বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে হান্টাভাইরাস। সম্প্রতি একটি ক্রুজ জাহাজে কয়েকজন আক্রান্ত হওয়ার পর ভাইরাসটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিরল হলেও এই ভাইরাস মারাত্মক হতে পারে।
জাহাজে ভ্রমণ করছেন ২৪টি দেশের নাগরিক, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, ক্রুজ জাহাজে পাঁচজনের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর কয়েকটি দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংক্রমণের উৎস খুঁজে বের করা ও নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে। এই ভাইরাসটি জাহাজে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে বলে ধারণা করছে ডব্লিউএইচও। এখন পর্যন্ত জাহাজটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন মারা গেছেন এবং আরও কয়েকজন অসুস্থ রয়েছেন।
হান্টাভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?
হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। আক্রান্ত ইঁদুরের মূত্র, লালা বা মল শুকিয়ে বাতাসে মিশে গেলে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
তাছাড়া, দূষিত খাবার খাওয়া বা আক্রান্ত ইঁদুরের কামড় থেকেও সংক্রমণ হতে পারে।
সাধারণত মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ খুব কম হলেও কিছু ক্ষেত্রে সীমিতভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে।
উৎপত্তি ও ইতিহাস
ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয় কোরীয় যুদ্ধের সময়। দক্ষিণ কোরিয়ার হান্টান নদীর নাম অনুসারে এর নাম রাখা হয় হান্টাভাইরাস। পরে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভাইরাসটির একাধিক ধরন শনাক্ত হয়।
লক্ষণ কী কী?
হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথম দিকে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, ক্লান্তি ও বমিভাব দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে পানি জমা ও কিডনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোমে মৃত্যুঝুঁকি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
চিকিৎসা
বর্তমানে হান্টাভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো কার্যকর ওষুধ নেই। তাই চিকিৎসকরা মূলত রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
কীভাবে রক্ষা পাওয়া যায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস থেকে বাঁচতে ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা, ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ করা এবং ইঁদুরের মল-মূত্র পরিষ্কার করার সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা জরুরি। পরিত্যক্ত বা ধুলাবালিযুক্ত স্থানে কাজ করার সময়ও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
অমিয়/