ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
খবরের কাগজে পদোন্নতি-বাণিজ্যের প্রতিবেদন প্রকাশ: তদন্তে নেমেছে আইন মন্ত্রণালয় মেধাবীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা কী বার্তা দিচ্ছে পারিশ্রমিক না পেয়ে ম্যাচ বয়কট ব্রাদার্সের ক্রিকেটারদের অস্তিত্ব সংকটে হাঁড়িধোয়া নদী উত্তরবঙ্গ শিল্পোন্নত হোক দীনেশচন্দ্র সেন ও লোককাহিনির মঞ্চ-পরিবাহন মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা স্বাধীনতার অবিনাশী ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জীবনযাত্রা হবে আরও ব্যয়বহুল বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ক্ষুধা লাগলে মায়ের চিতায় ছুটে যান ৩ ভাই নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের নেইমারকে ছাড়াই খেলবে ব্রাজিল সুন্দর পুরুষ টিভিতে আজকের খেলা কেমন হবে মুমিনের হজ-পরবর্তী জীবন ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল অর্ধশতাধিক দোকান জীবন একদিন শেষ হয়ে যায়! মুন্সীগঞ্জে বিদেশি বিয়ারসহ গ্রেপ্তার ৩ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩ বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযোগপত্র দাখিল বিষাদ-বেদনার আঙুলে চুমো খাও নির্বাচনের খরা কাটল মাসুদুজ্জামানের শান্তি নিদ্রা লালমনিরহাটের ৩ সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে ৫ লাখ ১২ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ আব্বার সেই ম্লান হাসিটা আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে ডাকবাংলোয় মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু: খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ পানির বোতল
Nagad desktop

সিএনএনের বিশ্লেষণ গাজার যুদ্ধবিরতি যেন তাসের ঘর

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:৩৬ এএম
গাজার যুদ্ধবিরতি যেন তাসের ঘর
গাজার খান ইউনিসে খাবারের অপেক্ষায় থাকা এক ফিলিস্তিনি শিশু। ছবিটি গত শুক্রবারের। ছবি: সংগৃহীত

গাজার যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েল যে অনুমোদন দিয়েছে, তা পাকাপোক্ত কিছু নয়। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভক্তি যেকোনো সময় ওই চুক্তির অবসান ঘটাতে পারে। চুক্তিটি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা-ও নির্ভর করছে এর ওপর।

কাতারে যে যুদ্ধবিরতিতে হামাস ও ইসরায়েল সম্মত হয়েছে, তাতে ৪২ দিনের বিরতির কথা বলা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে হামাসের হাতে থাকা ৩৩ জিম্মি মুক্তি পাবে। তাদের বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হবে শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিকে। গাজার নগর এলাকাগুলো থেকেও এই ৪২ দিনে ধীরে ধীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে সরে আসতে দেখা যাবে। অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে ঢুকবে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সব সহায়তা সামগ্রী।

কিন্তু এটি কোনোভাবেই স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়। ৩৩ জনকে মুক্তি দেওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলের আরও যে ৬৫ জিম্মি রয়ে যাবে, তাদের ভবিষ্যতে কী রয়েছে– তা এখনো ধোঁয়াশা। একই রকমভাবে অস্পষ্ট গাজাবাসীর ভবিষ্যৎও। ওই বিষয়গুলো নিয়ে এখনো আলাপ হওয়া বাকি। বর্তমান চুক্তি অনুসারে যুদ্ধবিরতির ১৬তম দিন থেকে আবারও আলাপে বসবে ইসরায়েল ও হামাস।

আর ওই ধাপটিকেই গুরুতরভাবে প্রভাবিত করবে ইসরায়েলি রাজনীতি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন যে চুক্তিটায় সম্মত হয়েছেন, সেটি কিন্তু আনকোড়া নতুন কিছু নয়। এক বছর আগে এরকমই এক চুক্তির ব্যাপারে নিজের দৃঢ় আপত্তি তুলে ধরেছিলেন তিনি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, আমরা হামাসের কোনো বিভ্রান্তিকর চাহিদার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিইনি। আমি অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে (যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী) বলেছি যে আমরা প্রায় পরিপূর্ণ বিজয়ের কাছে রয়েছি। 

সে সময় নেতানিয়াহু যে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছিলেন, তা ছিল বহু ধাপ সংবলিত। সেটিতেও ধীরে ধীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর গাজা থেকে সরে যাওয়া এবং জিম্মিদের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করা ছিল। দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহু সে সময় যা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, এখন প্রায় সেরকমই এক চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন।

হামাস যদিও আগের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়ে গেছে, তারপরও ইসরায়েল ‘পরিপূর্ণ বিজয়’ পেয়েছে– এমনটা বলা যায় না। চলতি সপ্তাহেই ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ‘আমাদের মূল্যায়ন হলো- হামাস যত সদস্য হারিয়েছে, ঠিক ততজনই নতুন করে আবার অন্তর্ভুক্ত করেছে।’ 

নেতানিয়াহুর মন পরিবর্তন এবং চুক্তিতে সায় দেওয়ার বিষয়টি অবাক করেছে তার সরকারে থাকা কট্টরপন্থি মিত্রদের। গত শুক্রবার নেতানিয়াহু সরকারের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গভির বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পছন্দ করি এবং তিনি যাতে প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারেন, তা আমি নিশ্চিত করব। কিন্তু আমি সরকার থেকে সরে দাঁড়াব। কারণ যে চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছে তা বিধ্বংসী।’ 

বেন গভির এর আগে বলেন, যদি যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি চুক্তি হয়, তাহলে তার জিউয়িশ পাওয়ার পার্টি সরকারি জোট থেকে নিজেদের সরিয়ে নিবে। বেন গভিরের সরে যাওয়া সরকারের পতন ঘটাবে না, এমনকি তিনি পরে ফিরেও আসতে পারেন। তবে সরকারের পতন হয়ে যেতে পারে যদি বেন গভিরের সঙ্গে নেতানিয়াহু সরকারের অর্থমন্ত্রী বেজালে স্মটরিচ যোগ দিয়ে বসেন। স্মটরিটও ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী। তিনিও চান গাজার যুদ্ধবিরতি যাতে স্থায়ী না হয় এবং ইসরায়েল যাতে ৪২ দিনের যুদ্ধবিরতির পর আবার যুদ্ধে ফিরে যায়। 

স্মটরিচ যদি নেতানিয়াহু সরকারকে বিপাকে ফেলেই দেয়, তাহলে তার পরিত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বিরোধী রাজনৈতিক দল ইয়েশ আতিদ পার্টির ইয়ার লাপিদ । নেতানিয়াহুর এ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইতোমধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর বিষয়ে তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে লাপিদের মাধ্যমে সরকার বাঁচলে, নেতানিয়াহুর মাথার ওপর সব সময়ই তিনি ছড়ি ঘুরাবেন। তিনি চাইলেই সরকারের পতন ঘটিয়ে যেকোনো সময়ে নির্বাচনের ডামাডোল শুরু করে দিতে পারবেন। ফলে নেতানিয়াহু এ ধরনের হুমকির মুখে পড়া যেকোনো মূল্যে এড়াতে চাইবেন।

স্মটরিচের সমর্থন পাওয়ার জন্য নেতানিয়াহু কোনো চেষ্টা চালাচ্ছেন কি না, তা এখনো অস্পষ্ট। তবে তিনি যে এ বিষয়ে আগ্রহী, তা অনেকটাই স্পষ্ট। কাতারে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে দুইবার নেতানিয়াহু স্মটরিচের সঙ্গে দেখা করেছেন। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানান, যুদ্ধবিরতির ১৬তম দিনে শুরু হওয়া ‘আলোচনা যদি ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলে, তাহলে যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকবে।’ কিন্তু ইসরায়েল যদি কোনো কিছু না মেনে ৪৩তম দিন থেকে বোমাবর্ষণ শুরু করে, তাহলে যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হয়ে যাবে। 

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বুধবার দুই পক্ষের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ঘোষণা জানানোর পর দিয়েই নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে হামাসের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তোলা হয়। বলা হয়, হামাস যুদ্ধবিরতির কিছু শর্ত মানছে না। এ ছাড়া যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ার পরও গাজায় হামলা চালিয়ে শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়। এসব থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ভেতরে কট্টর ডানদের মধ্যে নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে চাইছেন।

নেতানিয়াহুর এভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পেছনে আরও একটি বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে, তা হলো– যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া। ট্রাম্প বহু আগে থেকেই নিজের একটি ‘যুদ্ধবিরোধী’ ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। ফলে তিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার জন্য আগামীতে চাপ দিতে পারেন। তবে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অনেক কথাই রাখেননি নেতানিয়াহু এবং সেগুলো করে পারও পেয়ে গেছেন। ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও তা-ই হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। সূত্র: সিএনএন

তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঘটে গেল এক বিরাট রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দুই শিবিরে বিভক্ত। দলের বিক্ষুব্ধ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে একটি সম্পূর্ণ আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেছেন। বিধানসভার স্পিকারের কাছ থেকে প্রধান বিরোধী দলের নেতার স্বীকৃতিও আদায় করে নিয়েছেন তিনি। মাত্র তিন দিন আগেই মমতা তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার পর ঋতব্রত স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তার একমাত্র নেত্রী। দল ভাঙার কোনো উদ্দেশ্য তার নেই। তার এই লড়াই মূলত দলের ভেতরে থাকা ‘এক ব্যক্তির’ একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে। তিনি চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন আগের মতোই তাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে পাশে থাকেন।

স্বভাবতই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, কে সেই রহস্যময় ব্যক্তি, যার কারণে আজ তৃণমূল কংগ্রেসে এই নজিরবিহীন ভাঙন ধরল? বাংলার রাজনৈতিক মহল এবং খোদ দলের অন্দরের মানুষ ভালো করেই জানেন, এই ব্যক্তি আর কেউ নন, তিনি হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু কেন দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই একজন মাত্র মানুষের বিরুদ্ধে এভাবে এককাট্টা হলেন? বিষয়টি বুঝতে হলে তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক কাঠামো ও তার বিবর্তনকে খুঁটিয়ে দেখতে হবে। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজের একক পরিশ্রমে বাংলায় বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের দুর্ভেদ্য দুর্গের পতন ঘটান, তার পরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয় রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে। দ্রুত তাকে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়। ২০১৪ সাল থেকে তিনি ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের এমপি এবং বর্তমানে দলের সাধারণ সম্পাদক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো হওয়ার সুবাদে দলে অভিষেকের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দিনে দিনে আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। তাকে অলিখিতভাবে দলের প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখা হতে থাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার বহু পুরোনো ও বিশ্বস্ত সহকর্মীদের চেয়ে অভিষেককে বেশি ভরসা করতে শুরু করেন। এর ফলে দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়েন এবং সংগঠনের রাশ পুরোপুরি অভিষেকের মুঠোয় চলে যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের ভালো ফলের পর অভিষেকের এই দাপট আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। যে দলটিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, রাজপথে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করে গড়ে তুলেছিলেন, তা ভেতর থেকে এভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছিল অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টেরই পাননি।

তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতার মতে, দলের অভিজ্ঞ নেতারা অভিষেকের এই আগ্রাসী এবং করপোরেট ধাঁচের দল চালনা পদ্ধতি একদমই মেনে নিতে পারেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং আবেগের বন্ধন। অন্যদিকে অভিষেক তৃণমূলের চিরাচরিত ‘নিচ থেকে ওপরে’ ওঠার রাজনীতির বদলে ‘ওপর থেকে নিচে’ নিয়ন্ত্রণ চাপানোর নীতি চালু করে। রাজনীতিতে যুক্ত হয় ডেটাচালিত কৌশল এবং ক্ষমতার জবরদস্তিমূলক আধিপত্য। ফলে দল থেকে দিদির সেই পরিচিত মানবিক স্পর্শ হারিয়ে যায়, আর তার জায়গা নেয় শুষ্ক পরিসংখ্যান ও দর-কষাকষির সংস্কৃতি। দলের একজন প্রবীণ নেতা মমতা ও অভিষেকের এই কার্যপদ্ধতির তুলনা করতে গিয়ে চমৎকার একটি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘একজন হলেন রবীন্দ্রসংগীত, আর অন্যজন হলেন ডিজে মিউজিক।’

অভিষেকের এই আধিপত্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল একধরনের দূরত্ব ও অহংকার। কলকাতার রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যায়, সাধারণ কাউন্সিলর থেকে শুরু করে বিধায়কদের পক্ষেও অভিষেকের সঙ্গে দেখা করা ছিল একপ্রকার অসম্ভব। বহু নেতাকে তার বিলাসবহুল বাড়ির বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হতো, এরপর হয়তো বার্তা আসত যে সাক্ষাৎ সম্ভব নয়। অথচ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করা ছিল অনেক সহজ।

আজ যখন বিধানসভা নির্বাচনের এক মাসের মাথায় এসে তৃণমূল কংগ্রেস তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে, তখন দলের ভেতরের সব আঙুল উঠছে একজনের দিকেই—তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহীরা এখনো প্রকাশ্যেই বলছেন যে দিদিই তাদের নেত্রী এবং তারা দিদির নির্দেশেই চলতে চান। কিন্তু একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্য সংস্কৃতি তারা আর কোনোমতেই বরদাশত করবেন না। সূত্র: এনডিটিভি

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন বিদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে দুজন সিরীয় ও দুজন বাংলাদেশি।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)-কে উদ্ধৃত করে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

এনএনএ জানিয়েছে, একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়া জেলার আব্বা ও আল-দুওয়াইর শহরের মধ্যবর্তী ওয়াতা আব্বার আল-মাশাল এলাকায় দুই দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে।

দিল্লির মালব্য নগরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হোটেল মালিক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
দিল্লির মালব্য নগরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হোটেল মালিক
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির মালব্য নগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ জুন) গভীর রাতে হোটেলটির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

দিল্লি পুলিশ জানায়, ওই অগ্নিকাণ্ডের পরেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন লাভকেশ বাজাজ এবং তার স্ত্রী।

বুধবার সকালে আগুন লাগে মালব্য নগরের ঝাঁ চকচকে বেড-অ্যান্ড-ব্রেকফাস্ট হোটেলে। এ ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৮ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২১ জনের।

চিকিৎসার জন্য আসা দেশ-বিদেশের অনেকেই উঠতেন হোটেলটিতে। ধারণা করা হচ্ছে নিচ তলায় থাকা রেস্তোরাঁ থেকে সূত্রপাত আগুনের।

হোটেলটি থেকে প্রায় ৪০ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং দমকলবাহিনী। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে হোটেলটির বিরুদ্ধে। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ঠিক না থাকাসহ অনুমোদন ছাড়া ঘর তৈরি করা।

আমান/

পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ‘ব্যাপক হারে’ বাড়ানোর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ‘ব্যাপক হারে’ বাড়ানোর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার
ছবি: সংগৃহীত

পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ‘ব্যাপক হারে’ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (৩ জুন) একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন গিয়ে তিনি পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর এই ঘোষণা দেন।

কিম জং উন দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়া অস্ত্র তৈরির উপযোগী পারমাণবিক উপাদানের উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে। এই নতুন প্ল্যান্টটি দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কিম এই পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন।

মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে প্রায় ৯০টি ওয়ারহেড তৈরির মতো পারমাণবিক উপাদান রয়েছে এবং তারা ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি ওয়ারহেড তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও (আইএইএ) সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ায় একাধিক পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের সক্রিয়তার কথা নিশ্চিত করেছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে কিমকে উন্নত প্রযুক্তির গ্যাস সেন্ট্রিফিউজের সারির মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলভিত্তিক থিংক ট্যাংক 'কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশন'-এর সিনিয়র গবেষক হং মিন জানান, এই পরিদর্শনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তারা এখন আর গবেষণা পর্যায়ে নেই, বরং সরাসরি ‘গণহারে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন’ শুরু করেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে এমন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।

অন্যদিকে, 'নিউক্লিয়ার ওয়েপনস ব্যান মনিটর'-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। সুত্র: সিএনএন

আজহার/

ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ায় বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কতৃপক্ষ।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৌদ আবদুল আজিজ আল-আতওয়ান এ হামলাকে ‘অপরাধমূলক ইরানি আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

তিনি বলেন, ড্রোন হামলায় ভবনটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আল-আতওয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আহতদের সংখ্যা উল্লেখ করেননি। তবে তিনি জানান, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমান চলাচল স্থগিত করেছে ও আগত ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে। কারণ টার্মিনাল ওয়ান ইরানি হামলার শিকার হয়ে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশ কুয়েত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ হিসেবে পরিচিত। 

দেশটি জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর থেকেই তারা ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

তেহরান অভিযোগ করে বলেছে, কুয়েত তাদের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা চালাতে সহায়তা করছে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/