ঢাকা ৬ বৈশাখ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলায় ৭ আইআরজিসি সদস্য নিহত

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:০৯ এএম
দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলায় ৭ আইআরজিসি সদস্য নিহত
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী আইআরজিসির সাত উপদেষ্টা নিহত হয়েছেন। 

সোমবার (১ এপ্রিল) রাতে এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি। 

অন্যদিকে হামলার জবাব দেওয়ার শপথ করেছে তেহরান।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ায় ইরানি সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। তবে এই প্রথম দূতাবাস কম্পাউন্ডে হামলার ঘটনা ঘটল।  

এ ছাড়া মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সকালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দেখভালকারী তেহরানে নিযুক্ত সুইস দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাকে বলা হয়েছে, দামেস্কে হামলার দায় ওয়াশিংটনকেও নিতে হবে।
     
হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- লেবাননে নিযুক্ত আইআরজিসির কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা জাহেদি এবং তার ডেপুটি কমান্ডার মোহাম্মদ হাদি হাজি রাহিমি। 

এ ছাড়া নিহত আইআরজিসির আরও পাঁচ কর্মকর্তা হলেন- হোসেইন আমানুল্লাহি, সাইয়্যেদ মেহেদি জালালাতি, মোহসেন সেদাকাত, আলি আগাবাবায়ি ও আলি সালেহ রুজবাহানি। 

আইআরজিসির বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং শহিদি মর্যাদা লাভ করায় নিহতদের অভিনন্দনও জানিয়েছেন। 

এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানায়নি বলেছেন, ‘পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তেহরান সংরক্ষণ করে এবং হামলার ধরন চিন্তা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।’

এই ইস্যুতে এরই মধ্যে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল মিগদাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ানের। সে আলাপে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েলের এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। 

আমির আবদুল্লাহিয়ান বলেন, ‘গাজায় পরাজয়ের কারণে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।’ 

রাশিয়া, সিরিয়া, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, কুয়েত ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ কনস্যুলেটে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা/পার্সটুডে

অল্পের জন্য স্বপ্নপূরণ হবে না বিজেপির: সমীক্ষা

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৩১ পিএম
অল্পের জন্য স্বপ্নপূরণ হবে না বিজেপির: সমীক্ষা

ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তৃতীয় মেয়াদে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে আসছে শুরু থেকেই। তাদের নির্বাচনি স্লোগানও বলছে, ‘এবার ৪০০ পার’, অর্থাৎ শুধু জয় নয়, বিপুল ভোট পেয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছে তারা। তবে নির্বাচনের ঠিক আগ দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত সমীক্ষা বলছে, ওই স্বপ্ন হয়তো অল্পের জন্য পূরণ হবে না ক্ষমতাসীনদের।

এনডিটিভির সমীক্ষা বলছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৩৭২টি জিতবে। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পেতে পারে ১২২টি আসন। বাদবাকি ৪৯টি আসন দুই জোটের বাইরে থাকা দল বা যে কোনো জোট পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনুমিত এই চূড়ান্ত ফলাফল অবাক করার মতো কিছু নয় বলে মনে করছে এনডিটিভি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে- ২০১৯ সাল থেকেই ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যকার ব্যবধান ক্রমশ কমে আসছে। 

এনডিএ যে ৩৬৫টি আসন জিতবে বলে মনে করা হচ্ছে, তা হিসাবে ২০১৯ সালের ফলাফলের তুলনায় ৩.৪ শতাংশ বেশি। সেবার ৩৫৩টি আসন জিতেছিল ওই জোট, তার মধ্যে শুধু বিজেপিরই ছিল ৩০৩টি আসন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) পেয়েছিল ৯০ আসন।

২০১৪ সালের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে এনডিএ ২০১৯ সালে ৫ শতাংশ আসন বেশি জিতেছিল। ২০১৪ সালে এনডিএর দখলে ছিল ৩৩৬টি আসন। অন্যদিকে বিজেপি জোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইউপিএ ২০১৪ সালে পেয়েছিল ৬০টি আসন। ২০১৯ সালে ৫০ শতাংশ বেড়ে তাদের ফলাফল গিয়ে দাঁড়ায় ৯০-এর ঘরে। এবার ইউপিএ-তে পরিবর্তন এসেছে, ওই জোট এখন পরিচিত ইন্ডিয়া নামে। অনুমান বলছে ১২২ আসন পাবে এই ইন্ডিয়া জোট। তা যদি হয়, সেটি হবে ২০১৯ সালের ফলাফলের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি।

সবমিলিয়ে ৯টি জরিপের ফলাফল নিয়ে সমীক্ষাটি করেছে এনডিটিভি। এর মধ্যে তিনটি জরিপ সম্পন্ন করেছিল এবিপি-সি। জরিপ তিনটি হয়েছিল ২৫ ডিসেম্বর, ১২ মার্চ ও ১৬ এপ্রিল। সেই তিন জরিপের শুরুতে অনুমান করা হয়েছিল এনডিএ ২৯৫-৩৩৫টি আসন পাবে, পরে তা গিয়ে ঠেকে ৩৬৬টি, শেষে স্থায়ী হয় ৩৭৩-এর ঘরে। অন্যদিকে ইন্ডিয়া ১৬৩ আসন পাবে বলে মনে করা হলেও দ্বিতীয় জরিপে ১৫৬ এবং তৃতীয় জরিপে গিয়ে ১৫৫তে ঠেকে অনুমান।

টাইমস-ইটিজির জরিপও বলছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট আবারও ক্ষমতায় আসতে চলেছে। জোটটি ৩৫৮ থেকে ৩৯৮টি আসন পাবে। অন্যদিকে ইন্ডিয়া পাবে ১১০ থেকে ১৩০টি আসন। কোনো জোটেই নেই এমন দলগুলো পাবে ৬৪ থেকে ৬৮টি আসন।

ইন্ডিয়া টিভি-সিএনএক্স, জি নিউজ-মাট্রিজ এবং টাইমস-মাট্রিজ সবাই পৃথক পৃথকভাবে অনুমানে জানিয়েছে, এনডিএ সাড়ে তিন শর বেশি আসন পাবে এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্ডিয়া জোট পাবে ১০০-এর চেয়ে কম আসন। তবে এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম টাইম মাট্রিজ। তারা বলছে, ইন্ডিয়া জোট ১০৪টি আসন পেতে পারে।

ইন্ডিয়া টুডে-সি ভোটার ৮ ফেব্রুয়ারি ৩৬ হাজার ভোটারের ওপর এক জরিপ চালায়। সেটির ফলাফল বলছে এনডিএ ৩৩৫টি আসন নিয়ে আবারও জয়ী হবে। ইন্ডিয়া জিতে নিবে ১৬৬টি আসন, অন্যান্য দল পাবে ৪২টি আসন।

আট রাজ্যে জয়
এনডিএ আট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী দিল্লি, নরেন্দ্র মোদির নিজ রাজ্য গুজরাট এবং উত্তরপূর্বের অরুণাচল প্রদেশ। এনডিএ রাজস্থান, চন্ডিগড়, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউতে জয়লাভ করবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো থেকে লোকসভায় ৭২ জন এমপি যাবে। ফলে এগুলোতে জিতলে চূড়ান্ত ফলাফলে তা সহায়তা করবে বিজেপিকে। তবে জরিপের ফলাফল বলছে, দক্ষিণ ভারতকে এবারও প্রভাবিত করতে পারেনি বিজেপি। 

২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপি দিল্লির সাত আসন, গুজরাটের ২৬ আসন, অরুণাচল প্রদেশের দুই আসন, চন্ডিগড়ের এক আসন, উত্তরাখণ্ডের পাঁচ আসন, হিমাচল প্রদেশে চার আসন এবং দমন ও দিউতে এক আসন জিতে নিয়েছিল। এ ছাড়াও রাজস্থানে ২৫ আসনের মধ্যে ২৪টিতে জিতেছিল তারা। ২৫তম আসনটিও বিজেপি জোটের এক মিত্রই পেয়েছিল।

উত্তর প্রদেশ, বিহার ও মধ্যপ্রদেশ
উত্তর প্রদেশ, বিহার ও মধ্যপ্রদেশেও বিজেপি ও তার মিত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে থাকা ১৪৯টি আসনের মধ্যে এনডিএ ১৩৭টি জিততে পারে। এটি হলে ২০১৯ সালের ফলাফলের পুনরাবৃত্তি হবে। সেবার বিহারের ৪০ আসনের ৩৯টি, ইউপির ৮০ আসনের ৭৪টি এবং মধ্যপ্রদেশের ২৯ আসনের ২৮ জিতে নিয়েছিল এনডিএ।

বিহারে বিরোধীরা বড় ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছর সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমার নিজের জনতা দলকে এনডিএ জোটে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। সবমিলিয়ে বিহারে ৫টি আসন পেতে পারে ইন্ডিয়া জোট।

উত্তরপ্রদেশেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি লোকসভা আসন, ৮০টি। সেখানে আগেভাগেই পথ খুঁজে রাখতে হবে বিরোধী জোট ইন্ডিয়াকে। মধ্য প্রদেশে কংগ্রেস একটি আসন জিতবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্রে লড়াই
মহারাষ্ট্রে এবার মুখোমুখি হতে চলেছে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোট এবং মহা বিকাশ অঘাড়ি জোট। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে লড়াইয়ে নামবে বিজেপি। ধারণা করা হচ্ছে, মহারাষ্ট্রে আধিপত্য বিস্তার অবস্থানে দেখা যাবে মহাযুতিকে। ৪৮ আসনের ৩০টি জিতে নেবে তারা। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে হিসাবটা হবে একটু আলাদা।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৪২ আসনের মধ্যে তার দল জিতে নেবে ২২টি। ২০১৯ সালে বিজেপি সেখানে ১৮টি আসন জিতলেও এবার ১৯টি আসন জিতবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাগজে-কলমে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মিত্র কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পশ্চিমবঙ্গে একটি আসন জিততে পারে। 

বিজেপির ‘দক্ষিণ অভিযান’
বিজেপি ঐতিহাসিকভাবেই দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে ভালো ফলের দেখা পায়নি। বিশেষ করে তামিলনাড়ু ও কেরালাতে। ২০১৯ সালে ওই দুই রাজ্যের কোনোটিতেই একটি আসনও পায়নি তারা। তামিলনাড়ুতে ভোট পেয়েছিল ৩.৬ শতাংশ। অন্যদিকে কেরালায় পেয়েছিল ২.৩ শতাংশ।

এটি এবার বদলে যেতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর তামিলনাড়ুতে দুই আসন পেতে পারে বিজেপি। গত আট সপ্তাহে দশবার সেখানে সফর করেছেন তিনি। তামিলনাড়ুতে ইন্ডিয়া জোট বিজয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের ৩৩ আসন এনে দেবে দাব্রিড় মুননেত্রা কাঝাগাম (ডিএমকে)। অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া আন্না দাব্রিড় মুননেত্রা কাঝাগাম (এআইএডিএমকে) মাত্র চারটি আসন পেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

দক্ষিণের অন্যান্য স্থানে বিজেপি কিছুটা সফলতার দেখা পেতে পারে। কর্নাটকে ২৮টি আসনের মধ্যে ২৩টি পেতে পারে এনডিএ। গত বিধানসভা নির্বাচনে অবশ্য সেখানে পরাজিত হয়েছিল তারা।

অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের ২৫ আসনের মধ্যে ১৬টি আবারও জিতে নিতে পারে ক্ষমতাসীন ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি। এ ছাড়া তেলেঙ্গানায় বিজেপি, কংগ্রেস ও ভারত রাষ্ট্র সমিতির (বিআরএস) মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। ধারণা করা হচ্ছে, কংগ্রেস সেখানে ৯ আসন জিতে নেবে, বিজেপি পাবে চারটি, বিআরএস পাবে তিনটি। ১৭তম আসনটি পেতে পারে আসাউদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএম। সূত্র: এনডিটিভি

লোকসভা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের প্রতিপক্ষ বিজেপিই

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:২৪ পিএম
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের প্রতিপক্ষ বিজেপিই

পশ্চিমবঙ্গে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে জোর ধাক্কা দিয়েছিল বিজেপি। রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস পায় ২২ আসন। সর্বভারতীয় দল কংগ্রেস দুটিতে জিতলেও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি- মার্কসবাদী (সিপিএম) কোনো আসনই পায়নি। 

এরপর কেটে গেছে পাঁচটি বছর। বিজেপি লোকসভায় ভালো করলেও সেই ধারা বজায় রাখতে পারেনি বিধানসভা নির্বাচনে। আশাপ্রদ ফল হয়নি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ২১৫টি আসন জিতে আবার সরকার গঠন করে। মমতার দল ২০১৬ সালের চেয়েও ভালো ফল করে। সে বছর তৃণমূল পেয়েছিল ২১১ আসন। তবে ২০১৪ সালের লোকসভার চেয়ে ২০১৯ সালে তৃণমূল ১২ আসন কম পায়। ২০১৪ সালে ৪২টি আসনের মধ্যে মমতার দল পেয়েছিল ৩৪টি। এবারের লোকসভা নির্বাচনে দেখার বিষয় তৃণমূল তার আসনগুলো পুনরুদ্ধার করতে পারে কি না।

হালে সিপিএমে একাধিক ইস্যুতে তরুণ ব্রিগেডকে নিয়ে আন্দোলন জোরদার করতে সক্ষম হলেও তৃণমূলের এই মুহূর্তে প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপিই হয়ে উঠেছে, তেমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 

পূর্বাভাস কী বলছে?
বিবিসির সঙ্গে কথোপকথনে নির্বাচন বিশ্লেষক প্রশান্ত কিশোর বলেছেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ভালো ফল করতে পারে, অন্যদিকে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন যে তৃণমূল কংগ্রেস ৩০-৩৫টি আসন পাবে।

বিবিসি জানায়, বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য দলের টার্গেট ৩৫ বলে জানালেও সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেসের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মইদুল ইসলাম মনে করেন না যে বিজেপি তার অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে।

‘ইন্ডিয়া’ জোট থেকে বেরিয়ে এসে ৪২টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তৃণমূলের কাছে চ্যালেঞ্জ হলো- সমালোচকদের এটা প্রমাণ করে দেখানো যে তারা একাই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আটকাতে পারে। যদি দলটি তা করতে পারে, তাহলে দেশের বিরোধী নেতাদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্যাদা বাড়বে। তবে তা যদি না করতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস, তাহলে নেতাদের দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা যেমন তৈরি হবে, তেমনই পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। 

মনে করা হয়, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে বিজেপির ভালো ফলের অন্যতম কারণ ছিল তৃণমূলবিরোধী ভোট তাদের পক্ষে যাওয়ার ঘটনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মইদুল ইসলামের মতে, ২০১৯ সালে বামদের প্রচুর ভোট বিজেপির দিকে গিয়েছিল এবং এর একটি বড় কারণ ছিল ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অনিয়মের অভিযোগ, যাতে মানুষ খুব ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আরেকটি কারণ ছিল রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি বাম এবং কংগ্রেস। তাই মানুষের সামনে বিকল্প ছিল সীমিত, সে জন্যই বিজেপিকে তারা বেছে নিয়েছিল।

তার মতে, বাম দলগুলোর ভোট এখন আবার তাদের দিকেই ফিরছে, তাই বিজেপি তাদের আসন বাড়াতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না। প্রবীণ সাংবাদিক শিখা মুখার্জী বিবিসিকে বলেন, কেউ ভাবেনি যে এত সংখ্যায় বামদের ভোট বিজেপির পক্ষে চলে যাবে।

বামদের কী অবস্থা?
সিপিএম দলের রাজ্য সম্পাদক মোহম্মদ সেলিম বলছিলেন, তাদের কাছ থেকে দূরে চলে গিয়েছিলেন যে ভোটাররা, গত দুই বছরে তাদের একটি অংশ ফিরে এসেছেন। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর যে কয়েকটি উপনির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর কথা উল্লেখ করছিলেন, যেখানে বামদের ভোট বেড়েছে।

সম্প্রতি বাম সংগঠন ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া আয়োজিত ‘ইনসাফ যাত্রা’ এবং কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে বড় সমাবেশ করাকে বামপন্থিদের জনসমর্থন ফিরিয়ে আনার একটা প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। 

কিন্তু সাংবাদিক শিখা মুখার্জী মনে করেন না যে লোকসভা ভোটে বামদের ভোট ফিরে আসবে। তিনি বলছিলেন সমাবেশের জমায়েতের সঙ্গে ভোটকে মেলানো ঠিক হবে না।

অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক প্রশান্ত কিশোরের যুক্তি, ক্ষমতার প্রতিটি স্তরে অর্থাৎ পঞ্চায়েত, বিধানসভা ও লোকসভায় তৃণমূলের আধিপত্যও দলের মাথাব্যথার একটা কারণ হয়ে উঠতে পারে। 
বিজেপি সমর্থকরা অবশ্য আশা করেন, সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ, বেকারত্ব বা সিএএর মতো ইস্যুগুলো থেকে তাদের দল ফায়দা তুলতে পারবে, আর তার মাধ্যমেই আসনও বাড়বে তাদের। আবার সিএএ বা ৩৭০ ধারা অপসারণ বা রাম মন্দির নির্মাণ নিয়েও তারা তাদের ভোটারদের বলতে পারবেন যে তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো পালন করেছেন।

বিজেপির কাছে চ্যালেঞ্জ
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সামনে চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উঠলে বারবার শোনা যায় যে এ রাজ্যে দিদির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো শক্তিশালী সংগঠন নেই, বড় জননেতা নেই বিজেপির। আর যারা আছেন, তাদের অনেকে আবার তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আসা নেতা। অনেকেই বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশালী মাঠপর্যায়ের সংগঠনের মোকাবিলা করা বিজেপির পক্ষে সহজ নয়।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখপাত্র শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অধিকারী ২০২০ সালে তৃণমূলের একাধিক নেতার সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেন। এবার তার ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিং এবং তাপস রায়ও বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

মইদুল ইসলাম বলছিলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কোনো জননেতা বা বড় নেতা নেই। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা রাজনৈতিকভাবে সচেতন। তারা ব্যক্তিগত আক্রমণ পছন্দ করেন না।’

তার যুক্তি, ‘শুভেন্দু অধিকারী যখন তৃণমূল ছাড়েন, তখন তার পক্ষের জনসমর্থন পুরোপুরি বিজেপির দিকে যায়নি। এর একটি কারণ, সাধারণ মানুষ সহায়তা পাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের ওপর নির্ভর করে থাকে। তারা মনে করেন, নতুন কেউ এলে তাদের সঙ্গে আবার নতুন করে বোঝাপড়া করতে হবে।’

বিজেপির কাছে আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো, রাজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলমান ভোটারের একটি বড় অংশ তাদের থেকে অনেক দূরে থাকেন। এটি বলা ভুল হবে না যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন চালু হওয়ার পর ওই দূরত্ব কমেনি, বরং বেড়েছে।

ইন্ডিয়া জোটের কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূল আলাদা লড়ছে, কিন্তু একই সঙ্গে তারা এটিও বলছে যে তাদের লক্ষ্য বিজেপিকে পরাস্ত করা এবং তারা লোকসভা নির্বাচনের পর জোট নিয়ে কথা বলতে পারে। তবে তার প্রয়োজন হবে কি না, তা জানা যাবে ৪ জুন, যেদিন লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে। সূত্র: বিবিসি

এত গরমে কেন ভোট, নেপথ্যে যে রাজনীতিক

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:১৬ পিএম
এত গরমে কেন ভোট, নেপথ্যে যে রাজনীতিক
প্রতীকী ছবি

যেকোনো নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিনটিকে উৎসব হিসেবে মনে করে মানুষ। এ জন্য দলে দলে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তারা। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ঝঞ্ঝা উপেক্ষা করেই তারা এ উৎসবে অংশ নেয়। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতও এর ব্যতিক্রম নয়। ২০০৪ সাল থেকে শুরু করে টানা পঞ্চমবার এই অসহ্য গরমের মৌসুমে ভারতীয়রা ভোট দিচ্ছে। বুথের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘর্মাক্ত শরীর নিয়েও তাদের  স্বতঃস্ফূর্ত দেখা যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এত গরমে কেন এ নির্বাচন অনুষ্ঠান? এটি কি শরৎ বা শীতের মনোরম আবহাওয়াতে করা যেত না?

ভারতে আজ ১৯ এপ্রিল থেকে ১ জুন পর্যন্ত মোট সাতটি ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮তম লোকসভা নির্বাচন। দেশটিতে তীব্র গরমের মাসগুলোতেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ ভোট উৎসব। অথচ এর আগে মাঝে দু-একটা ছাড়া গত শতাব্দী পর্যন্ত ভারতে সাধারণ নির্বাচন কিন্তু শরৎ বা শীতের মনোরম আবহাওয়াতেই হয়েছে।

কিন্তু দুই দশকের বেশি হলো গ্রীষ্মেই ভারতে লোকসভার ভোট হচ্ছে। আর এত গরমে ভোট হওয়ার পেছনে দায়ী করা হয় দেশের একজন সুপরিচিত রাজনীতিবিদকে। পেছনে তাকালে দেখা যায়, ভারতে ১৯৫১-৫২ থেকে শুরু করে ১৯৮৯ পর্যন্ত দেশের প্রথম ৯টি সাধারণ নির্বাচনই সম্পন্ন হয়েছে অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মার্চের মাঝামাঝিতে। এই সময়কালের মধ্যে শরৎ বা শীতকাল ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালে তখনকার প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখর আচমকা পদত্যাগ করলে নবম লোকসভা ভেঙে দিতে হয়। সেই প্রথমবারের মতো ভারতে সাধারণ নির্বাচন হলো মে-জুন মাসের ভয়ংকর গরমে।

পাঁচ বছর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনও হয়েছিল এপ্রিল-মে মাসের তাপপ্রবাহে। কিন্তু পরপর দুটি লোকসভা তাদের মেয়াদ পূর্ণ করতে না পারায় ঘটনাচক্রে আবার পরের দু-দুটি নির্বাচন হয়েছিল শরতে বা শীতকালে। ১৯৯৯ থেকে ভারতে প্রতিটি লোকসভাই তাদের মেয়াদ পূর্ণ করেছে বা করার মতো অবস্থায় ছিল। কাজেই ১৯৯৯ সালে যেভাবে অক্টোবর মাসে শরতের মনোরম আবহাওয়ায় দেশে নির্বাচন হয়েছিল, সুযোগ ছিল যে তারপর থেকে সব নির্বাচনই বছরের ওই সময়টায় হবে।

কিন্তু সাংবাদিক রাজদীপ সারদেশাই জানাচ্ছেন, দেশের একজন সুপরিচিত রাজনীতিবিদের জন্যই সেটা সম্ভব হয়নি। আর তার নাম চন্দ্রবাবু নাইডু। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও তেলেগু দেশম পার্টির নেতা। ২০০৪ সালেও ভারতে নির্বাচন অক্টোবর মাসেই হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু তখন চন্দ্রবাবু নাইডু প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়িকে অনুরোধ করেন, লোকসভা নির্বাচনটা বরং কয়েক মাস এগিয়ে আনুন। তেলেগু দেশম তখন ছিল বিজেপি জোটের খুব গুরুত্বপূর্ণ শরিক– তাদের অনুরোধ ফেলা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষেও বেশ কঠিন ছিল।

রাজদীপ সারদেশাইয়ের কথায়, চন্দ্রবাবু নাইডু চেয়েছিলেন তার রাজ্যের বিধানসভা ভোট ও দেশের লোকসভা ভোট একসঙ্গে করাতে– যাতে বাজপেয়ির উজ্জ্বল ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি রাজ্যেও জিতে যেতে পারেন।

বাজপেয়ি ও তার প্রবল আস্থাভাজন প্রমোদ মহাজন সেই অনুরোধ রক্ষা করে লোকসভা ভোট ছয় মাস এগিয়ে আনলেন। আর নির্বাচন হলো এপ্রিল-মে মাসে! সেই নির্বাচনেই বিজেপি ‘ইন্ডিয়া শাইনিং’ ক্যাম্পেইনে ভর করে তুমুল প্রচার চালিয়েছিল, আর অটল বিহারি বাজপেয়ির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করতে চেয়েছিল তেলেগু দেশমও।

‘তাতে অবশ্য শেষরক্ষা হলো না– শেষে দেখা গেল বাজপেয়ি ও চন্দ্রবাবু দুজনেই সেই ভোটে হেরে গেলেন!’ জানাচ্ছেন রাজদীপ সারদেশাই। কিন্তু ততক্ষণে যাদের যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে এবং সেই ২০০৪ সাল থেকে এই নিয়ে টানা পঞ্চমবার অসহ্য গরমেই গোটা ভারতকে ভোটের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে! এতদিন তবু এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই ভোট গ্রহণ সীমাবদ্ধ ছিল, এবার তা গড়িয়েছে জুন মাসেও।

অটল বিহারি বাজপেয়ি ও প্রমোদ মহাজন দুজনেই আজ প্রয়াত। ফলে এত গরমে ভোট হচ্ছে বলে যারা বিরক্ত, তাদের গালিগালাজ শোনার জন্য আছেন শুধু চন্দ্রবাবু নাইডুই! অবশ্য  গত ২০ বছর ধরে অন্যদের মতো চন্দ্রবাবু নাইডুকেও তীব্র গরমে লোকসভা ভোটের প্রচার চালাতে হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি ও এএফপি

এনডিএ-ইন্ডিয়া জোটের লড়াই

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:০২ পিএম
এনডিএ-ইন্ডিয়া জোটের লড়াই

ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে আজ। শেষ হবে ১ জুন। সাত ধাপের এই নির্বাচনের ফল বলে দেবে কার হাতে যাচ্ছে দিল্লির মসনদ। প্রায় ১০০ কোটি ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট দেবেন। আর নির্বাচনও হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সময় নিয়ে। ফলে এ নির্বাচন হতে চলেছে বিশ্বের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় নির্বাচন। এ ছাড়া এই ভোট ভারতের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গণতান্ত্রিক কাঠামো ও বৈশ্বিক গণতান্ত্রিকধারার জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয় মেয়াদে জয়ী হওয়ার আশা করছেন। তিনি ৪০০-এর বেশি আসন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। সাম্প্রতিক জরিপও বলছে, মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও এর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে জয়ী হবে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) একাই ৩০৩টি আসন পেয়েছিল। আর এনডিএ জোট পেয়েছিল ৩৫২টি আসন। 

এবারের নির্বাচনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ বৃহত্তম বিরোধীদল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে। মোদির বিজেপিকে ঠেকাতে এবার বিরোধী ২৬টি দল জোট গঠন করেছে। প্রায় এক বছর আগে গড়া হয়েছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স (ইন্ডিয়া) নামের ওই জোট। এটি গঠনের পর ভারতের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মোদি বিরোধীদের মধ্যে এটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ইন্ডিয়া জোট গঠনের পর কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সফলও হয়েছে বিরোধীরা।

ইন্ডিয়া জোট
২০২৩ সালের জুলাইয়ে ভারতের সব বিরোধী দল মিলে কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ইন্ডিয়া জোট’ গঠিত হয়। সেই জোটে সর্বভারতীয় কংগ্রেস, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস, বিহারের জেডিইউ, আরজেডি, মহারাষ্ট্রের শারদ পাওয়ারের এনসিপি, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা, দিল্লির ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি, তামিলনাডুর-এএমএমকে, বামপন্থি সিপিআইএম, সিপিএম, টিডিএস, ওয়াইএসআরসহ সর্বভারতীয় ও আঞ্চলিক দলগুলোকে নেওয়া হয়।

এই জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আছেন কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট মল্লিকার্জুন খাড়গে, দুই ভাইবোন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জি, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বর্তমানে কারাবন্দি অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রমুখ।
ইন্ডিয়া জোটের মাধ্যমে বিরোধী শিবির আশা জাগানোর মতো একটি প্ল্যাটফর্ম পেয়েছিল। তবে অল্প কিছু দিনের মধ্যে জোটে ভাঙন দেখা দেয়। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমার যিনি ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, তিনি ইন্ডিয়া জোট ছেড়ে তার পুরনো মিত্র বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএতে যোগ দিয়েছেন এবং পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তার রাজ্যে ইন্ডিয়া জোটকে অকার্যকর ঘোষণা করেন। এতে করে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট বড় ধাক্কা খায় এবং জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা হতাশা ব্যক্ত করেন।

ইন্ডিয়া জোটের এই ধাক্কা খাওয়ার জন্য কংগ্রেস তথা রাহুল গান্ধীকে দায়ী করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব মোদির সঙ্গে টিকে উঠতে পারছে না। সে ক্ষেত্রে কংগ্রেসের উচিত আঞ্চলিক দলগুলোকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া। তাহলে এই জোট একটি শক্ত ভূমিকা রাখতে পারবে।

সর্বভারতীয় দল হিসেবে কংগ্রেস যদি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে এবং সেক্যুলার ধারার সব রাজনৈতিক দল ও আঞ্চলিক দলগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে উগ্র হিন্দুত্ববাদের বিপরীতে আদর্শিক লড়াইয়ে শামিল হতে পারে এবং গান্ধী পরিবার যদি নেতৃত্বের দক্ষতা দেখাতে পারে, তবেই কেবল ব্র্যান্ড মোদিকে আটকানো যেতে পারে।

রাজ্য ভেদে ভোট বিশ্লেষণ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৪ শতাধিকে জয় পাবে। 

তবে বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে গত বুধবার আল জাজিরার এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা এনডিএর মুখ মোদির ম্যাজিকের ধার অনেকটা কমে গেছে। এবারের নির্বাচনে এনডিএর সাফল্য আর শুধুই নরেন্দ্র মোদির ভাবমূর্তির ওপর নির্ভর করছে না। ফলে নির্বাচনি প্রচারে মোদি ‘এবার ৪০০ পার’ করার ডাক দিলেও ভোটাররা সাড়া দেবেন সেই লক্ষ্য পূরণের ম্যাজিক আর মোদির হাতে নেই! এনডিএর ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে দক্ষিণের রাজ্যগুলো। যদিও গত নির্বাচনে ৩৫৪ আসন পেয়েছিল এনডিএ। এর মধ্যে শুধু বিজেপিই পেয়েছিল ৩০৩। এবার নির্বাচনে বিজেপির টার্গেট ৩৭০।

লোকসভা নির্বাচনের ইতিহাসে একক দল হিসেবে কংগ্রেস ৪০০ আসনের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল। ১৯৮৪ সালের নির্বাচনে সেটি সম্ভব হয়েছিল মূলত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ডের ফলস্বরূপ জনগণের সহানুভূতির কারণে। কিন্তু এবার কংগ্রেসের অবস্থা এতটাই নাজুক যে বিজেপির সামনে ন্যূনতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান অনেক বিশ্লেষক। 

তবে কংগ্রেস যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন, হিন্দু জাতীয়তাবাদ পুঁজি করা বিজেপি এবারের নির্বাচনে ৪ শতাধিক আসন পাবে কি না সেটিই বড় প্রশ্ন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়টি নির্ধারণ করে দেবে দক্ষিণ ভারত। কারণ, বিজেপির হিন্দুত্ব মন্ত্র দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে মোটেও কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। উত্তর ভারতে রাম স্লোগান যথেষ্ট প্রশংশিত হলেও দক্ষিণ ভারতে এর অতটা কদর নেই।

ভারতের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের বাস দক্ষিণ ভারতের পাঁচ রাজ্য- তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, অন্ধ্র প্রদেশ, কেরালা ও তেলেঙ্গানায় এবং কেন্দ্রশাসিত পদুচেরি ও লাক্ষাদ্বীপে। এই অঞ্চলটিই অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারতে সবচেয়ে সমৃদ্ধ। ভারতের জিডিপিতে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর অবদান ৩০ শতাংশের বেশি। 

মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ভারতে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিলেও ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এই অঞ্চলের ১৩১ আসনের মধ্যে মাত্র ৩০টি পেয়েছিল। যার অধিকাংশই ছিল কর্ণাটকে। বাকি চার রাজ্যে বিজেপি সে অর্থে কোনো জায়গা পায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি অবশ্যম্ভাবী। 

সর্বশেষ লোকসভায় বিজেপি ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৩০৩টিতে জিতেছিল, যার অধিকাংশই উত্তর ভারতে। দেশের এই অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবেই বিজেপির অনুকূলে। কিন্তু লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের যে আকাঙ্ক্ষা, তা বিজেপি পায়নি কেবল দক্ষিণের রাজ্যগুলোর কারণেই। 

নয়াদিল্লিভিত্তিক থিংকট্যাংক সেন্টার ফর পলিসি অ্যানালাইসিসের চেয়ারম্যান মোহন গুরুস্বামী বলেন, ‘অন্ধ্র প্রদেশ ও দক্ষিণের অন্যান্য রাজ্যে বিজেপি খুবই অজনপ্রিয়। আসলে, এই অঞ্চলে যারাই বিজেপির সঙ্গে জোট করবে, তারাই এ নির্বাচনে খারাপ করবে।’ 

একই সুর অর্থনীতিবিদ ও বিজেপি সরকারের বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের স্বামী পারাকালা প্রভাকরের কথায়ও। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ভোটের বাক্সে ‘উত্তর-দক্ষিণের’ বিভাজনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। 

দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে বিজেপির এই খাবি খাওয়া নতুন নয়। উত্তর ভারতের তুলনায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সব সূচকেই দক্ষিণের রাজ্যগুলো এগিয়ে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে ধর্মীয় রাজনীতির প্রভাব কম। বিজেপির রাজনীতির ঐতিহ্যই ধর্মকেন্দ্রিক। 

উত্তর ভারত ও দক্ষিণ ভারতের আর্থসামাজিক তুলনা টানা যেতে পারে কেরালা ও উত্তর প্রদেশের মধ্যে। কেরালায় নবজাতক মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে মাত্র ৬, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সমান। অথচ একই দেশের উত্তর প্রদেশে নবজাতক মৃত্যুর হার হাজারে ৪৮, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের সমান। মূলত এই তুলনামূলক অবস্থার কারণেই দক্ষিণ ভারতে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি কখনোই হালে পানি পায়নি বলেই মনে করেন পারাকালা প্রভাকর। 

ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও তেলেগু দেশম পার্টির সাবেক নেতা কিশোর চন্দ্র দেও বলছেন, ‘উত্তর ভারতে মানুষকে ধর্মের ছাতার নিচে আনা সম্ভব হলেও দক্ষিণ ভারতে এটি সম্ভব নয়।’ কিছুদিন আগে, তেলেগু দেশম পার্টি ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কিশোর দল থেকে পদত্যাগ করেন। 

তামিলনাড়ুর তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল পরিষেবাবিষয়ক মন্ত্রী পালানিভেল থিয়াগা রাজনও কিশোর চন্দ্র দেওয়ের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণে কয়েক শ বছর আগে থেকে সব ধর্মের মধ্যে সম্প্রীতিমূলক সহাবস্থানের ঐতিহ্য আছে। সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের প্রচেষ্টা অবশ্যই দক্ষিণে বুমেরাং হবে।’ 

বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিপরীতে দক্ষিণ ভারতের সেক্যুলার অবস্থান টিকবে কি না তা আসন্ন নির্বাচনেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। তবে নির্বাচনের আগে, বিজেপি এবং মোদি অবশ্যই চেষ্টা করেছেন, দক্ষিণ ভারতে অবস্থান শক্ত করার। আর এ লক্ষ্যে মোদি বেছে নিয়েছিলেন তামিলনাড়ুকে, যেখানে লোকসভার ৩৯টি আসন রয়েছে। 

পুরো তামিলনাড়ুতেই ১৯ এপ্রিল ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে, মোদি এই রাজ্যে অন্তত ছয়বার সফর করেছেন। এমনকি নিজের তামিল ভাষার অজ্ঞতা ঢাকতে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্য নিয়ে সমাবেশে হিন্দি ভাষণ তামিল ভাষায় শুনিয়েছেন। চেষ্টা করেছেন, তামিল ভোটারদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে ভোটার টানতে।

ভোটের পাল্লা ভারী করতে মোদি তামিল জনগণকে বিভাজিত করতে ৫০ বছর আগে নির্ধারণ হয়ে যাওয়া কাচ্চাথিভু দ্বীপের বিষয়টি হাজির করেছেন। তার সরকারের দাবি, তৎকালীন ভারত সরকার ইচ্ছা করে ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৩ কিলোমিটার দূরের দ্বীপটি শ্রীলঙ্কাকে উপহার দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি মূলত তামিলদের মধ্যে সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদী আবেগ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। 

কাচ্চাথিভু ইস্যুতে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের প্রতি তোপ দাগার পাশাপাশি মোদি তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝাগাম বা ডিএমকের বিরুদ্ধে হিন্দুবিরোধী মনোভাবের অভিযোগ তুলেছেন। গত বছরে সেপ্টেম্বরে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের ছেলে ডিএমকে নেতা উদয়ানিধি স্ট্যালিন হিন্দু তথা সনাতন ধর্মকে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি মূলত হিন্দুধর্মে বর্ণপ্রথার সমালোচনা করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেছিলেন। 

এই অবস্থায় দিল্লিভিত্তিক কিছু জরিপ সংস্থা বলছে, বিজেপি হয়তো সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ভোট বাগাতে পারবে। তবে আসনসংখ্যা খুব বেশি হবে বলে মনে হয় না। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপির জন্য বিষয়টি ‘বলা সহজ, করা কঠিন’- প্রবাদের মতোই। 

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কয়েক দশক ধরেই ব্রাহ্মণ্যবাদবিরোধী মনোভাব প্রবল। জাতীয়তাবাদী যেকোনো ধারণাই দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে দীর্ঘকাল ধরেই সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছে। এই মনোভাবের কারণে, তামিল রাজনৈতিক নেতা রামাস্বামী নাইকার- যিনি পেরিয়ার নামেই বেশি পরিচিত- নিজের দল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, কংগ্রেসের উচ্চপর্যায় ব্রাহ্মণদের নিয়ে গঠিত। 

বিজেপি নেতারা প্রায়ই পেরিয়ারের সমালোচনা করেন। তবে ডিএমকে ও প্রতিদ্বন্দ্বী অল ইন্ডিয়া আন্না ডিএমকে (এআইএডিএমকে) উভয়ই পেরিয়ারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহনের অঙ্গীকার করেছে। ফলে কংগ্রেসই যেখানে ছাড় পায়নি, সেখানে বিজেপি ঘাঁটি গেড়ে বসবে- এমনটা ভাবা অমূলকই। 

তবে কর্ণাটকে বিজেপির অবস্থান তুলনামূলক রমরমাই বলা চলে। বিগত দুই দশকে দক্ষিণ ভারতে বিজেপির জন্য অনেক বেশি উর্বর ভূমি ছিল রাজ্যটি। ২০০৮ থেকে ২০১৩ এবং ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাজ্যটি বিজেপি শাসিত ছিল। এমনকি ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যটির ২৮ আসনের মধ্যে ২৫টিই জিতেছিল বিজেপি। তবে সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরেছে। ফিরেই লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেছে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ‘অন্যায়’ ও ‘বঞ্চনার’ অভিযোগ তুলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কংগ্রেসের এই কৌশল কাজে দেবে। এ বিষয়ে ‘দক্ষিণ বনাম উত্তর: মহাবিভাজন’ বইয়ে লেখক আর এস নীলাকান্তন বলেন, ‘উত্তরের তুলনায় এই দক্ষিণের রাজ্যগুলোর জনগণ গড়ে যে পরিমাণ কর দেয়, সেই তুলনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ থেকে খুব সামান্যই পায়।’

নির্বাচনে বড় ইস্যুগুলো কী?
প্রধানমন্ত্রী মোদি দাবি করতেই পারেন যে, ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কারণে বিশ্বে দেশটির অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় চীনের বিরুদ্ধে ভারতকে তাদের মিত্রদেশ করে রাখতে।

সম্প্রতি মোদি ভারতের ৮০ কোটি গরিবের জন্য একাধিক উদার কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করেছেন। এর মধ্যে বিনামূল্যে শস্য সরবরাহ এবং কম আয়ের পরিবারের নারীদের মাসে ১ হাজার ২৫০ রুপি ভাতা দেওয়ার মতো বিষয় রয়েছে।

এদিকে, কংগ্রেস তাদের ইশতেহারে বলেছে, ভারতে এখন বেকারত্বের হার অনেক। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। ইশতেহারে বাড়তি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীদের ভাতা বৃদ্ধি এবং কলেজ উত্তীর্ণদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ভারতকে স্বৈরাচারের পথ থেকে সরিয়ে আনা হবে এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কংগ্রেস।

সংখ্যালঘুদের অভিযোগ, তারা প্রায়ই বৈষম্য ও হামলার শিকার হন। মোদির শাসনামলে তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আন্তর্জাতিক নাগরিক অধিকার সংস্থা ফ্রিডম হাউজ বলেছে, বিজেপি সরকারের সমালোচনা করা ব্যক্তিদের, বিশেষ করে সাংবাদিকদের হয়রানি করার ঘটনা বাড়ছে। সংস্থাটি ভারতকে ‘আংশিকভাবে স্বাধীন’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করে।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে এনডিএ জোট। আর প্রধানমন্ত্রী হন তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেদ্র মোদি। তবে ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদি দেশ ও বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত হন। জাতিসংঘ, আমেরিকা এবং ইউরোপ নরেন্দ্র মোদিকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এক প্রকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েন মোদি। কিন্তু এই প্রতিকূলতা কাটানোর জন্য মোদি নজর দেন গুজরাটের আর্থ-সমাজিক উন্নয়নের ওপর এবং সেই উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে একধিকবার তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সেই সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অত্যাবশ্যকীয়তা প্রমাণ করেন।

এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের এক বছর আগে অনুষ্ঠিত হয় তিন রাজ্য- রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ে বিধানসভা নির্বাচন। ওই সব রাজ্য বিধানসভায় বিজেপি পরাজিত হয়। কিন্তু তার এক বছর পর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ওই সব রাজ্যে ব্যাপক ব্যবধানে জয় লাভ করে।

তখন রাজনৈতিক বিশ্বেষকরা মনে করেন, মোদির জন্যই লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একচেটিয়াভাবে জয়লাভ করে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবার মোদি বিজেপিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিতে সক্ষম হন।
মোদি এত জনপ্রিয় কেন?

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় মোদি গুজরাটে ব্যাপক বিদেশি বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে সমর্থ হন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে গুজরাটকে শিল্পবাণিজ্যে সমৃদ্ধ করেন। পাশাপাশি গেরুয়া রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সু-সংহত করতে থাকেন। 

২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর মোদি ভারতের রাজনৈতিক কৌশল পাল্টানোর জন্য তার অত্যন্ত আস্থাভাজন অমিত শাহকে গুজরাট থেকে দিল্লি নিয়ে এসে বিজেপির সভাপতি করেন। অমিত শাহের রাজনৈতিক কৌশলের কাছে বিরোধীদলগুলো ধরাশায়ী হতে থাকেন এবং অমিত শাহকে বলা হয় বর্তমান ভারতের রাজনীতির চাণক্য।

বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটি প্রতিটি রাজ্য এবং সরকারে নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতা একচ্ছত্র হতে থাকে। কারণ, পুরো পার্টির নিয়ন্ত্রণ অমিত শাহের হাতে। আর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নরেন্দ্র মোদির হাতে চলে আসে। পাশাপাশি পুরো ভারতে গেরুয়াকরণের জন্য হিন্দুত্ববাদকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং এতে ব্যাপক সফলতা আসে।

জাত-পাত, ধর্মীয় বিভাজনের কঠিন সমীকরণ ডিঙ্গিয়ে ভারতজুড়ে মোদি হিন্দুত্ববাদের একক অপ্রতিরোধ্য নেতাতে পরিণত হন। বাবরি মসজিদের স্থলে রামন্দির নির্মাণ বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডা ছিল। মোদি সেটার বাস্তবায়ন করেছেন এবং রামমন্দির ইস্যুতে সংখ্যালঘুদের আবেদন অগ্রাহ্য করে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের সমর্থন নিজের দিকে নিতে সমর্থ হন।

প্রকান্তরে একসময় ভারতের উচ্চবর্ণের হিন্দুরা ব্যাপক হারে বিজেপিকে ভোট দিত। কিন্তু মোদি উচ্চবর্ণ-নিম্নবর্ণ-দলিত সব সম্প্রদারের বৃহৎ অংশের সমর্থন নিজের দিকে নিতে পেরেছেন। এটাকে মোদির অন্যতম বড় রাজনৈতিক সফলতা বলে বিশ্বাস করেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। 

২০২৩ সালে জি-২০ আয়োজন করে তা সফলভাবে সমাপ্ত করার কারণে মোদির কূটনৈতিক সফলতা পরিলক্ষিত হয়। পাশাপাশি ব্রিকসকে শক্তিশালীকরণ- আমেরিকা, রাশিয়া, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোদির কূটনৈতিক সফলতা এবং রাশিয়া-আমেরিকা ভারসম্যের কূটনীতি মোদি খুব দক্ষতার সঙ্গে সামলান। এতে করে বিশ্বব্যাপী মোদির একটি ভালো কূটনৈতিক ইমেজ তৈরি হয়, যা তাকে ভোটের মাঠে যোজন যোজন এগিয়ে রেখেছে। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি।

লোকসভা নির্বাচন ভোটের লড়াইয়ে তারকারা

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫০ পিএম
ভোটের লড়াইয়ে তারকারা

রাজনীতির সঙ্গে রুপালি জগতের রয়েছে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। অতীত কাল থেকেই চলে আসছে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তারকাদের ওঠাবসা। তারকাদের ‘ফেসভেল্যু’কে পুঁজি করে ক্ষমতার মঞ্চে এগিয়ে যাওয়ার রাজনীতিটা নতুন নয়। তাই তো নেতাদের জন্য প্রচারে নামার পাশাপাশি তারকারা নিজেও এমপি আসন লাভের ইঁদুর-দৌড়ে শামিল হয়েছেন। আর এরই ধারাবাহিকতায় এবার ২০২৪-এ ভারতের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন রুপালি পর্দার একঝাঁক তারকা। 

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) ভারতের ১৮তম লোকসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হচ্ছে। মোট ৭ দফায় দেশটির ৫৪৩টি লোকসভা আসনের জন্য ভোট গ্রহণ চলবে প্রায় দেড় মাসব্যাপী। শেষ দফার ভোট ১ জুন। ভোট গণনা হবে ৪ জুন। আর এই নির্বাচনে জমকালো রূপ নিয়ে এসেছেন বলিউড-টলিউডের বেশ কয়েকজন তারকাশিল্পী। এসব তারকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন- কঙ্গনা রানাওয়াত, হেমা মালিনী, রবি কিষাণ, রচনা ব্যানার্জি, শত্রুঘ্ন সিনহা, শতাব্দী রায়, দেব, লকেট চট্টোপাধ্যায়সহ আরও অনেকে। 

কঙ্গনা রানাওয়াত
এবারের নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম বলিউডের ‘কুইন’খ্যাত কঙ্গনা রানাওয়াত। হিমাচল প্রদেশের মান্ডি আসনে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন তিনি। গেরুয়া শিবিরের হাত ধরেই নির্বাচনি শিবিরে হাতেখড়ি হতে চলেছে কঙ্গনার। 
ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী যে এবার লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী হতে পারেন, সে বিষয়ে বেশকিছু দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে তাকে কথা বলতে দেখা গেছে। গত জানুয়ারি মাসে রাম মন্দির উদ্বোধনের আগে মন্দির পরিষ্কারে তার ঝাড়ু দেওয়ার দৃশ্য নজর কেড়েছিল সবার। চলচ্চিত্র জগতের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী সক্রিয় রাজনীতিতে এই প্রথম পা রাখলেও, তার পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক মহলের যোগাযোগ নতুন নয়। তার প্রপিতামহ সরযু সিং রানাওয়াত হিমাচল প্রদেশের গোপালপুরে কংগ্রেসদলীয় বিধায়ক ছিলেন।

হেমা মালিনী
প্রার্থী হিসেবে এর আগেও বলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’ হেমা মালিনীকে বেছে নিয়েছিল বিজেপি। উত্তরপ্রদেশের মথুরা আসনের জন্য এবারও বিজেপির টিকিটে লড়ছেন হেমা মালিনী। গত কয়েক বছর ধরেই বিজেপির হয়ে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ নিতে দেখা গেছে এ অভিনেত্রীকে। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো তিনি লোকসভার নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। নিজের ক্যারিশমা এবং দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এবারও নির্বাচনে জয় পাবেন বলে আশা হেমা মালিনীর। 

রবি কিষাণ
বিজেপির টিকিটে উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর আসনের জন্য লড়াই করছেন ভোজপুরী ছবির নায়ক রবি কিষাণ। অবশ্য বলিউডেও ভিলেন হিসেবে তাকে একাধিক সিনেমায় দেখেছেন দর্শকরা। ২০১৯ সালের নির্বাচনেও গোরখপুর আসন থেকে জয় পেয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। 

অরুণ গোভিল
এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী তালিকায় তারকাদের মাঝে আরেক চমক হলেন অরুণ গোভিল। ছোট পর্দার এই জনপ্রিয় অভিনেতা উত্তর প্রদেশের মিরাট আসনের জন্য লড়ছেন। ভারতীয় টেলিভিশনে ‘রামায়ণ’-এর ওপর আধারিত ধারাবাহিকে রামচন্দ্রের ভূমিকায় অভিনয় করে বিখ্যাত হওয়া এই তারকা একাধিক হিন্দি ছবিতেও সফলতার সঙ্গে অভিনয় করেছেন। 

শত্রুঘ্ন সিনহা
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে আসানসোল আসনে লড়বেন শত্রুঘ্ন সিনহা। এর আগে ২০২২ সালের উপনির্বাচনে ওই আসনেই তৃণমূলের হয়ে লড়াই করে জয়লাভ করেছিলেন এই বলিউড অভিনেতা। তারও আগে বিজেপির সাংসদ ছিলেন সিনেমায় ‘খামোশ’ বলে ধমক দেওয়া এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। অটল বিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহার বাবা শত্রুঘ্ন সিনহা। 

এ ছাড়াও উত্তর প্রদেশের আজমগড় থেকে লড়ছেন প্রখ্যাত ভোজপুরি অভিনেতা দীনেশ লাল যাদব। কেরালার ত্রিশুর আসনে মালায়লাম অভিনেতা, টিভি প্রেজেন্টার সুরেশ গোপীকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এর আগে ২০২১ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশুর আসনের জন্য লড়ে জয়ের মুখ দেখেছিলেন তিনি। কেরালার কোল্লাম আসনে সিপিআইএম-এর প্রার্থী হয়েছেন দক্ষিণের আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা এম মুকেশ। এই আসনে বিজেপি প্রার্থী করেছে অভিনেতা জি কৃষ্ণকুমারকে। তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর থেকে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় তামিল ও তেলেগু অভিনেত্রী রাধিকা শরৎ কুমার। এই আসনেই নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করতে চলেছেন রাধিকা। 

নর্থ-ইস্ট দিল্লি আসন থেকে এবারও ভোজপুরি অভিনেতা ও গায়ক মনোজ তিওয়ারিকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। ২০১৪ সালে প্রথমবার এই আসনে তিন লাখের বেশি ভোটে জয়লাভ করেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালেও এই আসন নিজের দখলে ধরে রাখেন এই ভোজপুরি সুপারস্টার। মহারাষ্ট্রের অমরাবতী আসনে তেলেগু অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ নবনীত কউর রানাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। ২০১৯ সালে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এর আগে ২০১৪ সালে কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচনে লড়লেও জিততে পারেননি তিনি। গত ২৮ মার্চ বিজেপিতে যোগদান করেন নবনীত। 

বলিউড ছাড়া ভারতের রাজনীতিতে টালিউড অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি তারকাদের পদচারণ সব সময়ই একটু বেশি। সংরক্ষিত আসন ছাড়াও রীতিমতো ভোটে জয়ী হয়েও এমপি হয়েছেন অনেক অভিনয়শিল্পী। আর তাই তো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনি শিবিরে তারকাদের আনাগোনা লেগেই থাকে। প্রার্থী তালিকায় তৃণমূল কংগ্রেস এরই মধ্যে ৪২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে এসেছে জনপ্রিয় ৫ তারকার নাম। 

রচনা ব্যানার্জি
এবার তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজনীতির মঞ্চে চমক নিয়ে হাজির হয়েছেন টলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং বর্তমানে টেলিভিশন চ্যানেলে রিয়েলিটি শো ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ উপস্থাপনা করেন আলোচিত রচনা ব্যানার্জি। বলা হচ্ছে, জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীকে দলের প্রার্থী করে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের মন অর্ধেক জয় করে ফেলেছেন মমতা। হুগলি থেকে এবার প্রথমবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রচনা। 

লকেট চট্টোপাধ্যায়
হুগলিতে অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জির বিপক্ষে প্রার্থী হিসেবে এবার লড়ছেন বিজেপির প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়। ২০১৯ সালের নির্বাচনে এই আসনে জিতে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন অভিনেত্রী লকেট। 

শতাব্দী রায়
বীরভূম থেকে তৃণমূলের টিকিটে এবারের লোকসভা নির্বাচনে লড়ছেন টলিউড জনপ্রিয় অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। ২০০৯ সাল থেকে পরপর তিনবার এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এবারও ওই আসনে তার ওপরেই ভরসা রেখেছে দল। 

দেব
তৃণমূলের টিকিটেই ঘাটাল আসনের জন্য লড়বেন টলিউড তারকা দীপক অধিকারী (দেব)। ২০১৪ সাল থেকে এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন দেব। অন্যদিকে বিজেপির হয়ে একই আসনে লড়ছেন অভিনেত্রী হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার খড়গপুর সদর আসনের বিধায়ক। এবার সেই হিরণকে লোকসভায় টিকিট দিয়েছে গেরুয়া শিবির। 

সায়নী ঘোষ
যাদবপুর আসনের জন্য তৃণমূলের টিকিট লড়ছেন অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। টলিউডের আরেক অভিনেত্রী মিমির জায়গায় টিকিট পেয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় শিল্পী সায়নী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আসানসোল দক্ষিণ আসনে তাকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল, তবে হেরে যান বিজেপির অগ্নিমিত্রা পালের কাছে। তৃণমূলের একাংশ মনে করছে, লড়াই করার ক্ষমতার কারণেই আবার সায়নীর ওপর ভরসা রেখেছে দল।

এ ছাড়া সদ্য পদত্যাগী পুলিশকর্তা প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ছোট পর্দার পরিচিত মুখ। তিনি তৃণমূলের টিকিটে লড়ছেন মালদা উত্তর আসনে। মেদিনীপুর আসনে অভিনেত্রী জুন মালিয়াকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এর আগে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে মেদিনীপুর আসনে তৃণমূলের টিকিটে জয় পেয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। আর রুপালি পর্দার অভিনেতা-অভিনেত্রী ছাড়াও ক্রীড়াঙ্গনের তারকা কীর্তি আজাদ বর্ধমানের দুর্গাপুর আসনে এবং বহররমপুর আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান।