ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

ভারতীয় ৮ সাবেক নৌ কর্মকর্তাকে মুক্তি দিল কাতার

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৫৮ এএম
ভারতীয় ৮ সাবেক নৌ কর্মকর্তাকে মুক্তি দিল কাতার
ছবি : সংগৃহীত

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ভারতের আট সাবেক নৌ কর্মকর্তাকে মুক্তি দিয়েছেন কাতারের আদালত। তাদের মধ্যে সাতজন ভারতের মাটিতে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। 

দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল সোমবার জানিয়েছে এসব তথ্য। ওই আটজনকে কোন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছিল তা প্রকাশ করেনি কাতার। জানুয়ারিতে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া থেকে সরে আসে দেশটি। তারা জানায়, মৃত্যুদণ্ডের বদলে বিভিন্ন মেয়াদে কারাগারে থাকতে হবে ওই ব্যক্তিদের। 

কাতার বা ভারত– কোনো দেশই ওই ব্যক্তিদের অভিযোগ সম্পর্কে না জানালেও ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, ওই আটজনকে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। 

দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এই নাগরিকদের মুক্তি দেওয়া ও দেশে ফিরতে দেওয়ার জন্য আমরা কাতারের আমিরের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।’ ২০২২ সালে ওই ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ঘটনা জায়গা করে নিয়েছিল সংবাদ শিরোনামে। গত বছরের অক্টোবরে ভারত জানিয়েছিল, ওই আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় গভীরভাবে বিস্মিত হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

মালিতে সেতু থেকে বাস পড়ে নিহত ৩১

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২০ পিএম
মালিতে সেতু থেকে বাস পড়ে নিহত ৩১

মালিতে সেতু থেকে একটি বাস উল্টে নদীতে পড়ে ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে বাসটি মালিয়ান শহরের কেনিয়েবা থেকে প্রতিবেশী বুরকিনা ফাসো যাওয়ার পথে বাগোই নদী পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চালকের গাড়ি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। 

দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাড়িটি  নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। নিহতদের মধ্যে মালিয়ান এবং পশ্চিম আফ্রিকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের নাগরিকও রয়েছে। 

যানবাহনের খারাপ অবস্থার পাশাপাশি ওভারলোড ও দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রিত পাবলিক পরিবহনের কারণে মালিতে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।
এএফপি নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুসারে, চলতি মাসের শুরুতে রাজধানী বামাকো অভিমুখে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত ও  ৪৬ জন আহত হন। সূত্র: বিবিসি 

ইসরাত চৈতি/ 

নতুন শিক্ষানীতির নামে আসামে স্কুল-কলেজ বন্ধ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:২৭ এএম
নতুন শিক্ষানীতির নামে আসামে স্কুল-কলেজ বন্ধ
ফাইল ছবি

ভারতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের নতুন শিক্ষানীতি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আসামে। ইতোমধ্যে নয়া শিক্ষানীতির নির্দেশ মেনে রাজ্যের ৮ হাজার ৩৮৫টি স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এবার কলেজেও তালা ঝোলানোর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সরকার। মোট কতগুলো কলেজ বন্ধ করবে, এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য সামনে না এলেও ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের ৭৯টি কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

কলেজ বন্ধ নিয়ে দুদিন আগে শিক্ষা বিভাগ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। গত সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই বিজ্ঞপ্তির খবর সামনে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, পাঁচ শর নিচে শিক্ষার্থী থাকা কলেজগুলো বন্ধ কর দেওয়া হবে। ছাত্রছাত্রী ভর্তির হার বৃদ্ধির জন্যই কলেজ বন্ধ করা হচ্ছে বলে যুক্তি দেখানো হয়েছে। এসব কলেজের অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তাদের গুয়াহাটিতে ডেকে একটি বৈঠকও করেছেন শিক্ষামন্ত্রী রনোজ পেগু। আর এই বৈঠকের কারণে স্কুলের পরে এবার কলেজগুলোও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জল্পনা বেড়েছে। 

উল্লেখ্য, নয়া শিক্ষানীতি কার্যকরের পর ধর্মীয় শিক্ষা বন্ধের অজুহাত দেখিয়ে রাজ্যের ৭০০ সরকারি মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দেয় বিজেপি সরকার। এর কিছুদিন পরই শিক্ষার্থী স্বল্পতা দেখিয়ে একত্রীকরণের নামে কয়েক দফায় ৮ হাজার ৩৮৫টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ করে দেয়। আরও তিন হাজার স্কুল বন্ধ করতে সরকার তালিকাও প্রস্তুত করেছে। এখন নিয়েছে কলেজ বন্ধের উদ্যোগ।

কলেজ বন্ধ করার বিজ্ঞপ্তি বাতিল করার দাবি জানিয়েছে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। সংগঠনের আসাম রাজ্য সম্পাদক সংগীতা দাস সোমবার বলেন, ‘সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া নতুন শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য। আসামে নয়া শিক্ষানীতি জোরগতিতে কার্যকর করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। এর ফলে শুরুতে পাইকারি হারে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছেন তারা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য শূন্যপদ পড়ে আছে। কিন্তু এগুলো পূরণ করছে না বিজেপি সরকার। বরং ৮ হাজার শিক্ষক পদ বিলুপ্ত করে দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নত পরিকাঠামোও গড়তে রাজি নয় সরকার। এখন নানা অজুহাতে স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দিচ্ছে।’ এই কলেজগুলো বেসরকারি মালিকানার হাতে তুলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন সংগীতা।

দখলে নিয়েই শহর পোড়াল জান্তা, ৮০ সেনা নিহত

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:০৮ এএম
দখলে নিয়েই শহর পোড়াল জান্তা, ৮০ সেনা নিহত
মায়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের কাওলিন শহরে প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়িয়ে দিয়েছে জান্তা বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

মায়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের কাওলিন শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়িয়ে দিয়েছে জান্তা বাহিনী। দুই সপ্তাহ আগেই বিরোধীদের কাছ থেকে শহরটির পুনর্দখল করে তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে জান্তা বাহিনীর ধ্বংসলীলার খবর। ড্রোন থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, শহরের প্রায় সব বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

দেশটির বেসামরিক সরকার ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের (এনইউজি) অধীনে থাকা জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী গত বছরের নভেম্বরে শহরটি দখলে নেয়। এর আগে কয়েক দিন ধরে তারা সেখানে আক্রমণ চালিয়েছে। পরে জান্তা বাহিনী বড় মাপের হামলা চালিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি আবার কাওলিন নিজেদের দখলে নেয়।

এদিকে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রামরি শহরে জান্তা বাহিনীর প্রায় ৮০ জন সেনা নিহত হয়েছে। তিন দিনের লড়াইয়ে এসব সেনা নিহত হয় বলে দাবি করেছে রাখাইনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।

মায়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতির খবর বলছে, শহরটির আট ওয়ার্ডের সব কটিতেই আগুন দিয়েছে জান্তা বাহিনী। শহরের কাছে থাকা অন্তত ১০টি গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। 

আরাকান আর্মির হামলায় ৮০ সেনা নিহত 

রাখাইনে আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য গত শনিবার রামরিতে নতুন করে সেনা পাঠায় জান্তা সরকার। শনিবার চারটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে ১২০ জন সেনা আসে রামরিতে। আরাকান আর্মির দাবি, দুই দিনে এসব সেনার তিন ভাগের দুই ভাগ নিহত হয়েছে। গত শনিবার এসব সেনার প্রায় ৬০ জন তাদের সঙ্গে লড়াইয়ে নিহত হয়। এসব সেনার লাশ উদ্ধার করার সময় বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করেছে তারা। শনিবারের পর সোমবার রামরি দ্বীপ থেকে পিছু হটার সময় তাদের সঙ্গে লড়াইয়ে জান্তা বাহিনীর আরও ২০ সেনা নিহত হয়। তাদের কাছ থেকেও গোলাবারুদ ও খাদ্যসামগ্রী জব্দ করা হয়।

রামরি শহরে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীদের সশস্ত্র লড়াই শুরু হয় গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি। শহরটিতে জান্তা বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে আরাকান আর্মি হামলা করার পর এ লড়াই শুরু হয়।

আরাকান আর্মি বলছে, এর পর থেকে শহরটিতে বিদ্রোহীদের অবস্থান নিশানা করে জল, স্থল ও আকাশপথে বোমা হামলা চালাচ্ছে জান্তা বাহিনী। জান্তার হামলায় শহরটির অনেক বাড়িঘর ধসে পড়েছে। এ ছাড়া শহরের একটি হাসপাতাল ও বিপণিবিতানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর দখলের দ্বারপ্রান্তে বিদ্রোহীরা

জান্তাবিরোধী গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, তারা থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী তানিনথারি অঞ্চলের রাজধানী দাওয়েইর কাছে গুরুত্বপূর্ণ শহর মিত্তার দখলের দ্বারপ্রান্তে। ওই এলাকায় এক সপ্তাহ আগেই জান্তার বহরে হামলা চালিয়েছিল বাহিনীটি। 

পিডিএফের মুখপাত্র রাউঙ নি জানান, দাওয়েইর পূর্বে অবস্থিত মিত্তা শহরের কেন্দ্রীয় পুলিশ স্টেশন এখন তাদের দখলে। ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে শহরটি দখলে নিয়েছে তারা। 

তিনি বলেন, ‘আমরা জান্তা বাহিনীর ঘাঁটি পুলিশ স্টেশনটি দখল করতে পেরেছি। তবে তারা এখনো শহরের প্রবেশমুখে কৌশলগত একটি ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণ করছে। আমরা একবার সেটি পেয়ে গেলে পুরো শহরের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যাব।’

এবার শিক্ষার্থীদের রিজার্ভ সেনা বানাবে জান্তা 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণ দলে (ইউটিসি) যোগ দিতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়েছে মায়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার। এই শিক্ষার্থীরা মায়ানমারের রিজার্ভ সেনা হিসেবে কাজ করবে। গতকাল মায়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতি এ খবর জানিয়েছে। 

নিয়োগ আইনের অধীনে শিক্ষার্থীরা চাইলে পরিষেবা থেকে বিরত থাকতে পারে। কিন্তু সামরিক জান্তা চায় শিক্ষার্থীরা ইউটিসিতে যোগদান করুক, যাতে তাদের রিজার্ভ হিসেবে নিয়োগ করা যায়। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯২২ সালে রেঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ইউটিসি গঠন করা হয়। এটি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স প্রশিক্ষণ দলের আদলে তৈরি। এর লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীতে শিক্ষিত অফিসার নিয়োগ দেওয়া, যা বেসামরিক নাগরিককে ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীতে যোগদানের সুযোগ করে দেবে। 

ইয়াঙ্গুন ইউনিভার্সিটির প্রধান এবং ইউটিসির চেয়ারম্যান ড. টিন মং তুন স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ইউটিসিতে যোগদানের জন্য অনুরোধ করেছেন। প্রয়োজনের সময় তারা যেন মায়ানমারকে সেবা দিতে পারে। ইয়াঙ্গুনের ইউটিসির কমান্ডার ক্যাপ্টেন মিন উইন মন বলেন, জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত জনবল হিসেবে নিয়োগের জন্য সংস্থাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পদে সামরিক বাহিনীতে চাকরির সুযোগ দেয়।

জান্তা সরকারের সংবাদপত্রের খবরে জানা যায়, সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংসহ অনেক জেনারেলই সাবেক ইউটিসি সদস্য ছিলেন। অন্য সদস্যদের মধ্যে আছেন সংসদের স্পিকার টি খুন মায়াত, সাবেক অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল খিন জাও উ, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল সেইন উইন, জান্তা শান্তি আলোচক লেফটেন্যান্ট জেনারেল উইন বো শিন এবং আইয়ারওয়াদি অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিন মং উইন। 

ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের হুঁশিয়ারি

জান্তা বাহিনী দেশের কনস্ক্রিপশন আইনের (তরুণদের বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতে যোগদান) প্রয়োগ করে বেসামরিকদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে। এটি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে জান্তাকে কেউ সহায়তা করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে এনইউজির সেন্ট্রাল কমিটি ফর কাউন্টার টেররিজম।

পুরো বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক শ্রম হিসেবে দেখছে এনইউজি। যারা সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বেসামরিকদের অপহরণ করে জান্তা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তি বা বেসামরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তার অভিযোগ আনা হবে।

এনইউজি বলছে, জান্তা বাহিনী কনস্ক্রিপশন আইনের প্রয়োগ করছে, যাতে বেসামরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এর আগে এনইউজির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কনস্ক্রিপশন আইন প্রয়োগের ন্যায্যতা নেই জান্তার। ফলে জনসাধারণের আইন মানার বাধ্যবাধকতাও নেই। 

চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি কনস্ক্রিপশন আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত জানায় জান্তা বাহিনী। নিয়মানুসারে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সব পুরুষ ও ১৮-২৭ বছর বয়সী নারীদের নতুন আইনের অধীনে সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ডাক্তার ও প্রকৌশলীদের মতো বিশেষজ্ঞদের ক্ষেত্রে পুরুষদের বয়সসীমা ধরা হবে ১৮ থেকে ৪৫ বছর। নারীদের ক্ষেত্রে ধরা হবে ১৮ থেকে ৩৫ বছর। 

কনস্ক্রিপশন এড়ালে সাজার বিধানও রয়েছে। তিন থেকে পাঁচ বছর কারাগারে কাটাতে হতে পারে। এ ছাড়া অসুস্থতা বা অক্ষমতার অজুহাত দেখিয়ে কনস্ক্রিপশন এড়ালে কারাগারে থাকতে হবে পাঁচ বছর। তবে মায়ানমারের অনেক তরুণকে অন্তর্ভুক্তি এড়ানোর আশায় পাসপোর্ট অফিসে ভিড় জমাতে দেখা গেছে। সূত্র: ইরাবতি

রাশিয়ার পরাজয় ইউরোপের জন্য জরুরি : মাখোঁ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৫৫ এএম
রাশিয়ার পরাজয় ইউরোপের জন্য জরুরি : মাখোঁ
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ

ইউক্রেনে রাশিয়ার পরাজয় ইউরোপের জন্য জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। তিনি কিয়েভকে আরও অস্ত্র সহায়তা দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। প্যারিসে গত সোমবার ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। 

ওই বৈঠকটি আয়োজনই করা হয়েছিল ইউক্রেনের সমর্থনে। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শুলৎজ, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনসহ এতে যোগ দেন বিভিন্ন ইউরোপীয় রাষ্ট্রের নেতৃস্থানীয়রা। 

মাখোঁ জানান, ইউক্রেনকে মাঝারি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা দেওয়ার লক্ষ্যে জোট গড়ে তুলতে একমত হয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। তিনি আরও জানান, ইউক্রেনে পশ্চিমা সেনা পাঠানো নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে কিছুই বাদ দেওয়া উচিত নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে রাশিয়া। অন্যদিকে ইউক্রেন রয়েছে অস্ত্র সংকটের মুখে। কিয়েভ মূলত আধুনিক রসদের জন্য পশ্চিমের ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর। কিন্তু ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ করা ছয় হাজার কোটি ডলারের সহায়তা বিল মার্কিন কংগ্রেসে আটকে আছে। গত সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পশ্চিমা সহায়তার অর্ধেকেরও বেশি যেতে দেরি হচ্ছে। এর মূল্য দিতে হচ্ছে অঞ্চল ও ভূখণ্ড দিয়ে। সূত্র : বিবিসি 

শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় আইন আনছে কানাডা

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৫২ এএম
শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় আইন আনছে কানাডা
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট থেকে শিশুদের রক্ষায় নতুন এক খসড়া আইন সামনে নিয়ে এসেছে কানাডা। ওই আইনের অধীনে দ্রুত অনলাইন থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট সরানো সম্ভব হবে। গত সোমবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকার ‘অনলাইন হার্মস অ্যাক্ট’ নামের ওই আইনটি উন্মোচন করে।

আইনটি পাস হলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে সাত ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট সামাল দিতে হবে এবং তাদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়লে জরিমানার আওতায় পড়তে হবে। আইনের অধীনে কানাডীয়রা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো কনটেন্ট সরানোর জন্য অনুরোধ জানাতে পারবেন, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার করছে- এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করতে পারবেন।   

যে সাত ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্টের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো হলো– সম্মতি ছাড়া অন্তরঙ্গ কনটেন্ট; এমন কনটেন্ট যা বিদ্বেষ ছড়ায়; উগ্রবাদী সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদে ইন্ধন জোগায় এমন কনটেন্ট; সহিংসতায় ইন্ধন জোগানো কনটেন্ট; শিশুদের হয়রানিতে ব্যবহারে হয় এমন কনটেন্ট এবং এ রকম কনটেন্ট যা শিশুদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়।

আইনটি নতুন ডিজিটাল সুরক্ষা কমিশন প্রতিষ্ঠা করবে। কনটেন্ট সরানো ছাড়াও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ও নিরাপদ সার্চে ফিচার আনার জন্যও বাধ্য করবে আইনটি। ট্রুডো বলেছেন, আইনটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে তাদের প্ল্যাটফর্মে থাকা ক্ষতিকর কনটেন্টের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনবে এবং অনলাইনকে আরও নিরাপদ স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।  

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘসময় ধরে ওয়েব জায়ান্টরা শিশুদের অনলাইনে সুরক্ষিত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রায়ই দেখা যায় এর বিধ্বংসী পরিণতিগুলো।’ 

এক বিবৃতিতে সরকার জানিয়েছে, তারা কানাডীয়দের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করে, কিন্তু সবার জন্য এমন অনলাইন পরিবেশ থাকা উচিত যেখানে তারা নিজের জীবনের ভয় না করে নিজেদের মুক্তভাবে প্রকাশ করতে পারে। সূত্র : আল-জাজিরা