ঢাকা ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪

লোকসভা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের প্রতিপক্ষ বিজেপিই

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:২৪ পিএম
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের প্রতিপক্ষ বিজেপিই

পশ্চিমবঙ্গে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে জোর ধাক্কা দিয়েছিল বিজেপি। রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস পায় ২২ আসন। সর্বভারতীয় দল কংগ্রেস দুটিতে জিতলেও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি- মার্কসবাদী (সিপিএম) কোনো আসনই পায়নি। 

এরপর কেটে গেছে পাঁচটি বছর। বিজেপি লোকসভায় ভালো করলেও সেই ধারা বজায় রাখতে পারেনি বিধানসভা নির্বাচনে। আশাপ্রদ ফল হয়নি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ২১৫টি আসন জিতে আবার সরকার গঠন করে। মমতার দল ২০১৬ সালের চেয়েও ভালো ফল করে। সে বছর তৃণমূল পেয়েছিল ২১১ আসন। তবে ২০১৪ সালের লোকসভার চেয়ে ২০১৯ সালে তৃণমূল ১২ আসন কম পায়। ২০১৪ সালে ৪২টি আসনের মধ্যে মমতার দল পেয়েছিল ৩৪টি। এবারের লোকসভা নির্বাচনে দেখার বিষয় তৃণমূল তার আসনগুলো পুনরুদ্ধার করতে পারে কি না।

হালে সিপিএমে একাধিক ইস্যুতে তরুণ ব্রিগেডকে নিয়ে আন্দোলন জোরদার করতে সক্ষম হলেও তৃণমূলের এই মুহূর্তে প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপিই হয়ে উঠেছে, তেমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 

পূর্বাভাস কী বলছে?
বিবিসির সঙ্গে কথোপকথনে নির্বাচন বিশ্লেষক প্রশান্ত কিশোর বলেছেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ভালো ফল করতে পারে, অন্যদিকে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন যে তৃণমূল কংগ্রেস ৩০-৩৫টি আসন পাবে।

বিবিসি জানায়, বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য দলের টার্গেট ৩৫ বলে জানালেও সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেসের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মইদুল ইসলাম মনে করেন না যে বিজেপি তার অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে।

‘ইন্ডিয়া’ জোট থেকে বেরিয়ে এসে ৪২টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তৃণমূলের কাছে চ্যালেঞ্জ হলো- সমালোচকদের এটা প্রমাণ করে দেখানো যে তারা একাই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আটকাতে পারে। যদি দলটি তা করতে পারে, তাহলে দেশের বিরোধী নেতাদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্যাদা বাড়বে। তবে তা যদি না করতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস, তাহলে নেতাদের দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা যেমন তৈরি হবে, তেমনই পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। 

মনে করা হয়, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে বিজেপির ভালো ফলের অন্যতম কারণ ছিল তৃণমূলবিরোধী ভোট তাদের পক্ষে যাওয়ার ঘটনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মইদুল ইসলামের মতে, ২০১৯ সালে বামদের প্রচুর ভোট বিজেপির দিকে গিয়েছিল এবং এর একটি বড় কারণ ছিল ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অনিয়মের অভিযোগ, যাতে মানুষ খুব ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আরেকটি কারণ ছিল রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি বাম এবং কংগ্রেস। তাই মানুষের সামনে বিকল্প ছিল সীমিত, সে জন্যই বিজেপিকে তারা বেছে নিয়েছিল।

তার মতে, বাম দলগুলোর ভোট এখন আবার তাদের দিকেই ফিরছে, তাই বিজেপি তাদের আসন বাড়াতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না। প্রবীণ সাংবাদিক শিখা মুখার্জী বিবিসিকে বলেন, কেউ ভাবেনি যে এত সংখ্যায় বামদের ভোট বিজেপির পক্ষে চলে যাবে।

বামদের কী অবস্থা?
সিপিএম দলের রাজ্য সম্পাদক মোহম্মদ সেলিম বলছিলেন, তাদের কাছ থেকে দূরে চলে গিয়েছিলেন যে ভোটাররা, গত দুই বছরে তাদের একটি অংশ ফিরে এসেছেন। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর যে কয়েকটি উপনির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর কথা উল্লেখ করছিলেন, যেখানে বামদের ভোট বেড়েছে।

সম্প্রতি বাম সংগঠন ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া আয়োজিত ‘ইনসাফ যাত্রা’ এবং কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে বড় সমাবেশ করাকে বামপন্থিদের জনসমর্থন ফিরিয়ে আনার একটা প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। 

কিন্তু সাংবাদিক শিখা মুখার্জী মনে করেন না যে লোকসভা ভোটে বামদের ভোট ফিরে আসবে। তিনি বলছিলেন সমাবেশের জমায়েতের সঙ্গে ভোটকে মেলানো ঠিক হবে না।

অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক প্রশান্ত কিশোরের যুক্তি, ক্ষমতার প্রতিটি স্তরে অর্থাৎ পঞ্চায়েত, বিধানসভা ও লোকসভায় তৃণমূলের আধিপত্যও দলের মাথাব্যথার একটা কারণ হয়ে উঠতে পারে। 
বিজেপি সমর্থকরা অবশ্য আশা করেন, সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ, বেকারত্ব বা সিএএর মতো ইস্যুগুলো থেকে তাদের দল ফায়দা তুলতে পারবে, আর তার মাধ্যমেই আসনও বাড়বে তাদের। আবার সিএএ বা ৩৭০ ধারা অপসারণ বা রাম মন্দির নির্মাণ নিয়েও তারা তাদের ভোটারদের বলতে পারবেন যে তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো পালন করেছেন।

বিজেপির কাছে চ্যালেঞ্জ
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সামনে চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উঠলে বারবার শোনা যায় যে এ রাজ্যে দিদির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো শক্তিশালী সংগঠন নেই, বড় জননেতা নেই বিজেপির। আর যারা আছেন, তাদের অনেকে আবার তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আসা নেতা। অনেকেই বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশালী মাঠপর্যায়ের সংগঠনের মোকাবিলা করা বিজেপির পক্ষে সহজ নয়।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখপাত্র শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অধিকারী ২০২০ সালে তৃণমূলের একাধিক নেতার সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেন। এবার তার ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিং এবং তাপস রায়ও বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

মইদুল ইসলাম বলছিলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কোনো জননেতা বা বড় নেতা নেই। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা রাজনৈতিকভাবে সচেতন। তারা ব্যক্তিগত আক্রমণ পছন্দ করেন না।’

তার যুক্তি, ‘শুভেন্দু অধিকারী যখন তৃণমূল ছাড়েন, তখন তার পক্ষের জনসমর্থন পুরোপুরি বিজেপির দিকে যায়নি। এর একটি কারণ, সাধারণ মানুষ সহায়তা পাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের ওপর নির্ভর করে থাকে। তারা মনে করেন, নতুন কেউ এলে তাদের সঙ্গে আবার নতুন করে বোঝাপড়া করতে হবে।’

বিজেপির কাছে আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো, রাজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলমান ভোটারের একটি বড় অংশ তাদের থেকে অনেক দূরে থাকেন। এটি বলা ভুল হবে না যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন চালু হওয়ার পর ওই দূরত্ব কমেনি, বরং বেড়েছে।

ইন্ডিয়া জোটের কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূল আলাদা লড়ছে, কিন্তু একই সঙ্গে তারা এটিও বলছে যে তাদের লক্ষ্য বিজেপিকে পরাস্ত করা এবং তারা লোকসভা নির্বাচনের পর জোট নিয়ে কথা বলতে পারে। তবে তার প্রয়োজন হবে কি না, তা জানা যাবে ৪ জুন, যেদিন লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে। সূত্র: বিবিসি

ভারতে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:০৪ পিএম
ভারতে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বুধবার (২৯ মে) ৫২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা দিল্লির তো বটেই, গোটা ভারতের ইতিহাসেই সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবর বলছে, দুপুর আড়াইটা নাগাদ দিল্লির মুঙ্গেশপুরে ওই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। দেশটিতে গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী।

ক্রমশ বাড়তে থাকা এ তাপমাত্রার কারণ ব্যাখ্যায় ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের আঞ্চলিক প্রধান কুলদিপ শ্রিভাস্তা বলেছেন, শহরের উপকণ্ঠের এলাকাগুলো রাজস্থান থেকে আসা গরম বাতাসে তপ্ত হয়ে উঠেছে। দিল্লির কিছু অংশ বিশেষভাবে ওই উষ্ণ বাতাসের কারণে আরও গরম হয়ে উঠছে এবং আগে থেকেই প্রতিকূল আবহাওয়া আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এ ধরনের গরম বাতাসের প্রভাব যেসব এলাকায় প্রথম দেখা যাচ্ছে, সেগুলো হলো মুঙ্গেশপুর, নারেলা ও নাজাফগড়।

তাপমাত্রা যা প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সেটির চেয়ে ৯ ডিগ্রি বেশি রেকর্ড হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে এনডিটিভি। বুধবার স্বল্প সময়ের জন্য দিল্লিতে বৃষ্টি হয়। এ কারণেও আর্দ্রতার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। 

দিল্লির জন্য এরই মধ্যে রেড অ্যালার্ট হেলথ নোটিশ জারি করেছে আইএমডি। ওই অঞ্চলে তিন কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। তারা বর্তমানে গরমসংক্রান্ত রোগ ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।

ভারতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি নতুন কিছু নয়। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ এখন সেখানে আরও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে এবং সেগুলো দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি

পাকিস্তানে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৭

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৪:০৩ পিএম
পাকিস্তানে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৭
দুর্ঘটনা কবলিত বাস। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি চলন্ত বাস গভীর খাদে পড়ে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও অনেকে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

বুধবার (২৯ মে) ভোরে তুরবাত শহর থেকে কোয়েটার দিকে যাওয়ার সময় বেলুচিস্তান প্রদেশের বাসিমা শহরে বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে।

স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ইসমাইল মেনগাল বলেন, ‘চালক একটি পাহাড়ি এলাকায় মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। আমরা এখনও ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছি। হতে পারে চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বা গাড়িটি দ্রুত গতিতে ছিল। যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

সিভিল হাসপাতাল বাসিমার প্রধান চিকিৎসক নূর উল্লাহ বলেন, তিন নারী ও দুই শিশুসহ ২৭ জনের লাশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এক বিবৃতিতে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার জন্য গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সূত্র: এএফপি 

ইসরাত চৈতী/অমিয়/ 

রিমালের তাণ্ডবে মিজোরামে খনিধস নিহত ১৫, আটকা ৭

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:১২ এএম
রিমালের তাণ্ডবে মিজোরামে খনিধস নিহত ১৫, আটকা ৭
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য মিজোরামে এক পাথরখনি ধসে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সেখানে আটকা পড়েছেন ৭ জন। ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে দেখা দেওয়া তীব্র বৃষ্টি থেকেই ওই ঘটনা ঘটেছে। 

গতকাল মঙ্গলবার কর্মকর্তারা জানান, উত্তর-পূর্ব মিজোরামের রাজধানী আইজলের উপকণ্ঠে খনিধসের ঘটনাটি ঘটে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেখানে আটকে পড়া ৭ জনকে উদ্ধারের কাজ ব্যাহত হয়েছে। 

এ ছাড়া ভূমিধসে রাজ্যটির বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা সীমান্ত এলাকায় আরও ৭ জন নিহত হয়েছেন। গাছ পড়ে পার্শ্ববর্তী আসাম রাজ্যে আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে অবিরাম বর্ষণের ফলে খনিটি ধসে পড়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টির তাণ্ডবে পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশের কিছু অংশে প্রায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। সূত্র: রয়টার্স

ইসরায়েলকে ‘সতর্ক’ হতে বলল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:০৬ এএম
ইসরায়েলকে ‘সতর্ক’ হতে বলল যুক্তরাষ্ট্র

রাফায় ইসরায়েলি হামলায় ৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে বেসামরিকদের রক্ষায় সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র বলেছেন, ইসরায়েলের হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার অধিকার রয়েছে। আমরা বুঝতে পারছি যে এই হামলায় দুজন জ্যেষ্ঠ হামাস সদস্য নিহত হয়েছেন, যারা ইসরায়েলি বেসামরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে আমরা আগে থেকেই স্পষ্টভাবে বলছি যে ইসরায়েলের অবশ্যই বেসামরিকদের রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে। 

ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে নিজ দলের ভেতরেই চাপের মুখে পড়েছেন বাইডেন। মূলত সমর্থন কমানোর জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করছেন নেতা-কর্মীরা। 

গত সোমবার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতা আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ইসরায়েলের ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের উচিত নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও সামরিক সহায়তা স্থগিত করা। 

ডেমোক্রেট দলের আরেক আইনপ্রণেতা আয়ান্না প্রেসলে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘রাফা থেকে গত রাতে ভয়াবহ ও মর্মান্তিক কিছু ছবি এসেছে? ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এই নিধনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আর কতদিন সমর্থন দেবে?’ 

ডেমোক্রেট দলের প্রতিনিধি রাশিদা তালিব ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘গণহত্যামূলক উন্মাদ’ বলে অভিহিত করেন। নেতানিয়াহু গত সোমবার বলেন, তারা বেসামরিকদের ক্ষয়ক্ষতিতে কোনো ভূমিকা রাখতে চাননি। কিন্তু ‘মর্মান্তিক ভুল’ হয়ে গেছে।  

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‘সক্রিয়ভাবে’ ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ও স্থলভাগে থাকা অন্যদের সঙ্গে জড়াচ্ছে। 

ডেমোক্রেট ভোটারদের অর্ধেকই বাইডেন যেভাবে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে অসন্তুষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি জানান এবং ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে বলেন।  

এদিকে, ইসরায়েলি হামলার নিন্দার মধ্যেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, আমরা লক্ষ্য অর্জনের আগে যুদ্ধ শেষ করতে চাই না। ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ওই মন্তব্য করেন তিনি।

গত রবিবারের পরও গাজার দক্ষিণের শহর রাফায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। নতুন করে আরও অন্তত ১৬ জন মারা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।  

ইসরায়েলি হামলার মুখে রাফা ছাড়ছেন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। এক সময় ইসরায়েলি বাহিনী স্থানটিকে নিরাপদ বলে ঘোষণা করলেও এখন আর এটি কোনোদিক থেকেই নিরাপদ নয়। গতকাল সূর্য ওঠার পরপরই ফিলিস্তিনিদের রাফার তাল আল-সুলতান এলাকা থেকে গাড়ি, ট্রাকে করে এলাকা ছেড়ে উত্তরের দিকে যেতে দেখা যায়। অনেকে যাতায়াতে গাধা ও ঘোড়া ব্যবহার করেন।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক ডেকেছে। রবিবারের রাফা অভিযান নিয়ে বৈঠকে বসবেন তারা। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি  

উ. কোরিয়ার নজরদারি স্যাটেলাইট মাঝ আকাশে বিধ্বস্ত

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:০১ এএম
উ. কোরিয়ার নজরদারি স্যাটেলাইট মাঝ আকাশে বিধ্বস্ত
ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশে নজরদারি স্যাটেলাইট পাঠাতে চেয়েছিল উত্তর কোরিয়া। কিন্তু তাদের সে প্রচেষ্টা সফল হয়নি। মাঝ আকাশে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে স্যাটেলাইট বহনকারী রকেট। গত সোমবার শেষ ভাগে এ বিষয়ে জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।

উত্তর কোরিয়ার এরকম স্যাটেলাইট পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই সে বিষয়টির সমালোচনা করে সিওল ও টোকিও। পরে মাঝ আকাশে বিধ্বস্ত হয় উত্তর কোরিয়ার উৎক্ষেপণ করা স্যাটেলাইটবাহী রকেট। জাপানের সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে এক ভিডিও ফুটেজ দেখিয়েছে। সে ফুটেজে রাতের আকাশে প্রথমে একটি বস্তুকে জ্বলে উঠতে ও পরে তা বিস্ফোরিত হতে দেখা গেছে।

এনএইচকে জানিয়েছে, ফুটেজটি উত্তরপূর্ব চীন থেকে ধারণ করা। উৎক্ষেপণের প্রথম পর্যায়েই স্যাটেলাইটটি বিস্ফোরিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে উত্তর কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যারোস্পেস টেকনোলজির পক্ষ থেকে। 

উত্তর কোরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই মহাকাশে নজরদারি স্যাটেলাইট পাঠাতে চাইছে। বিষয়টি কিম জং উন প্রশাসনের শীর্ষ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। গত নভেম্বরে সফল হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছিল উত্তর কোরিয়া। তবে সেটির আগেও দুবার ব্যর্থ হয়েছিল তারা। সূত্র: গার্ডিয়ান