ফটিক দাদু আবারও দাদির ভয়ে বাড়ি ঢুকতে পারছেন না। বাড়ির রাস্তার সামনে জামগাছে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। দাদি তাকে নোটিশ দিয়েছেন, আজ আর তার ঘরে ফেরা যাবে না। অফিস থেকে ফিরতে আজও তার পাঁচ মিনিট দেরি হয়েছে।
দাদিকে বাঘের মতো ভয় পান ফটিক দাদু। বাঘ দেখলে মানুষের যেমন থরহরি কম্প শুরু হয়, দাদিকে দেখলেও দাদুর ঠিক তেমনই অবস্থা হয়। অথচ দাদুর কোনো সমস্যা নেই, না কোনো বদভ্যাস, না কোনো লুকোচুরি। তবু দাদি তাকে বেহুদা সন্দেহ করেন। দাদু যতই সাবধানে চলেন, ততই যেন বিপদে পড়েন।
একদিন দাদু মোবাইলটা টেবিলের ওপর রেখে বাথরুমে গেছেন। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। দুবার বাজার পর দাদি রিসিভ করলেন। ওপাশ থেকে এক মিহি কণ্ঠ, হ্যালো জান, রিসিভ করতে এত দেরি হলো কেন? তুমি ফোন ধরতে দেরি করলে আমার কষ্ট হয়, তুমি জানো না?
এইটুকু শুনেই দাদি আগুন! ফোন রেখে দিয়ে রাগে গড়গড় করতে লাগলেন। দাদু বের হতেই বললেন, তোমার জান ফোন করেছিল, ব্যাক করো!
দাদু অবাক, জান মানে?
–ফোন করো!
দাদু ফোন করতেই ওপাশ থেকে উত্তর, সরি ভাই, রং নাম্বার। ভুলে আপনার নাম্বারে চলে গেছে।
দাদু শতবার বোঝালেন, দেখো এটা ভুল নম্বর। কিন্তু দাদি কিছুতেই মানেন না। শুরু হলো কান্নাকাটি, রাগারাগি। কয়েকদিন ধরে দাদুর মোবাইল ব্যবহারই বন্ধ!
এই ঝামেলা কাটতে না কাটতেই আরেক কাণ্ড। ফটিক দাদু ফরিদপুর থেকে বাইকে ফিরছেন। পথে এক ভদ্র মহিলা লিফট চাইলেন। পরিচিত মানুষ, চারপাশে আর কোনো যানবাহনও নেই। দাদু উপায়ন্তর না দেখে তাকে উঠালেন।
ঠিক তখনই বিধিবাম! দাদি সেই পথেই ভ্যানে করে বোনের অসুস্থতার খবর পেয়ে যাচ্ছিলেন। দাদুর বাইকে অন্য নারী দেখে দাদি এমন ভাব করলেন যেন চিনতেই পারছেন না। দাদু মধুর স্বরে ডাকলেও কর্ণপাত করলেন না।
সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দাদি চুপ। একদম চুপ। দিন যায়, তবু কথা নেই।
দাদু নানা নামে ডাকেন, জান, শোনা, জাদু, লক্ষ্মী...। তবু রাগ ভাঙে না।
অবশেষে একদিন দাদি ঝাঁঝাল কণ্ঠে বললেন, পথে ঘাটে এভাবে নষ্টামি করা হয়? নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না!
দাদু আবারও বোঝানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ। মুখ বুজে থাকাই নিরাপদ মনে করেন।
যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা। একদিন দাদি হাজির দাদুর অফিসে। গিয়ে দেখেন, দাদুর পিএ একা রুমে চা দিচ্ছে! ব্যস–আর যায় কোথায়!
–এজন্যই তোমার বাড়ি ফিরতে দেরি হয়! সব জায়গায় একজন না একজন জোগাড় থাকে!
–সে আমার পিএ।
–চুপ! আজ আর বাড়ি ঢুকতে পারবে না। চরিত্রহীন কোথাকার!
দাদি হনহন করে বেরিয়ে গেলেন। দাদু আবারও জাম গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ভাবেন, কখন ডাক আসবে কে জানে। নাকি সারা রাত এই গাছেই হেলান দিয়ে কাটাতে হবে?
দাদু, কণ্ঠ মধুর ডাকতে থাকেন, জানু আমার, ও আমার লক্ষ্মী সোনা। ঘরের ভেতর থেকে হাঁড়িপাতিল ভাঙার শব্দ শুনতে পান। দাদুর বুকের মধ্যে রেলগাড়ি চলতে থাকে।
দাদি বলতে থাকেন, ঘরে ঢোকো, আমি তোমার পিণ্ডি খাব।