ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন
Nagad desktop

বিশ্বরাজনীতিতে শক্তিশালী তুরস্কের সামরিক অবস্থান সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:৫৪ পিএম
আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:১০ পিএম
বিশ্বরাজনীতিতে শক্তিশালী তুরস্কের সামরিক অবস্থান সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
তুরস্কের সামরিক বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

সমসাময়িক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর তালিকায় নজর দিলে একটা বিষয় লক্ষ্য করা যায় তা হলো, প্রায় প্রতিটি দেশেরই সামরিক শক্তি অভাবনীয়। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে অথবা কথিত সেই দুঃস্বপ্নের মাঝে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, বিশ্ব মোড়লরা কীভাবে তাদের সামরিক শক্তির ঝুলি দিন দিন আরও ভারী করছে। তৃতীয় বিশ্বের প্রায় অদৃশ্য এক কোণে বসে বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের দিকে কিছুটা অর্থপূর্ণ দৃষ্টি রাখার প্রচেষ্টাই ‘সামরিক শক্তির আদ্যোপান্ত’ সিরিজ। এই সিরিজে আজ থাকছে তুরস্কের সামরিক শক্তির বিস্তারিত-

ইউরেশিয়া অঞ্চলের দেশ তুরস্কের সামরিক শক্তি বেশ কিছু সংস্কার ও পরিমার্জনের পর বর্তমান অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। ঐতিহাসিক পটভূমি ও কৌশলগত সুবিধা বাস্তবায়ন এই বিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইন্ডেক্সের (জিএফপিআই) তথ্য অনুয়ায়ী সামরিক শক্তিতে ১৪৫টি দেশের মধ্যে তুরস্কের অবস্থান অষ্টম। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সমীহ আদায় করে নিয়েছে কয়েক শতাব্দীর পুরোনো এই শক্তি। তৎপর প্রতিরক্ষাখাত ও আধুনিক পররাষ্ট্রনীতির ওপর ভর করে নিজেদের অবস্থান ক্রমেই দৃঢ় করে তুলছে দেশটি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

তুরস্কের সামরিক ইতিহাস জানতে অটোমান সাম্রাজ্যের কাছে যেতে হয়। বহুস্তরবিশিষ্ট সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই পরাশক্তি কয়েক শতক ধরে বিশ্বে নিজেদের শক্তি বজায় রেখেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুর্কি সাম্রাজ্যের পতনের পর দেশটির সামরিক খাত উল্লেখযোগ্য রদবদলের সাক্ষী হয়।

১৯২৩ সালে প্রজাতন্ত্র গঠনের পর মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক সরকার ধর্মনিরপেক্ষতা ও আধুনিকায়ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে তুরস্কের রাষ্ট্রনীতিতে সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করে।

স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৫২ সালে পশ্চিমা রাষ্ট্রজোট ন্যাটোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানে যায় তুরস্ক।

১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালে সংঘটিত কোরিয়ার যুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সামরিক সহাবস্থানে যায় তুরস্ক। ইউরেশিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব কমাতে এটা তুরস্কের কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছিল বলে মত বিশ্লেষকদের। 

তবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সঙ্কট ও সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে বিংশ শতাব্দীর শেষাংশে তুরস্কের জনগণের কাছে সামরিক বাহিনীর অবস্থান কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

দেশটির সাম্প্রতিক টানাপোড়েন মূলত কুর্দি বিদ্রোহীগোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ারকার্স পার্টি (পিকেকে) ঘিরে। এ ছাড়া আরব বসন্তের পর থেকে উদ্ভূত সিরিয়ার গৃহযুদ্ধও তুরস্কের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কূটনৈতিক কৌশল আধুনিকায়নের চেষ্টা করছে বর্তমান এরদোগান সরকার।

সামরিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি:

২০২৪ সালে এসে তুরস্কের সামরিক বাহিনীতে (টিএএফ) প্রায় আট লাখ ৯০ হাজার সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে চার লাখ ২৫ হাজার সৈন্য সরাসরি কর্মরত। বাকিদের রাখা হয়েছে সঙ্কটাপন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায়।

সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী - এই তিন শাখা নিয়ে তুরস্কের সামরিক বাহিনী গঠিত।

দেশের বার্ষিক জিডিপির প্রায় এক দশমিক পাঁচ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয় দেশটির সরকার। এই বরাদ্দের পরিমান অর্থের হিসাবে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ ছাড়া দেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বেশ কিছু সময়োপযোগি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক সরকার। 

প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়বৃদ্ধি:

প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশ নির্ভরতা কমাতে দেশেই অস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে আঙ্কারা। বেরাক্তার টিবি২-এর মতো অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বনির্ভরতার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে তারা। এ ছাড়া শক্তিশালী নৌঘাটি ও সাঁজোয়াযান তৈরির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে তুরস্ক।

প্রযুক্তিগত উন্নয়ন: 

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গুরত্বারোপ করায় দেশেই আনম্যান্ড অ্যারিয়াল ভেহিকলসের (ইউএভি) মতো আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি সম্ভব হয়েছে। এদিকে প্রথমবারের মতো দেশের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কান ফাইটার উদ্ভাবনে প্রায় সফলতার দ্বারপ্রান্তে তুরস্ক।

আঞ্চলিক সামরিক অবস্থান: 

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তুরস্কের সামরিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্ববহ। সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া ও কাতারে দেশটির সামরিক সদস্যের কৌশলগত অবস্থান রয়েছে। আঞ্চলিক কূটনীতিতে তুরস্কের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। সিরিয়ার সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের পেছনে তুরস্ক সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) ভূমিকা এই বক্তব্যকেই প্রমাণ করে। 

তুরস্কের সামরিক জোট: 

ন্যাটোর সঙ্গে মিলে নিয়মিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করে তুরস্ক। এ ছাড়া মুসলিম বিশ্বে কূটনৈতিক অবস্থান দৃঢ় করতে পাকিস্তান ও আজারবাইজানের মতো ন্যাটো-বহির্ভূত দেশে সঙ্গেও ইতিবাচক সামরিক জোট গঠন করেছে দেশটি।
তুরস্কের পরমাণুনীতি।

বর্তমানে কোনো পারমাণবিক গবেষণা কার্যক্রম না থাকলেও এই খাতে উন্নতির প্রত্যাশা করছে তুরস্ক সরকার। মূলত জলবায়ুসহায়ক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যেই পরমাণু খাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।  

১৯৭৯ সালে পারমাণবিক অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ চুক্তি (এনপিটি) স্বাক্ষরের মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা উৎপাদন বাতিল করেছে দেশটি। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তি কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী এই খাতের শান্তিপূর্ণ ও জনহিতকর ব্যবহার নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর তুরস্ক।

এ বিষয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সাম্প্রতিক বক্তব্য বিশ্বমহলে কিছুটা অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। ‘তুরস্ক পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে পারলে বিরোধীতার এখতিয়ার নেই পশ্চিমা বিশ্বের’ - প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্যের পর সমালোচনা করছেন অনেকেই।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিগত খামতি ও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে তুরস্ক চাইলেও সহসাই পারমাণবিক খাতে দুরূহ শক্তি হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারবে না। 

এদিকে ন্যাটোর গোষ্ঠীগত প্রতিরক্ষা অনুবন্ধের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পারমাণবিক ঘাঁটি স্থাপনে সম্মত হয়েছে তুরস্ক। তবে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক বাণিজ্যে জড়িত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে আঙ্কারার কূটনৈতিক বিশ্বস্ততা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। 

আধুনিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ভবিষ্যতে তুরস্কের সামরিক খাতে বেশ কিছু সংস্কারের সম্ভাবনা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-

আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে তৎপরতা বৃদ্ধি: 

সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দ্বন্দ্বে তুরস্কের সক্রিয় অবস্থান থাকবে বলেই ধারণা করা যায়। ইরাক ও সিরিয়ায় কুর্দি বিদ্রোহ দমনে দেশটির সচেষ্ট ভূমিকা প্রত্যাশা করলে ভুল হবে না।

প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি:

কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্ত করতে প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বহরে দেশে উৎপাদিত আধুনিক অস্ত্রই বেশি রাখতে চাইবে তুরস্ক। গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশটি প্রতিরক্ষা খাতে সমূহ উন্নতির পরিকল্পনা করছে।

পরমাণু খাতে আগ্রহ:

এনপিটি চুক্তির কারণে পারমাণবিক বোমা উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইরানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করলে আঙ্কারা এ বিষয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতে পারে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি: 

রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০’র মতো আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র কেনায় ন্যাটোর সঙ্গে কিছুটা বিরোধপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে তুরস্ক। তবে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রেখে ন্যাটো-বহির্ভূত দেশগুলোর সঙ্গে সহাবস্থান টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী এরদোয়ান সরকার।

তুরস্কের সামরিক অবস্থান এক বিশাল সাম্রাজ্যবাদ থেকে আধুনিক যুদ্ধশাস্ত্রের পাঠ দেয়। সিরিয়ার গোলান মালভূমি থেকে গাজার শরণার্থী শিবির - সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আঙ্কারার অবস্থারের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। সার্বিক বিবেচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট নিরসনে দেশটি শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেই প্রত্যাশা।

সূত্র: কার্নেগি এনডাওমেন্ট, ‘চেসিং দ্য রেড অ্যাপল: টার্কিশ কোয়েস্ট ফর স্ট্র্যাটেজিক অটোনিমি’, গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইন্ডেক্স (জিএফপিআই) , আইরিস- ‘এ লুক আপন টার্কিশ ফিউচার নিউক্লিয়ার ওয়েপনস পলিসি’

নাইমুর/অমিয়/

বান্ধবীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়ে ‘উসুল’ করতে চেয়েছিলেন তরুণ

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
বান্ধবীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়ে ‘উসুল’ করতে চেয়েছিলেন তরুণ
প্রতীকী ছবি

ডেটে গিয়ে এক তরুণীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাওয়ানোর পর সেই খরচ ‘উসুল’ করার জন্য যৌন সুবিধা চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভারতের গুরুগ্রামের বাসিন্দা হিমাংশু জাংরা। 

একটি স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শোতে দেওয়া তার সেই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর চাকরি হারাতে হয়েছে তাকে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিমাংশু কৌতুকশিল্পী প্রণীত মোরের একটি অনুষ্ঠানে দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। শো চলাকালে প্রণীতের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি নিজের একটি ডেটের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

হিমাংশুর দাবি, তিনি এক তরুণীকে নিয়ে ডেটে গিয়েছিলেন এবং দুজনে প্রায় ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খেয়েছিলেন। রাতের খাবারের পর ওই তরুণী যখন তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন, তখন তিনি নাকি বলেন যে খাবারের জন্য খরচ হওয়া ৩৭০ টাকা ‘উসুল’ করতে চান।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি বললাম, যে ৩৭০ টাকা খরচ হয়েছে, সেটা তো উসুল করবই।’

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন হিমাংশু। অনেকেই তার মন্তব্যকে নারীর প্রতি অসম্মানজনক ও আপত্তিকর বলে আখ্যা দেন।

জানা গেছে, হিমাংশু ‘স্টারভিক ডিজাইন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

হিমাংশুর বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখে অনেকেই বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একাংশ তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান।

এ ঘটনার পর স্টারভিক ডিজাইনের প্রতিষ্ঠাতা বিবেক বিশ্বকর্মা একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা হিমাংশুকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছি। ভুলের পরিণতি ভোগ করতেই হয়। তবে আমরা আশা করি, এই ধরনের ঘটনা আত্মসমালোচনা, শিক্ষা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করবে। পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অন্যদিকে, হিমাংশু তার মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এবং নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন কৌতুকশিল্পী প্রণীত মোরও। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

অমিয়/

ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছেন ৭৪ বছরের চীনা ‘তরুণী দাদি’

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছেন ৭৪ বছরের চীনা ‘তরুণী দাদি’
ইংজি। ছবি: সংগৃহীত

চীনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা তার ভিন্ন ফ্যাশন সচেতনতা, তারুণ্যদীপ্ত মনোভাব এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।

সাদা চুল এবং চমৎকার শারীরিক গঠনের অধিকারী এই প্রবীণ নারীর নাম ইংজি (Yingzi)। নেটিজেনরা তাকে ভালোবেসে 'তরুণী দাদী' (গার্লিস গ্রেন্ডমা) বলে ডাকছেন।

হাই হিল পরে শহরের রাস্তায় তার নাচ ও ক্যাটওয়াকের ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ ফলোয়ার অর্জন করেছে এবং এগুলোর ভিউ ১০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

ইংজি জানান, তার চিরসবুজ অবয়বের মূল রহস্য হলো নিজের স্টাইল ধরে রাখা। তিনি তরুণদের পছন্দের রঙচঙে পোশাক থেকে শুরু করে পপ, পাংক এবং গার্ল-গ্রুপ ফ্যাশনের পোশাকও দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরেন।

শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে তিনি প্রতিদিন সকালে এক ঘণ্টা যোগব্যায়াম করেন এবং বিকেল ৫টার পর আর কোনো খাবার খান না।

আশির দশকে স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে জাপানে থাকার সময় তিনি একটি রেস্তোরাঁ চালাতেন, যেখানে তার সৌন্দর্যের কারণে একটি সুপরিচিত জাপানি ম্যাগাজিনেও তার ছবি ছাপা হয়েছিল।

পরবর্তীতে চীনে ফিরে 'রিয়েল এস্টেট' ব্যবসায় সফল হয়ে তিনি নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেন এবং দাতব্য সংস্থায় লাখ লাখ ইউয়ান দান করেন।

৭০ বছর বয়সে তিনি প্রবীণ নারীদের একটি ফ্যাশন গ্রুপে যোগ দেন। এই গ্রুপটি নারীদের মনে সাহস জোগাতে, বয়সকে জয় করার পরামর্শ দিতে এবং পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করে।

সম্প্রতি তিনি সাংহাই ডিজনিল্যান্ডের একটি ফ্যাশন শোতে হেঁটে তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছেন।

ইংজির মতে, বয়স কোনো বাধা নয়, বরং একটি সম্পদ। তিনি ১২০ বছর বয়স পর্যন্ত এভাবেই সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তার এই ভিন্ন ধারার জীবনযাত্রা প্রবীণদের নিয়ে প্রচলিত সমাজিক ধারণা ভেঙে নতুন প্রজন্মকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

আজহার/অমিয়/

পরীক্ষার আগে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও উদ্বেগ কমাতে অক্সিজেন থেরাপি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
পরীক্ষার আগে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও উদ্বেগ কমাতে অক্সিজেন থেরাপি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
ছবি: এআই

চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরীক্ষা ‘গাওকাও’ সামনে রেখে বহু শিক্ষার্থী হাসপাতালমুখী হচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, অক্সিজেন থেরাপি মস্তিষ্ককে ‘পুনরুজ্জীবিত’ করে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং পরীক্ষাজনিত উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।

গাওকাও হলো চীনের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, যা প্রতি বছর ৬ থেকে ৮ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। 

দেশটিতে এই পরীক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়, কারণ এর ফলাফলই মূলত নির্ধারণ করে দেয় একজন শিক্ষার্থী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কোন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাওকাও পরীক্ষার্থীদের জন্য অক্সিজেন থেরাপির উপকারিতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। এসব পোস্টে দাবি করা হয়, এই থেরাপি ঘুমের মান উন্নত করে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত হাসপাতালের হাইপারবারিক অক্সিজেন চেম্বারে পরিচালিত এই চিকিৎসা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

পূর্ব চীনের জিয়াংসি প্রদেশের ইয়ংফেং কাউন্টি পিপলস হাসপাতাল গত ২৩ মে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে এই সেবা চালু করে। হাসপাতালটির তথ্য অনুযায়ী, চালুর এক সপ্তাহের মধ্যেই ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী এই সেবা নিয়েছেন।

৯০ মিনিটের একটি সেশনের জন্য খরচ পড়ে ৯৬ ইউয়ান (প্রায় ১৫ মার্কিন ডলার)। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেবাটির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তাদেরও বিস্মিত করেছে।

হাসপাতালের হাইপারবারিক চেম্বার মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক দাই ফানবিং বলেন, উচ্চ ঘনত্বের অক্সিজেন গ্রহণের ফলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ে, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার বা মেরামতে সহায়তা করতে পারে। সাধারণত রক্ত সঞ্চালন বা অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত রোগের চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদু শহরের হুয়াক্সি নং-৪ হাসপাতালও কয়েক বছর ধরে গাওকাও পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সেবা দিয়ে আসছে।

এক শিক্ষার্থী জানায়, অক্সিজেন থেরাপি নেওয়ার পর তার ঘুম ভালো হচ্ছে এবং দিনের বেলায় মনোযোগও বেড়েছে।

এক অভিভাবক বলেন, তার সন্তান চার বার এই থেরাপি নিয়েছে এবং এর ফলাফলে সন্তুষ্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যবহারকারী হাইপারবারিক চেম্বারে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে লিখেছেন, ‘চেম্বারের ভেতর ছিল একদম শান্ত। শুধু নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পড়ি। বের হওয়ার পর মনে হয়েছে, যেন আমার মস্তিষ্ক নতুন করে চালু হয়েছে এবং চিন্তাভাবনা আরও পরিষ্কার হয়েছে।’

তবে চিকিৎসক দাই ফানবিং সতর্ক করে বলেছেন, হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি সবার জন্য উপযোগী নয় এবং এটি গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তিনি জানান, এমফাইসিমা, টিম্পানাইটিস এবং গুরুতর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই থেরাপি উপযুক্ত নয়।

দাই আরও বলেন, ‘এই প্রবণতার বিষয়ে আমি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করি। অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক গাওকাও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অক্সিজেন থেরাপিকে এক ধরনের জাদুকরী সমাধান হিসেবে দেখছেন, যা বাস্তবসম্মত নয়।’

জিয়াংসি প্রদেশের মনোবিজ্ঞানী উ পেইশুয়ে বলেন, পরীক্ষার চাপ কমানোর জন্য আরও সহজ ও বৈজ্ঞানিক উপায় রয়েছে। এর মধ্যে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, রোদে সময় কাটানো এবং ব্যক্তিগত শখ চর্চা উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, ‘গাওকাও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে তথাকথিত অলৌকিক সমাধানের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস না রাখাই ভালো। এসব বিষয় অনেক সময় কেবল প্ল্যাসিবো প্রভাব সৃষ্টি করে। বাহ্যিক উপায়ের ওপর নির্ভর না করে নিজের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা অধিক কার্যকর।’ সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

অমিয়/

এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:০১ পিএম
এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য
ছবি: প্রতীকী

বিখ্যাত ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গিলিয়াড সায়েন্সেস এবং মের্ক-এর তৈরি এইচআইভির নতুন ওষুধ তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।

এই চিকিৎসাপদ্ধতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- এটি প্রতিদিন সেবন করতে হবে না; সপ্তাহে মাত্র এক বার খেলেই চলবে।

ওষুধটি কীভাবে কাজ করে?

নতুন ট্যাবলেটটিতে মের্কের তৈরি আইসল্যাট্রাভির এবং গিলিয়াডের তৈরি লেনাক্যাপাভিরের উপাদানকে সমন্বয় রয়েছে। এটি এইচআইভি ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির বিভিন্ন ধাপকে একযোগে লক্ষ্যবস্তু করে। ফলে শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ভাইরোলজিক্যালি সাপ্রেসড’ হিসেবে পরিচিত।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, টানা ৪৮ সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে এক বার সেবনযোগ্য এই ট্যাবলেট রোগীদের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসকে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। বর্তমানে বাজারে থাকা প্রতিদিন সেবনযোগ্য জনপ্রিয় ওষুধগুলো শরীরকে যতটুকু সুরক্ষা দেয়, সপ্তাহে মাত্র একটি ট্যাবলেটও ঠিক ততটুকুই কার্যকর ও শক্তিশালী বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিদিন নিয়ম করে ওষুধ সেবন করতে হয়। অনেক সময় ওষুধ খাওয়ার কথা ভুলে যাওয়া বা প্রতিদিন ওষুধ সেবনের কারণে মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

গিলিয়াড সায়েন্সেসের কর্মকর্তা ড. জ্যারেড বেটেন বলেন, সপ্তাহে মাত্র এক বার ওষুধ সেবনের এই সুবিধা এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এটি তাদের জীবনযাত্রায় আরও বেশি স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

ওষুধটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ট্রায়ালের সব তথ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। অনুমোদন পেলে এটিই হবে এইচআইভি চিকিৎসায় বিশ্বের প্রথম সপ্তাহে এক বার সেবনযোগ্য ওষুধ। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:০১ পিএম
ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ
প্রতীকী ছবি

নতুন পরীক্ষামূলক ওজন কমানোর ওষুধ ‘রেটাট্রুটাইড’ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদন পায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে এটি বিক্রি করা অবৈধ। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অনেক লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিক আইন অমান্য করেই রোগীদের এই ওষুধ দিতে শুরু করেন।

রেটাট্রুটাইড এলি লিলি কোম্পানির তৈরি একটি ওষুধ। ট্রায়ালে দেখা গেছে, এটি ওজেম্পিক বা মাউঞ্জারোর চেয়েও দ্রুত এবং বেশি (প্রায় ২৮ শতাংশ) ওজন কমাতে সাহায্য করে।

সমস্যা হলো, এফডিএ এখনও যাচাই করে দেখেনি যে, ওষুধটি মানবদেহের জন্য কতটা নিরাপদ ও কার্যকর। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে এই ওষুধের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে এটি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।

চিকিৎসকদের মতে, ওষুধটি অনুমোদন পাবেই। তাই রোগীদের দ্রুত উপকার করার উদ্দেশ্যে তারা এখনই এটির পরামর্শ দিচ্ছেন।

অনেক ওষুধের দোকান ও ক্লিনিক এটিকে ‘গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য’ বলে লেবেল লাগিয়ে বিক্রি করছে, যাতে আইন এড়িয়ে যাওয়া যায়। সঠিক নিয়ম ও তদারকি ছাড়া ইন্টারনেট বা অননুমোদিত ক্লিনিক থেকে এই ওষুধ কিনে ব্যবহার করায় মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে এই ওষুধ-সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। 

ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই মারাত্মক বমি, তীব্র ডায়রিয়া, পেটে শক্ত চাকা তৈরি হওয়া এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা নিয়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।

এফডিএ এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মেডিকেল বোর্ড ইতোমধ্যে এই অবৈধ বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলি লিলি জানায়, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে এই ওষুধ বিক্রি করা বেআইনি। সূত্র: সিবিএস নিউজ

তামান্না রুপা/অমিয়/