আফ্রিকা মহাদেশের দেশ জাম্বিয়ায় বিশ্বের বিশ্বের বৃহত্তম আনকাট পান্নাআবিষ্কৃত হয়েছে। আনকাট পান্নাটির ওজন ৭,৫২৫ ক্যারেট (১.৫০৫ কিলোগ্রাম বা ৩.৩১ পাউন্ড)।
এটি ২০২১ সালের জুলাই মাসে কাগেম পান্না খনিতে আবিষ্কৃত হয়। ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক মানস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রিচার্ড কাপেটার নেতৃত্বে জাম্বিয়া কপারবেল্ট প্রদেশের কাজেম থেকে এই রত্নপাথর আবিষ্কার করা হয়।
সাধারণ মানুষের যেখানে বড়জোর ১০ থেকে ৩০ গ্রাম পান্না কেনার সামর্থ্য হয়ে থাকে সেখানে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে- আবিষ্কার হওয়া পাথরটির ওজন সাত হাজার ৫২৫ ক্যারেট বা ১ কেজি ৫০৫ গ্রাম।
রত্নটির নাম দেওয়া হয়েছে চিপেমবেল, জাম্বিয়ার স্থানীয় আদিবাসী উপভাষায় যার অর্থ ‘গণ্ডার’। পান্নাটির আকৃতি অনেকটা গণ্ডারের মুখের মতো। গণ্ডারের শিঙের মতো উঁচু অংশও রয়েছে পাথরটিতে। তাই এরকম নাম দেওয়া হয়েছে।
এই আবিষ্কারের আগে জাম্বিয়ার একই খনিতে আরো দুটি পান্না পাওয়া গিয়েছিল। ২০১০ সালে আবিষ্কার হওয়া এক কেজি ২৪৫ গ্রাম ওজনের পান্নাটির নাম ছিল ইনফোসু,যার অর্থ হাতি।
অন্যদিকে, ২০১৮ সালে এক কেজি ১৩১ গ্রাম ওজনের আরো একটি পান্না আবিষ্কার হয়,যার নাম দেওয়া হয়েছিল ইনকালামু। স্থানীয় আদিবাসীদের বাম্বা ভাষায় যার অর্থ সিংহ।
মানসের লিঙ্কড ইন প্রোফাইল থেকে জানা গেছে, তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরের বাসিন্দা। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র এখন আর কাজেম খনিতে কাজ করেন না। ২০২১ সালের জুলাই মাসে ওই রত্ন উদ্ধার করার পর তিনি আরো ছয় মাস কাজেমে ছিলেন।
ডিসেম্বরের পর তিনি জিওরক কনসাল্টিং নামে এক সংস্থায় যোগ দেন। তবে এর আগে মধ্য আফ্রিকা এবং সৌদি আরবে খনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
জাম্বিয়া সরকারের সাথে অংশীদারিত্বে খনিটি পরিচালনাকারী জেমফিল্ডস গ্রুপ এই আবিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে । চিপেম্বেলে এখন সবচেয়ে বড় অকাটা রত্ন-মানের পান্নার জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের অধিকারী।
জেমফিল্ডস গ্রুপের সিইও শন গিলবার্টসন বলেন, "চিপেম্বেলে পান্না আবিষ্কার জাম্বিয়ার খনি শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং কাগেম পান্না খনির অনন্য সম্ভাবনার প্রমাণ।"
পান্নাটি গাঢ় সবুজ রঙের এবং এর কিছু অংশ স্বচ্ছ। যদিও এর সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা এখনও অজানা, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এটিকে রত্ন মানের বলে মনে করা হয়।
পান্না, খনিজ বেরিলের একটি প্রজাতি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানবজাতিকে এই রত্ন মোহিত করে আসছে। এটির উজ্জ্বল সবুজ রঙ, যা প্রায়শই বসন্তের পাতা বা গভীর বনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাস জুড়ে রাজকীয়তা, সম্পদ এবং প্রেমের সঙ্গে যুক্ত।
প্রাচীন মিশরীয়রা নিজেদেরকে পান্না দিয়ে সাজাতো। টাডেড় বিশ্বাস ছীল যে, এটি পুনর্জন্ম এবং অনন্ত যৌবনের শক্তির অধিকারী হতে সাহায্য করে।
তবে, চিপেম্বেলে'র বর্তমান মালিকানা এবং অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে, ধারনা করা হয় সম্ভবত এটি কোনও ব্যক্তিগত সংগ্রাহক বা রত্ন কোম্পানির কাছে রয়েছে।
সুলতানা দিনা/