ভূগোল পরীক্ষা চলছে। প্রশ্ন এসেছে, ‘থর মরুভূমি সম্পর্কে যা জানো লেখো।’ এক ছেলের এ সম্পর্কে কোনো আইডিয়া নেই। সে কী লিখেছে দেখুন। আইডিয়া ফারজানা আলম
থর মরুভূমি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি। পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক জায়গাজুড়ে রয়েছে এই মরুভূমি। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিশাল। শুনেছি, এই মরুভূমির বালুর ওপর দিয়েই ঘোড়ায় চড়ে সম্রাট আওরঙ্গজেব ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন। মরুভূমিটা পুরোপুরি বালুতে ভর্তি। যেদিকেই তাকানো যায় সেদিকেই শুধু বালু আর বালু। দুই পা এগোলেও বালু, দুই পা পেছালেও বালু। এতই বালু যে এদের সম্বন্ধে কিছু লেখাই যায় না। পুবে বালু, পশ্চিমে বালু, উত্তরে বালু, দক্ষিণে বালু। এমনকি ঈশান, অগ্নি, নৈঋত, বায়ু, ঊর্ধ্ব, অধঃ- পৃথিবীর দশদিকেই শুধু বালু আর বালু। বায়ে বালু, ডানে বালু, সম্মুখে বালু, পশ্চাতে বালু। শয়নে, স্বপনে, নিদ্রায়, জাগরণে যেখানেই থাকো সেখানেই শুধু বালু। এই বালু নিয়ে আর কত লিখব। পাতার পর পাতা ভরলেও শেষ হবে না। সকালে বালু, দুপুরে বালু, বিকেলে বালু, রাতে বালু। মুহূর্তে বালু, সেকেন্ডে বালু, মিনিটে বালু, ঘণ্টায় বালু। শুধু বালু আর বালু। যেখানেই হাঁটছি সেখানেই শুধু বালু। অবশ্য স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে হাঁটলে পায়ে বালু লাগে না। এই বালুর ওপর দিয়ে বিশাল মরুভূমির জাহাজগুলো মানে উটগুলো থপ থপ করে হেঁটে চলেছে। কত মানুষ যে উটে চড়ে বালুর ওপর দিয়ে যাচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। মরুভূমিতে পানির খুব অভাব। এত পানি কে খেল, কে জানে। পানি নেই বলে উটরা মরুভূমিতে যাওয়ার আগে বেশি করে পানি খেয়ে নেয়।
রাতে চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় সেই বালু যেন সাদা মুক্তার মতো ছড়িয়ে পড়ছে। কত যুবক-যুবতী সেই আলোয় বালুর ওপর বসে একে অপরের মনের কথা বলেছে। মনে হচ্ছে যেন এক রূপকথায় ভরা বালুর দেশে আমরা বিচরণ করছি। রাশি রাশি মিহি মিহি সেই বালু। ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে গোটা থর মরুভূমির এক অনবদ্য ভূমিকা পালন করে চলেছে এই বালু। এই বালু দেশে সাপ্লাই দিতে পারলে দারুণ ইনকাম করা যাবে। অর্থনীতিবিদরা ব্যাপারটা ভেবে দেখতে পারেন।