটবল খেলা দর্শনে। ধান কাটার মৌসুম শেষ হলে বিশাল বিশাল ধানখেতে রোজ বিকেলে খেলার আয়োজন চলত।
তো একদিন যাচ্ছি ফুটবল খেলা দেখতে। হাঁটছি মাঠ পেরিয়ে মাঠ। ওই তো শত শত লোক দেখা যাচ্ছে, যারা ফুটবল খেলার উৎসুক দর্শক। আমিও সেখানে যাচ্ছি, আমার পকেটে চকোলেট, মুখের ভেতরে চকোলেট। পুরোনো আনন্দ নিয়ে চকোলেট খাচ্ছি, জিভে পুরোনো তৃপ্তি।
যারা রাজ্যের কৌতূহল নিয়ে মাঠের চারপাশে বসে খেলা উপভোগ করছি। খেলা চলছে। হঠাৎ গোল হলো। চারপাশের সবার মতো আমিও চিৎকার করে, ‘গোওওওল’ বলে উঠলাম। এমন সময় আমার মুখ থেকে চকোলেটটি মাটিতে পড়ে গেল। মাটির দিকে না তাকিয়ে চকোলেটটা তুলে মুখে পুরে দিলাম। দিতেই কেমন যেন বিশ্রী গন্ধ নাকে লাগল। অন্যদিকে চকোলেটটিও মিষ্টি নয়। নিশ্চয়ই কোনো একটা গণ্ডগোল হয়েছে।
হাত দিয়ে চকোলেটটাকে মুখ থেকে বের করে আনতেই আমার চোখ কপালে উঠে গেল। চকোলেট ভেবে যেটা মুখে ভরেছি, সেটা চকোলেট নয়। চকোলেট আকৃতির ছাগলের লেদা। ওয়াক থু...।
এখন আর চকোলেট খাই না। কিন্তু চকোলেট দেখলে সেদিনের ছাগলের লেদার কথা মনে পড়ে।