কখনও কি ভেবে দেখেছেন এখন চাঁদে কয়টা বাজে? এ প্রশ্নের শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যাবে।
পৃথিবীর মতো একটি একক, সর্বজনীন সময় নির্ধারণের জন্য চাঁদে একটি নতুন টাইম জোন তৈরি করতে যাচ্ছে নাসা। যার নাম হবে "Coordinated Lunar Time" বা LTC।
ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়ার ছাড়াও এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য, চাঁদে যেসব মিশন পরিচালিত হবে, তার সঠিক সময়সূচি নির্ধারণ করা।
নাসা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে LTC পরিকল্পনা বাস্তাবায়ন করার জন্য কাজ করছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ২৯শে এপ্রিল, মার্কিন হাউস সায়েন্সের স্পেস অ্যান্ড টেকনোলজি কমিটি সেলেস্টিয়াল টাইম স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন অ্যাক্ট (HR 2313) অনুমোদন করেছে। তবে বিলটি পাস হয়ে আইনে পরিণত হওয়ার আগে সেটি নিয়ে আরও বিশদ গবেষণা করা হচ্ছে।
পৃথিবীর তুলনায় চাঁদে মাধ্যাকর্ষণ অনেক কম, আর এর ফলাফল হিসেবে চাঁদে সময়ের গতিও একটু ভিন্ন। সেখানে প্রতিটি দিন পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৫৬ মাইক্রোসেকেন্ড দ্রুত চলে। এই সময়ের পার্থক্যটি শুনতে সামান্য মনে হতে পারে। তবে এই সময়ের পার্থক্য মহাকাশের বিভিন্ন মিশনের সুরক্ষা ও সঠিক গতিপথ নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিলটি পাস হলেই নাসাকে একটি সমন্বিত চন্দ্র সময় (LTC) সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করবে যা পৃথিবীতে সমন্বিত সর্বজনীন সময়ের (UTC) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। কিন্তু চাঁদের অনন্য মহাকর্ষীয় এবং পরিবেশগত অবস্থার সাপেক্ষেই সেটি প্রতিষ্ঠা করা হবে।
সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুসারে, চাঁদের সময় পৃথিবীর তুলনায় প্রতিদিন প্রায় ৫৮.৭ মাইক্রোসেকেন্ড দ্রুত গতিতে চলে। দৈনন্দিন জীবনে এই অসঙ্গতি খুবই সামান্য হলেও, মহাকাশ নেভিগেশন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য এই অসঙ্গতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেননা, আলোর গতিতে ভ্রমণকারী কোন মহাকাশযান বা বস্তুর জন্য, ৫৬ মাইক্রোসেকেন্ড প্রায় ১৬৮টি ফুটবল মাঠের দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য যথেষ্ট সময়।
সুলতানা দিনা/