ঢাকা ১১ বৈশাখ ১৪৩১, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

নতুন শিক্ষানীতির নামে আসামে স্কুল-কলেজ বন্ধ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:২৭ এএম
নতুন শিক্ষানীতির নামে আসামে স্কুল-কলেজ বন্ধ
ফাইল ছবি

ভারতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের নতুন শিক্ষানীতি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আসামে। ইতোমধ্যে নয়া শিক্ষানীতির নির্দেশ মেনে রাজ্যের ৮ হাজার ৩৮৫টি স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এবার কলেজেও তালা ঝোলানোর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সরকার। মোট কতগুলো কলেজ বন্ধ করবে, এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য সামনে না এলেও ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের ৭৯টি কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

কলেজ বন্ধ নিয়ে দুদিন আগে শিক্ষা বিভাগ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। গত সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই বিজ্ঞপ্তির খবর সামনে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, পাঁচ শর নিচে শিক্ষার্থী থাকা কলেজগুলো বন্ধ কর দেওয়া হবে। ছাত্রছাত্রী ভর্তির হার বৃদ্ধির জন্যই কলেজ বন্ধ করা হচ্ছে বলে যুক্তি দেখানো হয়েছে। এসব কলেজের অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তাদের গুয়াহাটিতে ডেকে একটি বৈঠকও করেছেন শিক্ষামন্ত্রী রনোজ পেগু। আর এই বৈঠকের কারণে স্কুলের পরে এবার কলেজগুলোও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জল্পনা বেড়েছে। 

উল্লেখ্য, নয়া শিক্ষানীতি কার্যকরের পর ধর্মীয় শিক্ষা বন্ধের অজুহাত দেখিয়ে রাজ্যের ৭০০ সরকারি মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দেয় বিজেপি সরকার। এর কিছুদিন পরই শিক্ষার্থী স্বল্পতা দেখিয়ে একত্রীকরণের নামে কয়েক দফায় ৮ হাজার ৩৮৫টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ করে দেয়। আরও তিন হাজার স্কুল বন্ধ করতে সরকার তালিকাও প্রস্তুত করেছে। এখন নিয়েছে কলেজ বন্ধের উদ্যোগ।

কলেজ বন্ধ করার বিজ্ঞপ্তি বাতিল করার দাবি জানিয়েছে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। সংগঠনের আসাম রাজ্য সম্পাদক সংগীতা দাস সোমবার বলেন, ‘সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া নতুন শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য। আসামে নয়া শিক্ষানীতি জোরগতিতে কার্যকর করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। এর ফলে শুরুতে পাইকারি হারে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছেন তারা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য শূন্যপদ পড়ে আছে। কিন্তু এগুলো পূরণ করছে না বিজেপি সরকার। বরং ৮ হাজার শিক্ষক পদ বিলুপ্ত করে দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নত পরিকাঠামোও গড়তে রাজি নয় সরকার। এখন নানা অজুহাতে স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দিচ্ছে।’ এই কলেজগুলো বেসরকারি মালিকানার হাতে তুলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন সংগীতা।

মোদির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৩৭ পিএম
মোদির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

ভারতের রাজস্থানে গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক নির্বাচনি বক্তৃতায় ‘ইসলামোফোবিক’ বা তীব্র মুসলিম বিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন বলে সে দেশের বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তুলেছে। ওই ভাষণে মোদি দাবি করেন, বিরোধীরা ভোটে জিতে দেশের ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের সম্পদ ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ মধ্যে বিলি করে দেবে।

রাজস্থানে একটি জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, ‘যাদের বেশি বেশি ছেলেমেয়ে আছে’ বিরোধী কংগ্রেস তাদের মধ্যেই দেশের ধনসম্পদ ভাগবাঁটোয়ারা করে দিতে চায়। এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে তিনি ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের সুদীর্ঘ নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেছিলেন। ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সঙ্গে সঙ্গেই তার এই বক্তব্যকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।

মোদির দল তথা ভারতে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে অতীতেও বহুবার দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিমদের আক্রমণের নিশানা করার অভিযোগ উঠেছে। দেশের মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বহুবার বলেছে যে নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে ভারতের মুসলিমরা বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন এবং তারা কার্যত দেশের ভেতরেই ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের’ মতো জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন।

কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির এক সদস্য বিবিসিকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ওই ভাষণ শুধু হেইট স্পিচই নয়, আমি তো বলব ফেইক নিউজের পর্যায়েও পড়ে। ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ‘অনেক বেশি বাচ্চাকাচ্চা হয়- এভাবে তাদের স্টিরিওটাইপ করার প্রবণতা হামেশাই চোখে পড়ে। যদিও অতীতে বিশেষজ্ঞরা অনেকেই বলেছেন এই দাবিটা অত্যন্ত ‘বিকৃতভাবে পেশ করা হয়’ এবং এর ফলে ভারতের মুসলিমদের অন্যায় ও অবিচারের সম্মুখীন হতে হয়।”

বিরোধী দলগুলোর প্রতিক্রিয়া
ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান নেতারা প্রায় একবাক্যে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে তার দলের ইশতেহারের পক্ষে বলেছেন, “আমাদের এই নির্বাচনি ইশতেহার বা ‘সংকল্পপত্র’ প্রত্যেক ভারতীয়র জন্য।” কংগ্রেসের ইশতেহার দেশবাসীর সমানাধিকার ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলে বলেও তিনি দাবি করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘ভয় পেয়ে গিয়ে এই ধরনের হেইট স্পিচ’ বা বিদ্বেষধর্মী ভাষণ দিচ্ছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

হায়দ্রাবাদের বিদায়ী এমপি তথা অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদ-উল-মুসলিমিন (এআইএমআইএম) দলের নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মন্তব্য করেছেন, ‘মোদি এদিন এ দেশের মুসলিমদের অনুপ্রবেশকারী আর বেশি বেশি বাচ্চাকাচ্চার বাবা-মা বলে বর্ণনা করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, “সেই ২০০২ সাল থেকে একটাই ‘মোদি গ্যারান্টি’ ছিল- সেটা হলো মুসলিমদের গালিগালাজ করো এবং ভোট পাও!”

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা এমপি সাকেত গোখলেও প্রধানমন্ত্রী মোদির ওই মন্তব্যকে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ‘ঘৃণায় পরিপূর্ণ ও বিভাজনকারী’ বলে অভিহিত করেছেন। ওই বক্তৃতার বিরুদ্ধে দেশের সাধারণ মানুষ যাতে নির্বাচনি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন, গোখলে সেই আহ্বানও জানিয়েছেন।

নীরব বিজেপি 
বিরোধীদের এই তীব্র সমালোচনার জবাবে দল হিসেবে বিজেপির পক্ষ থেকে কিংবা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।

তবে লক্ষণীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে তার সব নির্বাচনি ভাষণের স্ক্রিপ্ট আপলোড করা হচ্ছে, সেখানে ওই বিতর্কিত অংশটুকু কিন্তু ঠাঁই পায়নি। সূত্র: বিবিসি

মালয়েশিয়ায় নৌবাহিনীর ২ হেলিকপ্টার সংঘর্ষে নিহত ১০

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২৭ পিএম
মালয়েশিয়ায় নৌবাহিনীর ২ হেলিকপ্টার সংঘর্ষে নিহত ১০
ছবি: সংগৃহীত

রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীর কুচকাওয়াজের জন্য সামরিক মহড়ার মধ্য আকাশে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন।  

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য পেরাকের লুমুত নৌঘাঁটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।  

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক ফুটেজে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার অন্যটির সঙ্গে আঘাত লাগলে দুটি হেলিকপ্টারই বিধ্বস্ত হয়। 

মালয়েশিয়ান নৌবাহিনী জানায়, ঘটনাস্থলেই ১০ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করা হবে। 

বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের মধ্যে একটিতে (HOM M503-3) সাতজন আরোহী ছিলেন। সংঘর্ষের পর এটি মাটিতে বিধ্বস্ত হয়। অন্যদিকে নিহত বাকি তিনজনকে বহন করা হেলিকপ্টারটি (ফেনেক এম502-6) কাছাকাছি একটি সুইমিংপুলে বিধ্বস্ত হয়। 

এর আগে গত মার্চ মাসে প্রশিক্ষণ চলাকালে মালয়েশিয়ান কোস্টগার্ডের একটি হেলিকপ্টার আংসা দ্বীপের কাছে সাগরে বিধ্বস্ত হয়। হেলিকপ্টারে থাকা পাইলট, কো-পাইলট ও দুই যাত্রীকে জেলেরা উদ্ধার করে। সূত্র: বিবিসি 

ইসরাত চৈতী/অমিয়/

লোকসভা নির্বাচন: ভুয়া ভিডিও ছড়ানোয় উদ্বেগ

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২৪ পিএম
লোকসভা নির্বাচন: ভুয়া ভিডিও ছড়ানোয় উদ্বেগ
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনের আগেই ভারতকে সতর্ক করেছিল মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, ভারতের লোকসভা নির্বাচনে এআই সৃষ্ট কনটেন্ট দিয়ে বাধাবিঘ্ন তৈরির চেষ্টা করা হতে পারে। বাস্তবে ঘটেছেও তাই। প্রথম দফার ভোটের আমেজের মধ্যেই অন্তত দুজন প্রথম সারির বলিউড তারকার ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়েছে। এসব ভুয়া ভিডিওতে ওই তারকাদের বলতে শোনা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ব্যর্থ হয়েছে, দেশের জনসাধারণ যাতে বিরোধী দল কংগ্রেসকে ভোট দেয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, বলিউড তারকা আমির খানের ৩০ সেকেন্ডের একটি ক্লিপ ছড়িয়েছে। অন্যদিকে রণবির সিংয়ের ৪১ সেকেন্ডের একটি ডিপফেক ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। দুটোর বক্তব্যই প্রায় এক। বলা হচ্ছে– মোদি দুই মেয়াদে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ ও গুরুতর অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ভোটারদের উচিত ‘ন্যায়ের জন্য ভোট দেওয়া, কংগ্রেসের জন্য ভোট দেওয়া।’ 

গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই দুই ভিডিওতে ভিউ হয়েছে, পাঁচ লাখেরও বেশি। ভিডিও দুটি ছড়ানোর ঘটনায় আবারও সামনে চলে এসেছে এআই সৃষ্ট কনটেন্ট লোকসভা নির্বাচনের মতো বড় আয়োজনে কী ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়টি। প্রশ্ন উঠছে যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচনে এটির প্রভাব কতটা পড়তে পারে, তা নিয়েও। 

ভারতের এখন পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণা চলছে দোরগোড়ায় গিয়ে গিয়ে, জনসমাবেশের মাধ্যমে। তবে ২০১৯ সাল থেকেই প্রচারণার কাজে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের লোকসভা নির্বাচনেই প্রথমবারের মতো ব্যবহার হচ্ছে এআই। ভারতের একাধিক সমীক্ষা ও বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদি তৃতীয় মেয়াদে আবারও নির্বাচিত হতে পারেন।

এআই দিয়ে তৈরি বলিউড তারকাদের ভুয়া ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করতে দেখা গেছে খোদ কংগ্রেসের ব্যক্তিবর্গকেই। যেমন– কংগ্রেস মুখপাত্র সুজাতা পল ১৭ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রণবির সিংয়ের ভিডিওটি শেয়ার করেন। এক্সে তার অনুসারী ১৬ হাজার। তার ওই পোস্ট পুনরায় শেয়ার হয় ২ হাজার ৯০০ বার, লাইক দেওয়া হয় ৮ হাজার ৭০০ বার এবং ভিউ পায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার বার। 

সুজাতা পল রয়টার্সকে জানান, তিনি জানতের ভিডিওটিকে এক্স এআই দিয়ে তৈরি বলে শনাক্ত করেছে। কিন্তু তিনি সেটি মুছে দিতে চাননি। কারণ ব্যক্তিটিকে দেখতে রণবির সিংয়ের মতোই মনে হচ্ছিল এবং ভিডিওটিতে সুনিশ্চিতভাবেই সৃজনশীলতার ছোঁয়া ছিল। 
গত রবিবার থেকেই ভিডিওটিকে আর এক্সে দেখা যাচ্ছে না। এর কয়েক ঘণ্টা আগে কংগ্রেসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রধানকে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনো সাড়া দেননি।

ডিপফেক ভিডিওর কবলে পড়া দুই তারকাই জানিয়েছেন, তাদের ভিডিও ভুয়া। এ ছাড়া আটটি সত্যতা যাচাই সাইট জানিয়েছে, ওই ভিডিও দুটি বদলে দেওয়া হয়েছে ও বিকৃত করা হয়েছে। রয়টার্সের ডিজিটাল তথ্য যাচাইকরণ ইউনিউটও সেসব দাবির সত্যতা পেয়েছে। তবে কে ভিডিও তৈরি করেছে তা জানতে পারেনি রয়টার্স। 

আমির খান জানিয়েছেন, তিনি ভুয়া ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে রণবির সিং জানিয়েছেন, তার দল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রণবির সিং লিখেছেন, ‘বন্ধুরা ডিপফেক থেকে সতর্ক থাকুন।’ 

এসব ঘটনায় মোদির দপ্তর, তার দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আইটি প্রধান মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

ভারতে প্রায় ৯০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এক জরিপে দেখা গেছে, গড়ে একজন ভারতীয় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটায়। দেশটিতে মোট ভোটার রয়েছে প্রায় ১০০ কোটি। ভুয়া ভিডিও দুটির কিছু সংস্করণ ব্লক করা হয়েছে। তারপরও অন্তত ১৪টি ভিডিও শনিবার পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেখা গেছে। ফেসবুক ভিডিও মুছে দেওয়ার খবর নিশ্চিত করলে, এক্স এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এ ঘটনায় আমির খান অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এবং মুম্বাই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সূত্র: রয়টার্স

পাকিস্তানে তিন দিনের সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১১ এএম
পাকিস্তানে তিন দিনের সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট
পাকিস্তানে তিন দিনের সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে তিন দিনের সফরে গতকাল সোমবার ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার এই সফর উপলক্ষে পুরো ইসলামাবাদকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এমনকি নিরাপত্তা সতর্কতা হিসেবে শহরটির প্রধান সড়কগুলোতেও যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

সম্প্রতি এই দুই প্রতিবেশী মুসলিম দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছিল। ইরানি প্রেসিডেন্টের এই সফরের মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশই চাইছে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক মেরামত করতে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার স্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এ সফরে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গেও দেখা করবেন।

ইসলামাবাদের বাইরে ইব্রাহিম রাইসির পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাহোর ও দক্ষিণের বন্দর নগরী করাচি পরিদর্শনের কথা রয়েছে। 

ইরানের প্রেসিডেন্ট এমন সময় পাকিস্তান সফরে এসেছেন যখন দেশটির সঙ্গে ইসরায়েলের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি দুই দেশের সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকিও সৃষ্টি হয়েছে। শেহবাজের সঙ্গে রাইসির বৈঠকে এই বিষয়টি ওঠে আসতে পারে। সূত্র: রয়টার্স

গাজায় ১৭০ দিন পর আবারও রুটি উৎপাদন শুরু

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:০১ এএম
গাজায় ১৭০ দিন পর আবারও রুটি উৎপাদন শুরু
গাজার একটি বেকারিতে রুটি তৈরি হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

অবরুদ্ধ গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি সংকটে সেখানকার বেকারিগুলো রুটি উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহায়তায় আবারও উৎপাদন শুরু করেছে কয়েকটি বেকারি।  

ডব্লিউএফপি গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, তারা গাজার উত্তরাঞ্চলের বেকারিগুলোতে জ্বালানি ও গমের আটা সরবরাহ করেছে। ফলে ১৭০ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও চারটি বেকারি চালু করা সম্ভব হয়েছে। আরও কয়েকটি বেকারি চালু করতে ডব্লিউএফপি নতুন সরবরাহ পাঠানোর জন্য কাজ করছে। 

যদিও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, প্রয়োজনের তুলনায় এখনো উপত্যকাটিতে বড় ধরনের খাদ্যসংকট রয়েছে। 

এদিকে শরণার্থী অধ্যুষিত রাফা শহরে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা। আল-জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ বলেন, ‘রাফাজুড়েই কেবল ইসরায়েলি ড্রোনের শব্দ শোনা যাচ্ছে। প্রায় ১৫ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এখানে স্থল আক্রমণ সম্প্রসারণের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। যদিও তারা জানে না কোথায় যাবে। ছয় মাস ধরে রাফাই ছিল গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের শেষ আশ্রয়স্থল।’

সোমবারও (২২ এপ্রিল) গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। রাফায় রবিবারের হামলায় ১৬ শিশু ও ১২ জন নারীসহ নিহতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৪-এ। এ ছাড়া নাসের হাসপাতাল প্রাঙ্গণের গণকবর থেকে ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় নিহত ২১০ ফিলিস্তিনির লাশ উদ্ধার করেছেন গাজার জরুরি বিভাগের কর্মীরা। 

দ্য ইউএস ক্যাম্পেইন ফর প্যালেস্টাইন রাইটস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে নাসের হাসপাতালের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সংগঠনটি দাবি করেছে, এই গণকবরগুলো গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের সুস্পষ্ট প্রমাণ। 

ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা প্রধানের পদত্যাগ 
গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকানোর ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান মেজর জেনারেল আহরন হালিভা। 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে গতকাল সোমবার বলেছে, সামরিক বাহিনী প্রধান হালিভার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং তার সেবার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা