একবার ‘আধুনিক শিক্ষা বালিকা বিদ্যালয়’ নামক একটি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির মেয়েদের গল্প লেখার প্রতি আগ্রহী করে তোলার জন্য একটি সফটওয়্যার দেওয়া হলো। সফটওয়্যারটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটিকে বিশেষ কিছু তথ্য দিলে সেই তথ্যগুলো ব্যবহার করে সফটওয়্যারটি গল্প লিখে দেয়।
সব ছাত্রী সফটওয়্যারটি নিয়ে বাসায় গেল। শিল্পী নামক এক ছাত্রী বাসায় গিয়ে তার নানাকে সফটওয়্যারটি দেখাল ও বলল যে, দুজনে মিলে আলাদা আলাদা দুটো গল্প লেখা যাক। গল্প লেখার সফটওয়্যারটি যেই তথ্যগুলো দিতে বলল, সেগুলো হলো–নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, বয়স, প্রিয় প্রাণী, প্রিয় রং, প্রিয় অনুষ্ঠান, প্রিয় ফল ও প্রিয় খাবার। শিল্পী ও তার নানা দুজনেই আলাদাভাবে তথ্যগুলো দেওয়ার পরে সফটওয়্যারটি আলাদা দুটি গল্প লিখে দিল।
শিল্পী তথ্য দেওয়ার পরে সফটওয়্যারটি যে গল্পটি লিখল সেটি হচ্ছে এ রকম–
অনেক দিন আগে ঢাকায় শিল্পী নামক একজন ৯ বছর বয়সী বালিকা বসবাস করত। সে আধুনিক শিক্ষা বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একদিন শিল্পী স্কুল থেকে ফেরার সময় দেখল একটি কমলা রঙের বিড়াল দেয়ালের ওপরে বসে আছে। শিল্পী হাত ইশারা করে ডাকতেই বিড়ালটি লাফ দিয়ে দেয়াল থেকে নেমে এল। শিল্পীর ব্যাগে কিছু আপেল ছিল। সে আপেলগুলো বের করে বিড়ালটিকে খেতে দিল। সে ঠিক করল যে, বিড়ালটি বাসায় নিয়ে যাবে ও এটাকে পুষবে। বাসায় পৌঁছানোর পরে শিল্পী বিড়ালটি কোলে তুলে নিয়ে রান্নাঘরে তার মাকে দেখাতে নিয়ে গেল। তার মা বেগম মুনা তখন রান্নাঘরে তার মেয়ে শিল্পীর প্রিয় খাবার পোলাও রান্না করছিলেন। শিল্পী বিড়ালটি কোলে তুলে নিয়ে রান্নাঘরে গিয়ে তার মাকে দেখাল ও বলল যে, সে বিড়ালটি পুষতে চায়।
তার মা বেগম মুনা বললেন, বিড়ালটি খুবই নোংরা। বিড়ালটি পুষতে হলে শিল্পীকে এটির যত্ন নিতে হবে। শিল্পী বিড়ালটিকে বাথরুমে নিয়ে সারা শরীর ধুয়ে কাপড় দিয়ে মুছে দিল।
দুপুরের খাবার খেয়ে শিল্পী বিড়ালটির সঙ্গে কিছুক্ষণ খেলা করল ও বিকেল হলে টিভি দেখতে বসল। প্রতিদিন বিকেলে টিভিতে শিল্পীর প্রিয় অনুষ্ঠান ‘টম অ্যান্ড জেরি’ প্রচার করা হয়। বিকেলে টম অ্যান্ড জেরি দেখার পর শিল্পী আবিষ্কার করল যে, বিড়ালটি তার ঘরে নেই। কিছুক্ষণ খোঁজার পর সে দেখতে পেল যে, বিড়ালটি পাশের ঘরে খাটের নিচে লুকিয়ে আছে।
কিছুক্ষণ পরে শিল্পীর বাবা আহসান অফিস থেকে বাসায় আসলেন। তিনি দেখলেন যে, তার মেয়ে সোফার ওপর একটি বিড়াল কোলে নিয়ে টিভি দেখছে। তিনি বিড়ালটিকে দেখে অবাক হলে শিল্পীর কাছে জানতে চাইলেন যে, বিড়ালটিকে শিল্পী কোথায় পেয়েছে? শিল্পী তার বাবাকে বিড়ালটি পাওয়ার ইতিহাস বলল ও জানালো যে, সে বিড়ালটিকে তার পোষা প্রাণী হিসেবে বাসায় রাখতে চায়। আহসান বিড়ালটি খুব বেশি খাবার খাবে না চিন্তা করে শিল্পীকে বিড়ালটি পোষার অনুমতি দিলেন। এতে শিল্পী খুব খুশি হয়ে বাবাকে ধন্যবাদ জানাল। (সমাপ্ত)
শিল্পীর নানা তথ্য দেওয়ার পরে সফটওয়্যারটি যে গল্পটি লিখল সেটি হলো এ রকম–
অনেক দিন আগে ঢাকায় শরীফ নামক একজন ৮৫ বছর বয়সী বালিকা বসবাস করত। সে আধুনিক শিক্ষা বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একদিন শরীফ স্কুল থেকে ফেরার সময় দেখল একটি সবুজ রঙের হাতি দেয়ালের ওপরে বসে আছে। শরীফ হাত দিয়ে ইশারা করে ডাকতেই হাতিটি লাফ দিয়ে দেয়াল থেকে নেমে এল। শরীফের ব্যাগে কিছু গ্রিল চিকেন ছিল। সে গ্রিল চিকেনগুলো বের করে হাতিটিকে খেতে দিল। সে ঠিক করল যে হাতিটি বাসায় নিয়ে যাবে ও এটাকে পুষবে। বাসায় পৌঁছানোর পরে শরীফ হাতিটি কোলে তুলে নিয়ে রান্নাঘরে তার মাকে দেখাতে নিয়ে গেল। তার মা মরহুম জয়িতা তখন রান্নাঘরে তার মেয়ে শরীফের প্রিয় খাবার চা রান্না করছিলেন। শরীফ হাতিটি কোলে তুলে নিয়ে রান্নাঘরে গিয়ে তার মাকে দেখিয়ে বলল যে, সে হাতিটি পুষতে চায়। তার মা মরহুম জয়িতা বললেন, হাতিটি খুবই নোংরা ও হাতিটি পুষতে হলে শরীফকে এটির যত্ন নিতে হবে। শরীফ হাতিটি বাথরুমে নিয়ে গিয়ে এর সারা শরীর ধুয়ে দিল ও কাপড় দিয়ে সারা শরীর মুছে দিল।
দুপুরের খাবার খেয়ে শরীফ হাতিটির সঙ্গে কিছুক্ষণ খেলা করল ও বিকেল হলে টিভি দেখতে বসল। প্রতিদিন বিকেলে টিভিতে শরীফের প্রিয় অনুষ্ঠান ‘রাতের সংবাদ’ প্রচার করা হয়। বিকেলে রাতের সংবাদ দেখার পর শরীফ আবিষ্কার করল যে, হাতিটি তার ঘরে নেই। কিছুক্ষণ খোঁজার পর সে দেখতে পেল যে, হাতিটি পাশের ঘরে খাটের নিচে লুকিয়ে আছে।
কিছুক্ষণ পরে শরীফের বাবা মরহুম নাসিম অফিস থেকে বাসায় আসলেন। তিনি দেখলেন যে, তার মেয়ে শরীফ সোফার ওপর একটি হাতি কোলে নিয়ে টিভি দেখছে। তিনি হাতিটিকে দেখে অবাক হলেও শরীফের কাছে জানতে চাইলেন যে, হাতিটিকে শরীফ কোথায় পেয়েছে? শরীফ তার মরহুম বাবাকে হাতিটি পাওয়ার ইতিহাস বলল ও জানাল যে সে হাতিটিকে তার পোষা প্রাণী হিসেবে বাসায় রাখতে চায়। মরহুম নাসিম হাতিটি খুব বেশি খাবার খাবে না চিন্তা করে শরীফকে হাতিটি পোষার অনুমতি দিলেন। এতে শরীফ খুব খুশি হয়ে উঠল ও তার বাবা মরহুম নাসিমকে ধন্যবাদ জানাল। (সমাপ্ত)