• ব্যাকবেঞ্চাররা ক্লাসে ব্যাক বেঞ্চে বসলেও পরীক্ষার হলে প্রায়ই ঘটে বিপত্তি। সিট পড়ে সামনের বেঞ্চে কিংবা প্রিয় বন্ধু বা ভালো ছাত্রটার থেকে অনেক দূরে।
• প্রশ্নপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এরা চোখে সরষে ফুল দেখা শুরু করে। মনে মনে ভাবে, ‘এ কী প্রশ্ন! কোথা থেকে দিছে!’ এরপর শুরু করে আত্মসমালোচনা, ‘কেন যে পড়লাম না! সামনের পরীক্ষার আগে ভালোভাবে পড়ব’।
• তারা প্রায় সব পরীক্ষার তারিখ, বার এমনকি কী বিষয়ে পরীক্ষা, সেটাও ভুলে যায়।
• হেল্প চাওয়ার ক্ষেত্রে এদের কমন ডায়ালগ, ‘দোস্ত কাল কিচ্ছু পড়ি নাই! জ্বর উঠছিল’ অথবা, ‘বাসায় একটা ঝামেলা হইছিল, তাই পড়তে পারি নাই। তুই না দেখালে নিশ্চিত ফেল।’
• প্রথম ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে এরা টয়লেটে যাওয়া শুরু করে। অনেক সময় টয়লেটে বই লুকিয়ে রেখে আসে এবং হিসুর নাম করে বইয়ে নজর বুলিয়ে যায়। এই কারণে এরা একাধিকবার টয়লেটে যাওয়ার আবদারও করে।
• এরা সাধারণত ক্রিয়েটিভ হয়। উত্তর না জানলে এরা সৃজনশীল পদ্ধতির প্রয়োগ করে। অনুমানে যা ইচ্ছা তাই লিখে এরা খাতা ভরিয়ে ফেলতে দ্বিধা করে না।
• ক্লাসে বাজখাঁই গলায় কথা বললেও পরীক্ষার হলে এরা কোমল স্বরে বলে, ‘দোস্ত, ৯ নম্বরটা একটু দেখা না’। না দেখালে হুমকিও দেয়, ‘কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হ, তারপর মজা বোঝাচ্ছি’।
• অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর বন্ধু যখন উত্তর বলে, তখন তার পাল্টা প্রশ্ন থাকে, ‘তুই কি শিওর, নাকি আন্দাজে?’
• যদিও এরা সময়ের সদ্ব্যবহার করে না। তবু বারবার ‘সময় কত?’ বলে পাশের ছাত্র বা টিচারকে বিরক্ত করে ফেলে। আর খাতা নেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এদের কোনো একটা প্রশ্নের উত্তর মনে পড়ে। তখন স্যারের কাছে আবেদন করবে, ‘স্যার প্লিজ ১ মিনিট!’
• যখন কেউ ‘স্যার লুজ’ বলে চিৎকার করে ওঠে তখন রাগে কটমট করে তার দিকে তাকিয়ে আনমনে নিজের খাতা উল্টেপাল্টে গুনে নেয়, কয় পেজ খালি রইল।
• যখন ভালোরা চিন্তা করে এ প্লাস পাওয়ার, তখন তারা পাস মার্ক ৩৩ উঠাতেই ব্যস্ত থাকে।
• কিছু ব্যাকবেঞ্চার দ্বিতীয় ঘণ্টার সঙ্গে সঙ্গেই বের হয়ে যায়। আবার কেউ কেউ বুকে প্রচণ্ড আশা পুষে অপেক্ষা করে শেষ মিনিট পর্যন্ত। যদি পাস মার্ক ওঠে!
• স্যার খাতা টানলে এরা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করে। যেমন–
ক. আমি আবার কী করলাম স্যার!
খ. হাহ! কই না তো! কী বলেন এসব, স্যার। আমি দেখাদেখি করি নাই, কসম।
গ. সরি স্যার, আর হবে না। এবারের মতো মাফ করে দেন। প্লিজ।
• এরা পরীক্ষার খাতায় অনেক সময় স্যারদের উদ্দেশে মন্তব্য লিখে আসে। যেমন–‘পাস করিয়ে দিন স্যার, নইলে বাবা রিকশা কিনে দেবে’ কিংবা ‘এবার পাস না করলে বাবা বিয়ে দিয়ে দেবে’ ইত্যাদি।
• পাশাপাশি দুই ব্যাকবেঞ্চারের সিট পড়লে এরা পড়া ভাগাভাগি করে নেয়। যেমন–কত থেকে কত চ্যাপ্টার এ পড়বে, আর কত থেকে কত চ্যাপ্টার ও পড়বে। সেভাবেই ওরা পরীক্ষার হলে আসে এবং দেখাদেখি করে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরে।
• ১০০ মার্কের উত্তর দিয়েও যখন কেউ ৮০ পাওয়া নিয়ে চিন্তায় থাকে, তখন ৩৫ মার্কের উত্তর দিয়ে ৩৩ পেয়ে, পাস করার স্বপ্ন ব্যাকবেঞ্চাররাই দেখে।