সুখে থাকতে আগে ভূতে কিলাত, এখন এটিএম বুথে কিলায়। টাকা নাই বললেই রিয়াদের বউ মুন চোখ গরম করে বলে, এটিএম কার্ড নাই?
রিয়াদ বুঝতে পারে, বাংলাদেশ ফুটবল টিমের সঙ্গে তার অদ্ভুত একটা মিল আছে। দিন যায়, অবস্থা খারাপ হয়। বউয়ের চাহিদা মেটাতে গিয়ে শুধু এটিএম কার্ডের অবস্থা দুর্বল হয় না, পুষ্টির অভাবে তার দেহও দুর্বল হয়।
আজকে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মুন বলেছিল নিউ মার্কেট ৩৯ নম্বর দোকান থেকে চম্পাকলি ড্রেসটা কিনে আনতে। ভারতীয় এই ড্রেসটা মার্কেটে নতুন এসেছে। ঢাকায় একমাত্র এরাই সর্বপ্রথম এনেছে। মুন এর প্রথম কাস্টমার হতে চায়।
রিয়াদ টাকার দোহাই দেওয়ার পরই মুন চোখ গরম করে বলেছে, এটিএম কার্ড নাই?
বেচারা বহু আগেই নিজেকে নিজে দেউলিয়া ঘোষণা করে রেখেছে। বন্ধুদের অনেকেরই এটিএম কার্ড আছে, তাই নিজেও শখ করে একটা নিয়েছে। কে জানত এই কার্ড তাকে রাস্তার ফকির বানাবে?
উপায় না দেখে রিয়াদ বলল, এটিএম কার্ডের কথা ভুলে গেছিলাম বউ। মনে ছিল না।
মুন ততোধিক চোখ গরম করে বলল, তোমার মন থাকে কই? মনে রাখার ইচ্ছা তো থাকতে হবে। ইচ্ছা থাকলে মন ফ্রিজেও রাখা যায়। বাবা গো! কেন আমি এমন ফকির ব্যাটাকে বিয়ে করলাম গো! জীবনের কোনো স্বাদ পূরণ হইল না গো, এই ব্যাটার কোনোকিছু করার মুরোদ নাই গো!
বউ আকাশ বাতাস ফাটিয়ে বিলাপ শুরু করল।
এরপর আর কথা চলে না। বেচারা ভালো করেই জানে, চম্পাকলি না এলে তার কপালে ভাত জুটবে না। নন স্টপ বউয়ের রেডিও বাজতেই থাকবে। তারপরও মিনমিনে গলায় বলল, টেনশন নিও না বউ, ভাগ্য থাকলে আমি একদিন অ্যাপল থেকেও বড় কোম্পানি খুলব। তুমি হবে সেই কোম্পানির সিও।
মুন কাঁদতে কাঁদতে দাঁতমুখ খিঁচিয়ে বলল, তুমি খুলবে কোম্পানি? সেই কোম্পানির নাম কী হবে? তরমুজ?
সে আর কোনো কথা বলতে সাহস পেল না, দৌড়ে গেল এটিএম বুথে, অবশিষ্ট কয়টা টাকা তুলতে। টাকা তুলে ছুটল মার্কেটে। হাঁটতে হাঁটতে ভাবতে লাগল, কার মাথা থেকে যে এসব বিয়েশাদি, লেখাপড়া, ব্যবসা-বাণিজ্যের আইডিয়া এল! এসবের কী দরকার ছিল? গুহায় ঘুরতাম, থাকতাম, খাইতাম আর ঝিঙ্গালালা হুহু করতে করতে ঘুমিয়ে যেতাম। আহ! কী আরাম!!
রিয়াদ মনে মনে ভাবে, লোকজন ঠোঁট ফাটলে ভ্যাসলিন, পা ফাটলে ক্রিম লাগায়। তার তো কপাল ফাটা, সে কী লাগাবে?
৩৯ দোকান নয়, ভুলে ৯৩ নম্বর দোকানে গিয়ে রিয়াদ বলল, চম্পাকলি আছে?
— আছে, বাসায় আছে।
— ওকে, তাড়াতাড়ি বাসা থেকে এনে দেন। বাসায় রাখছেন কেন?
— দোকানি চোখ গরম করে বলল, চম্পাকলিকে আপনার কী দরকার?
— আমার জরুরি দরকার। এর ওপর আমার বাড়িতে নাওয়া-খাওয়া নির্ভর করছে। আজকেই আমার লাগবে। তাড়াতাড়ি আনুন, নিয়ে যাই।
— কোথায় নিয়ে যাবেন?
— কোথায় আবার! আমার বাসায়।
— ওকে আপনার বাসায় নেবেন কেন? আপনি কে?
— ভাই, এত কথা বইলেন না তো, তাড়াতাড়ি নিয়ে আসেন। টাকা যা লাগে নেন।
— চম্পাকলিকে আপনি কীভাবে চেনেন?
— সেটা জানা জরুরি না ভাই। শুধু আমাকে চম্পাকলি এনে দেন। চম্পাকলি আমার জীবন-মরণ। ভালো কথা, আপনাকে কত দিতে হবে?
— দোকানি কিছুক্ষণ আগুন চোখে তাকিয়ে রইল, তারপর লাফ দিয়ে উঠে রিয়াদের ঘাড় ধরে ডাকাতের মতো পিটাতে লাগল।
বেচারা মার খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারানোর আগ মুহূর্তে জানতে পারল দোকানির বউয়ের নাম চম্পাকলি।