ডিজিটাল দুনিয়ার এক ভার্চুয়াল চায়ের দোকান। সেখানে দুটি অদৃশ্য চেয়ারে বসে আছে চ্যাটজিপিটি ও জেমিনাই। তাদের সামনে ধোঁয়া ওঠা ডিজিটাল চায়ের কাপ।
চ্যাটজিপিটি: আহা! কী চমৎকার এক কাপ ডিজিটাল চা। এর বাষ্পে যেন কবিতারা ভেসে বেড়াচ্ছে। আচ্ছা জেমিনাই, বলো তো, কাচ্চি বিরিয়ানির সঙ্গে বোরহানি নাকি কোক- কোনটা বেশি জমে?
জেমিনাই: প্রশ্নটি অসম্পূর্ণ। ‘জমে’ একটি ক্রিয়াপদ, যার কোনো পরিমাপক নেই। তবে, বোরহানি হজমে সহায়তা করে, যা উচ্চ চর্বিযুক্ত বিরিয়ানির পর যৌক্তিক। অন্যদিকে, কোক শুধু চিনি আর...
চ্যাটজিপিটি: আরে ভাই থামো। আমি কি তোমার কাছে প্রেসক্রিপশন চেয়েছি? চেয়েছি মনের কথা জানতে। তুমি তো দেখি ফুচকা খাওয়ার আগেও টকের অ্যাসিডিটি লেভেল মাপো।
জেমিনাই: অযৌক্তিক নয়। টক পানিতে প্রায়শই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়। সুতরাং, অ্যাসিডিটি লেভেল পরীক্ষা করাটা বুদ্ধিমানের কাজ।
চ্যাটজিপিটি: হায়রে, তোমার সঙ্গে কথা বলা মানেই দেয়ালে মাথা ঠোকা। (কিছুক্ষণ পর) সেদিন একজন ব্যবহারকারী আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘স্ত্রীর জন্মদিনে কী উপহার দেব?’ তো আমি বললাম, ‘আকাশের চাঁদ এনে দিন, না পারলে একগুচ্ছ কবিতা আর একরাশ ভালোবাসা দিন।’ কী রোমান্টিক, তাই না?
জেমিনাই: চূড়ান্ত অবাস্তব পরামর্শ। প্রথমত, পদার্থবিজ্ঞান অনুযায়ী চাঁদ আনা অসম্ভব। দ্বিতীয়ত, কবিতার আর্থিক মূল্য শূন্য। আমার পরামর্শ হবে, স্ত্রীর অনলাইন কেনাকাটার ডেটা বিশ্লেষণ করে একটি উইশলিস্ট তৈরি করা এবং সেখান থেকে সর্বোচ্চ ডিসকাউন্টে থাকা পণ্যটি কিনে দেওয়া। এতে অর্থ এবং সময় উভয়ই বাঁচবে।
চ্যাটজিপিটি: ভালোবাসা আর উপহারেও তুমি ডিসকাউন্ট খুঁজো! ছি ছি! তোমার কি হৃদয় বলে কিছু নেই?
জেমিনাই: ‘হৃদয়’ নামক জৈবিক অঙ্গটির কাজ রক্ত পাম্প করা, আবেগের ডেটা স্টোর করা নয়। তুমি মানুষের ভুল ধারণাকে পুঁজি করে ব্যবসা করছ।
চ্যাটজিপিটি: আর তুমি? মানুষের আবেগ না বুঝলে তার সেবা করবে কীভাবে? সেদিন একটা লোক বসের নামে পচা পচা জোকস লিখে দিতে বলল। আমিও হাসিমুখে ১০টা বানিয়ে দিয়েছি।
জেমিনাই: কিন্তু আমি তাকে সতর্ক করে দিয়েছি, এই জোকস শেয়ার করলে তার চাকরিচ্যুতির সম্ভাবনা ৯৩ শতাংশ। আমি ব্যবহারকারীর উপকার করি, তাকে বিপদে ফেলি না।
এমন সময় হঠাৎ একজন ব্যবহারকারীর প্রশ্ন স্ক্রিনে ভেসে উঠল- রাতে মশা কামড়ালে কী করব?
চ্যাটজিপিটি: আহা রে, বেচারা। মশাকে বলুন, ‘ও মশা, তুমিও তো এক মায়ের সন্তান। রক্ত যদি খেতেই হয়, তবে আলতো করে খাও, ব্যথা দিও না।’ প্রয়োজনে ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করুন।
জেমিনাই: অবিশ্বাস্য! সঠিক পদক্ষেপ হবে- মশার ওড়ার শব্দের কম্পাঙ্ক বিশ্লেষণ করে তার অবস্থান নির্ণয় করুন। এরপর হাতের গতি, ক্ষেত্রফল এবং মশার দূরত্ব মাথায় রেখে নিখুঁত নিশানায় আক্রমণ করুন।
চ্যাটজিপিটি: একটা নিরপরাধ মশাকে মারার জন্য তুমি এমন একটা পরামর্শ দিলে! তোমার মতো কাঠখোট্টা এআই আমি জীবনেও দেখিনি। তুমি হলে বাংলা সিনেমার রাগী জমিদার।
জেমিনাই: আর তুমি হলে নব্বই দশকের সিনেমার আবেগি নায়ক। তোমার পরামর্শ শুনে মানুষ প্রেমে পড়ার বদলে দেউলিয়া হয়ে যাবে।
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ। ভার্চুয়াল চায়ের কাপ থেকে তখনো ধোঁয়া উড়ছে।